kalerkantho

তারা কাহিনি!

রৌমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি   

৭ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



তারা কাহিনি!

এক গ্রাম, এক নাম, বয়সও প্রায় সমান। কিন্তু বাবার নাম ভিন্ন। এক তারা মিয়া এলাকার চিহ্নিত মাদক কারবারি, আরেক তারা মিয়া করেন কৃষিকাজ। মাদক কারবারি তারার চালাকি আর মিথ্যা তথ্যে কৃষিকাজ করা নির্দোষ তারা একের পর এক মাদক মামলায় হয়রান হচ্ছেন। কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার ঘটনা এটি।

সদর ইউনিয়নের সীমান্তঘেঁষা চরফুলবাড়ি গ্রামে এ দুজনের বাস। এলাকার চিহ্নিত মাদক কারবারি তারার বাবার নাম মৃত মকবুল হোসেন।

নির্দোষ তারার বাবার নাম মৃত আব্দুল মজিদ। তাঁর ঘরে তিন মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে। স্ত্রী রেবেকা খাতুন বলেন, ‘আমার স্বামী কৃষিকাজ করে। কামলাও দেয়। মাদক কী জিনিস তা বলতে পারবে না। মিথ্যা মামলায় পুলিশ বারবার ধইরা নিয়া যায়। ফলে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। আমগর ছেলেমেয়েরা সামাজিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ১০ বছর থিকা হয়রানির শিকার। আমরা এখন আতঙ্কিত, সব সময় ভয়ে থাকি। এ মিথ্যা মামলা খেলার শেষ হবে কোন দিন?’

সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, সব চালাকি এলাকার চিহ্নিত মাদক কারবারি তারা মিয়ার। তিনি যখন মাদকসহ পুলিশের হাতে ধরা পড়েন, তখন নাম তারা বললেও বাবার নাম মককুল হোসেনের বদলে আব্দুল মজিদ বলেন। মামলায় জামিনে বের হয়ে আর হাজিরা দেন না। এদিকে হাজিরা না দেওয়ায় আদালত আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। আদালতের নির্দেশ মতে পুলিশ নির্দোষ তারাকে ধরে নিয়ে যায়। এভাবে রৌমারী ও জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ থানার মাদকের চারটি মামলার মিথ্যা আসামি হয়েছেন তিনি। এলাকাবাসী ও ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যানের প্রমাণপত্র আদালতে উপস্থাপন করলে দুটি মামলায় বেকসুর খালাস পান তিনি। বাকি দুই মামলার পরোয়ানা মাথায় নিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন নির্দোষ এই ব্যক্তি।

নির্দোষের ভাই বদিউজ্জামান বলেন, ‘এই মিথ্যা মামলা নিয়ে বড় বিপদে আছি। মাদক কারবারি কখন, কোথায় মাদকসহ ধরা পড়ে পুলিশের হাতে, তা আমরা কিভাবে বলব? পুলিশের হাতে ধরা পড়ার পর সে তার জন্মদাতা পিতার নাম না বলে মিথ্যা তথ্য দেয়। পুলিশ তার মিথ্যা তথ্যের ভিত্তিতে আদালতে চার্জশিট দেয়। আমার ভাই কখনো মাদক কারবার করেনি এবং করেও না। এটা এলাকার সবাই জানে।’

চরফুল বাড়ি গ্রামের স্কুল শিক্ষক আব্দুল কাউয়ুম ও কৃষক মজনু মিয়া বলেন, ‘আব্দুল মজিদের ছেলে তারা মিয়া মাদক কারবার করে না।’

চরফুল বাড়ি গ্রামের ইউপি সদস্য বাদশা মিয়া জানান, মকবুল হোসেনের ছেলে এলাকার একজন চিহ্নিত মাদক কারবারি। সব ধরনের মাদক বিক্রি করেন। সদর ইউপি চেয়ারম্যান শহীদুল ইসলাম সালু বলেন, ‘এই হয়রানির কথা আমি জানি।’

রৌমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দীপঙ্কর রায় জানান, নির্দোষ তারার পরিবারের অভিযোগ নিয়ে গত মাসের আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় আলোচনা হয়েছে। এ বিষয়ে থানাকে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

রৌমারী থানার পরিদর্শক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘এ বিষয়টি আমরা আগে জানতাম না। আইন-শৃঙ্খলা সভায় অভিযোগ ওঠার পর আমাদের নজরে আসে। তদন্ত করে প্রকৃত অপরাধীর চালাকি বন্ধ করা হবে। নির্দোষ তারা যাতে হয়রানি না হন, সে জন্য আদালতে প্রতিবেদন দেওয়া হবে।’



মন্তব্য