kalerkantho


অপরিকল্পিত সেতু খালে ভাসছে

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, পাবনা   

৬ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



অপরিকল্পিত সেতু খালে ভাসছে

পাবনার বেড়া উপজেলার পাঁচুরিয়া গ্রামে খালের মধ্যে নির্মাণ করা হয়েছে সেতু। এর সঙ্গে সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হয়নি। ফলে কাজে আসছে না সেতুটি। ছবিটি গত বৃহস্পতিবার তোলা। ছবি : কালের কণ্ঠ

পাবনার বেড়া উপজেলার পাঁচুরিয়া গ্রামে খালের মধ্যে কোনো সংযোগ সড়ক ছাড়াই অপরিকল্পিতভাবে নির্মাণ করা হয়েছে একটি সেতু। এলাকাবাসীর কোনো কাজেই আসছে না সেতুটি।

এলাকাবাসী ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে পাঁচুরিয়া গ্রামের প্রধান খালের মধ্যে সেতুটি নির্মাণ করা হয়। পিআইও কার্যালয়ের তত্ত্ব্বাবধানে সেতু নির্মাণে ব্যয় হয় ৩২ লাখ ৫৩ হাজার টাকা। ২০১৬ সালের জুন মাসে সেতুটির নির্মাণকাজ শেষ হয় কোনোরকম সংযোগ সড়ক ছাড়াই। এলাকাবাসী জানায়, যে খালের মধ্যে সেতুটি নির্মিত হয়েছে তার পূর্ব পাড়ে রয়েছে পাঁচুরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও পাঁচুরিয়া গ্রামের বড় অংশ। পশ্চিম পাড়ে রয়েছে পাঁচুরিয়া গ্রামের অন্য অংশসহ এলাকার প্রধান সড়ক। যাতায়াতের জন্য বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ ওই গ্রামের পূর্ব অংশের লোকজনকে খাল ঘুরে যাতায়াত করতে হয়। এতে তাদের ৫০০ মিটারেরও বেশি রাস্তা অতিরিক্ত ঘুরতে হয় বলে সময় বেশি লাগে এবং দুর্ভোগও পোহাতে হয়। অথচ সেতুটি কাজে লাগাতে পারলে তাদের এ দুর্ভোগ অনেকটাই কমে যেত। এই সেতুটি এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের চাওয়া ছিল। সময় বাঁচানো এবং বিড়ম্বনা থেকে রেহাই পেতে তারা খালের ওই স্থানে একটি সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত সেখানে সেতু নির্মিত হলো ঠিকই কিন্তু তা তাদের কোনো উপকারেই আসছে না।

বৃহস্পতিবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, চাকলা-কৈতলা সড়কের পাশে খালের মধ্যে সেতুটি রয়েছে। সেতুর দুই দিকেই খালের পানি থাকায় সেতুতে ওঠার কোনো ব্যবস্থা নেই। ফলে সেতুটি একেবারেই অকেজো পড়ে আছে।

পাঁচুরিয়া গ্রামের মুরব্বি নূর ইসলাম বলেন, ‘এই বিরিজ গ্রামের লোকজনের সঙ্গে তামাশা ছাড়া আর কিছুই না। পানির মধ্যে খামাখাই বিরিজ বানায়া ফালায়া থুইছে।’ পাঁচুরিয়া পূর্বপাড়া গ্রামের মনজুর রহমান বলেন, ‘স্কুলের বাচ্চারা ম্যালা রাস্তা ঘুইর‌্যা স্কুলে যায়। গ্রামের লোকজনকে এর-ওর বাড়ি হয়া যাতায়াত করা লাগে। অথচ বিরিজের সাথে রাস্তা হলি কত মানুষের উপকার হতো।’

স্থানীয় চাকলা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান ফারুক হোসেন বলেন, ‘সংযোগ সড়ক না থাকায় সেতুটি মানুষের কোনো উপকারেই লাগছে না। সংযোগ সড়কের জন্য আমি অনেক জায়গায় আবেদন-নিবেদন করেও কোনো সাড়া পাচ্ছি না।’ সেতু নির্মাণের সঙ্গে জড়িত ঠিকাদার আব্দুর রহমান জানান, সেতুটির দুই পাশের সংযোগ সড়ক নির্মাণের জন্য কমপক্ষে ৯০ হাজার ঘনফুট মাটির প্রয়োজন। অথচ সিডিউলে ধরা হয়েছে মাত্র ১২ হাজার ঘনফুট মাটি। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পিআইওকে বারবার বলা সত্ত্ব্বেও তিনি কোনো ব্যবস্থা নেননি।

বেড়ার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) শামীম এহসান বলেন, ‘সংযোগ সড়কের ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী স্থানটি পরিদর্শন করেছেন।’



মন্তব্য