kalerkantho


নান্দাইলে শ্রমিকদের বেঁধে ৩০০ বস্তা চাল লুট

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, ময়মনসিংহ   

৯ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কের পাশেই অবস্থান নান্দাইলের ‘জয়বাবা লোকনাথ অটো রাইসমিল’। গতকাল সোমবার শেষ রাতে একদল ডাকাত মিলের ব্যবস্থাপক ও নাইটগার্ডসহ সাত-আটজন শ্রমিককে বেঁধে অস্ত্রের মুখে ট্রাকভর্তি করে ৩০০ বস্তা (প্রতি বস্তা ৫০ কেজি) চাল লুট করে নিয়ে গেছে। খবর পেয়ে ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এস এ নেওয়াজ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

গতকাল সকালে সেখানে গেলে মিল মালিক তপন চন্দ্র সাহা জানান, ডাকাতির খবর পেয়ে তিনি ভোরে মিলে আসেন। তিনি বলেন, ‘প্রায় সাত লাখ টাকার চাল লুট হয়েছে।’ এ ব্যাপারে চালকলের চালক (মেশিনম্যান) মো. কাবুল মিয়া বলেন, ‘রাত সাড়ে ৩টার দিকে একটি মেশিনে ত্রুটি দেখা দিলে উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। তখন সহকারী মো. জাবেদ আলীকে নিয়ে মেশিনের ত্রুটি সারানোর চেষ্টা করছিলাম। একপর্যায়ে রাত প্রায় ৪টার দিকে জাবেদ প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে মেশিনঘর থেকে বের হওয়ার জন্য দরজা খুলে দেখে ১৫-১৬ জনের একটি ডাকাত দল রাইস মিলের নিরাপত্তা প্রহরি জসীম উদ্দিনকে মারতে মারতে ঘরের দিকে আসছে। ডাকাতদল তখন তাঁকেও ধরে চড়-থাপ্পড় মারতে থাকে। সেও আর বাইরে যেতে পারেনি। তাঁদের তিনজনকে বেঁধে গুদামের এক কোনায় নিয়ে আটকে রাখে ডাকাতদল। এ সময় বাইরে থেকে আরো একজনকে হাতবাঁধা অবস্থায় এনে তাঁদের সঙ্গে রাখা হয়।’ অন্যদিকে ডাকাতদলের সদস্যরা শ্রমিকদের থাকার ঘরে গিয়ে ছয়জনকে বেঁধে বাইরে থেকে ছিটকিনি লাগিয়ে দেয়। তাঁদের মধ্যে ফরহাদ জানান, তিনি ঘরের ভেতরের একটি ফাঁক দিয়ে দেখতে পান ডাকাতদলটি সশস্ত্র অবস্থায় গুদামের দ্বিতীয় দরজার তালা ভেঙে চালের বস্তা বের করে ট্রাকে তুলছে। জাবেদ নামের এক শ্রমিক বলেন, ‘একটি খামাল (চালের বস্তার রাখার সারি) থেকে ৩০০ বস্তা চাল তুলে ট্রাকটি মহাসড়কে ওঠে কিশোরগঞ্জের দিকে চলে যায়।’

থানার প্রায় এক কিলোমিটারের মধ্যে অবস্থিত এই চালকলে এমন ডাকাতির ঘটনায় এলাকার মানুষ বিস্মিত। সংশ্লিষ্ট এলাকার পৌর কাউন্সিলর মো. হাবিবুল্লাহ অলি বলেন, ‘এক বছর আগেও পাশের ঝালুয়া গ্রামের এক হিন্দু পরিবারের সাতটি গরু নিয়ে গিয়েছিল ডাকাতরা। ওই ঘটনারও কোনো কূল-কিনারা করতে পারেনি পুলিশ। বর্তমানে পুরো এলাকা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।’ নান্দাইল মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মোখলেছুর রহমান বলেন, ‘এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। সাদা পোশাকে পুলিশসহসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার লোক আশপাশের এলাকায় পাঠানো হয়েছে।’ ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এস এ নেওয়াজ বলেন, ‘ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বের করতে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।’ তিনি হাইওয়ে পুলিশের ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে বলেন, ‘তাদের তো উচিত ছিল ঘটনাস্থলে এসে খোঁজখবর নেওয়া।’ তবে এ ব্যাপারে নান্দাইল চৌরাস্তা হাইওয়ে থানার ওসি মামুন রহমান বলেন, ‘ঘটনাটি ঘটেছে পৌরসভা এলাকায়। সেখানে আমাদের কিছু করার নেই।’

 



মন্তব্য