kalerkantho


পানি নেমেছে অসময়ে

চলনবিলে গমের মৌসুম হারিয়ে চিন্তায় কৃষক

নাটোর প্রতিনিধি   

৬ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



চলনবিলে বর্ষাকালে পানি থাকবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু গত বর্ষায় চলনবিলে অস্বাভাবিক বন্যা দেখা দেয়। আর এই পানি নেমেছে অন্য বছরের চেয়ে দেরিতে। এর মাসুল গুনতে হচ্ছে এ অঞ্চলের গম চাষিদের। কারণ অসময়ে পানি নামায় এবার গমের চাষ হয়েছে কম।

গত নভেম্বর মাস থেকে ৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত গম চাষের ভরা মৌসুম ছিল। মৌসুম শেষ হয়ে গেলেও এখনো কিছু চাষি গমের চাষ করছে। অনেক চাষি পানি থাকায় জমি তৈরি করতে পারেনি। দু-একজন কাদাপানির মধ্যে জমিতে গম বীজ বুনলেও তা তেমন কাজে আসেনি। অন্য চাষিরা জমি শুকানোর আশায় ছিল। তবে সেই আশায় অনেকটা পানি ঢেলে দিয়েছে সাম্প্রতিক সময়ের হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত।

চলনবিল এলাকার কৃষি অফিসগুলোর তথ্য মতে, এ বছর চলনবিল এলাকায় গম চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৯ হাজার ৯১৫ হেক্টর। এ পর্যন্ত চাষ হয়েছে ছয় হাজার ৮৬০ হেক্টর। এর মধ্যে সিংড়া উপজেলায় ৬০০ হেক্টর, তাড়াশে ২২০ হেক্টর, উল্লাপাড়ায় ২৫০ হেক্টর, আত্রাইয়ে ৩১০ হেক্টর, গুরুদাসপুরে ১৮০ হেক্টর, নলডাঙ্গায় এক হাজার ১৫০ হেক্টর, ফরিদপুর উপজেলায় এক হাজার ৩৫০ হেক্টর, ভাঙ্গুড়ায় ৪৮০ হেক্টর ও শাহজাদপুরে ৯৫০ হেক্টর জমিতে গমের চাষ হয়েছে।

সরেজমিন ঘুরে ও বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, সিংড়ার হিয়ালাচর, তাড়াশের মাদিয়াবিনদ সকুনা, আত্রাই মহাদীঘি, সাহেবগঞ্জ, গুরুদাসপুরের খুবজিপুর ও শ্রীপুর, পাবনার ফরিদপুরের চিঠুলিয়া, পারভাঙ্গুড়া মণ্ডতোষসহ চলনবিলের বিভিন্ন এলাকায় গমের চাষ হয়েছে। এদিকে গম চাষের মৌসুম শেষ হওয়ায় চলনবিলে বিকল্প চাষাবাদ নিয়ে ভাবছে কৃষকরা। তবে এ নিয়ে তাদের মধ্যে রয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। বিকল্প হিসেবে ধান, ভুট্টা, বাদাম, মিষ্টি আলু, মসুর, কালাইসহ বিভিন্ন শাক-সবজি চাষাবাদের কথা ভাবছে অনেক কৃষক।

সিংড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেন জানান, চলনবিল মূলত নিচু অঞ্চল। বর্ষার পানি নামতে সময় লাগায় এ বছর গমের চাষ কিছুটা কম হয়েছে।

তাড়াশ কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম জানান, যেহেতু গমের মৌসুম আর নেই, তাই বিকল্প চাষাবাদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে কৃষকদের।



মন্তব্য