kalerkantho


দিনাজপুরের রামসাগর জাতীয় উদ্যান

‘মুমূর্ষু’ ৪৭ চিত্রা হরিণের জীবন

► এক বছর ধরে সরকারি খাদ্য বরাদ্দ বন্ধ
► নেই শীতে থাকার স্থায়ী শেড

দিনাজপুর প্রতিনিধি   

১৩ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



‘মুমূর্ষু’ ৪৭ চিত্রা হরিণের জীবন

শীতের কামড় থেকে রক্ষা পাচ্ছে না প্রাণিকুলও। তীব্র শীতে কাহিল দিনাজপুরের রামসাগর জাতীয় উদ্যানের চিড়িয়াখানায় থাকা ৪৭টি চিত্রা হরিণ। এর মধ্যে ১২টিই আবার শাবকের জন্ম দিতে যাচ্ছে। আছে খাদ্যাভাবও। তাই জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা না নিলে হরিণগুলোর মৃত্যু হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ জানায়, রোদ-বৃষ্টিতে হরিণের কোনো সমস্যা হয় না। বৃষ্টির পানিও তাদের কোনো ক্ষতি করতে পারে না। কিন্তু হরিণ শীত সহ্য করতে পারে না। শীতে কাহিল হয়ে পড়ে। এমনকি মৃত্যুও হতে পারে। অন্যদিকে এক বছর ধরে হরিণগুলোর জন্য সরকারি বরাদ্দ আসা বন্ধ আছে। খাদ্য-পুষ্টির অভাবে রোগাক্রান্ত হয়ে পড়েছে হরিণগুলো। তার ওপর শীতে থাকার জন্য স্থায়ী শেড না থাকায় কষ্ট পাচ্ছে।

সম্প্রতি চিড়িয়াখানায় গিয়ে দেখা যায়, খাবারের অভাবে চঞ্চল-দুরন্ত হরিণগুলো অনেকটা ঝিমিয়ে পড়েছে। দর্শনার্থীরা এলেই খাঁচার সামনে এসে অসহায়ের মতো মুখ বাড়িয়ে দেয়। দর্শনার্থীরা বাদাম-কলাসহ সামান্য যা দেয়, তাতে ওদের পেট ভরে না। এখন পুরনো আলুর দাম কম হওয়ায় হরিণগুলোকে আলু খাওয়ানো হচ্ছে।

দিনাজপুর বন বিভাগের কর্মকর্তা ও রামসাগর জাতীয় উদ্যানের তত্ত্বাবধায়ক আব্দুস সালাম তুহিন জানান, উদ্যানের একমাত্র চিড়িয়াখানায় সরকারিভাবে ছয়টি চিত্রা হরিণ আনা হয়। সঠিক পর্যবেক্ষণের ফলে হরিণগুলো দ্রুত বংশ বিস্তার করতে থাকে। বাড়তে বাড়তে এদের সংখ্যা এখন ৪৭টি। এ হরিণগুলোর জন্য সর্বশেষ গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে খাদ্যের বাজেট এসেছিল, যা দিয়ে এক মাসও খাবার সরবরাহ করা যায়নি।

চিড়িয়াখানার পরিচর্যাকারী বাবুল রায় জানান, লতাপাতা আর দর্শনার্থীদের দেওয়া খাবার খেয়ে কোনোভাবে বেঁচে আছে হরিণগুলো। ৪৭টি হরিণের মধ্যে ১২টিই গর্ভবতী। তারাও ঠিকমতো খাবার পাচ্ছে না। তার ওপর তীব্র শীতে হরিণগুলো কাহিল হয়ে পড়েছে। এভাবে চলতে থাকলে হরিণগুলো একসময় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়তে পারে। 

তত্ত্বাবধায়ক তুহিন আরো জানান, শাপলার পাতা চিত্রা হরিণের প্রিয় খাবার। গত বছর বরাদ্দ কম এলেও রামসাগর দিঘিতে শাপলা চাষ করার ফলে হরিণের খাদ্যচাহিদা কিছুটা মেটানো সম্ভব হয়। কিন্তু এক বছর ধরে দিঘিতে মাছ শিকারের কারণে শাপলা চাষ বন্ধ হয়ে যায়। এ কারণে হরিণগুলোর খাদ্য সংকট তীব্রতর হয়েছে। অল্পদিনের মধ্যেই ওদের জন্য খাবারের নতুন বরাদ্দ পাওয়া যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

 

 



মন্তব্য