kalerkantho


পদ্মার চরে ইউএনওর অভিযান

যাত্রার নামে অশ্লীল নৃত্য বন্ধ

দোহার

দোহার-নবাবগঞ্জ (ঢাকা) প্রতিনিধি   

৭ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



দোহারের বিচ্ছিন্ন পদ্মার চর নারিশা জোয়ারে যাত্রা ও আনন্দ মেলার নামে অশ্লীল নৃত্য প্রদর্শনের অভিযোগে শুক্রবার রাতে সেখানে অভিযান চালিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)। অভিযোগের প্রমাণ পেয়ে তিনি অশ্লীল নৃত্য বন্ধ করে দেন।

শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে ইউএনও কে এম আল-আমিন দোহার থানা পুলিশ ও নারিশা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সালাহউদ্দিন দরানীকে সঙ্গে নিয়ে পদ্মা নদী পার হয়ে নারিশা জোয়ারের যাত্রামঞ্চে উপস্থিত হন। তখন যাত্রামঞ্চে এক তরুণী অশ্লীল নৃত্য প্রদর্শন করছিল। আর তরুণ-যুককরা ৫০০ ও ৩০০ টাকার টিকিট কেটে তা দেখছিল। ইউএনওর উপস্থিতি টের পেয়ে গাঢাকা দেওয়ার চেষ্টা করেন যাত্রার আয়োজক মেঘুলা ৪ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল কালাম হাওলাদার। পরে তাঁকে ডেকে আনা হয় ঘটনাস্থলে। ইউএনও যাত্রার অনুমতি নিয়ে অশ্লীল নৃত্য প্রদর্শনের বিষয়ে কালাম হাওলাদের কাছে জানতে চাইলে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। ইউএনও কালামকে বলেন, ‘আপনি সামাজিক যাত্রা আয়োজনের অনুমতি নিয়ে অশ্লীল কার্যকলাপ পরিচালনা করে শর্ত ভঙ্গ করেছেন। কাজেই আপনি এখন মাইকে ঘোষণা দিয়ে এ আয়োজন বন্ধ করবেন। না হলে আমি কঠোর ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হব।’ তাত্ক্ষণিক কালাম হাওলাদার মাইকে ঘোষণা দিয়ে যাত্রা ও আনন্দ মেলার আয়োজন বন্ধ ঘোষণা করেন।

এদিকে অভিযানকালে ঢাকা ও বিভিন্ন স্থান থেকে যাত্রায় নাচতে আসা সাত-আটজন তরুণীসহ অনেকেই আতঙ্কে গাঢাকা দেয়।

ইউএনও আল-আমিন বলেন, সুস্থ সংস্কৃতির ধারক ও বাহক যাত্রাপালা। সামাজিক যাত্রা আয়োজনের অঙ্গীকার করে শর্ত সাপেক্ষে ঢাকা জেলা প্রশাসক অফিস থেকে অনুমতি নিয়েছিলেন আবুল কালাম হাওলাদার। তিনি একতা সমিতির ব্যানারে এ আয়োজন করে তা থেকে আদায়কৃত অর্থ নদীভাঙনকবলিত মানুষকে দেওয়ার কথাও আবেদনে লিখেছিলেন। কিন্তু তিনি শর্ত ভেঙে যাত্রায় অশ্লীল নৃত্য প্রদর্শন করিয়েছেন। অভিযানকালে প্রমাণ পেয়ে তা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

অভিযানের সময় ইউএনওর সঙ্গে ছিলেন দোহার থানার ওসি (তদন্ত) ইয়াছিন মোল্লা, দোহার প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি অমিতাভ অপু প্রমুখ।



মন্তব্য