kalerkantho


৫ দিন ধরে বন্ধ সার সরবরাহ

শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি   

৬ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



ট্রাকের ভাড়া বৃদ্ধি ও পথে পথে পুলিশের চাঁদাবাজি বন্ধের দাবিতে ট্রাক মালিক ও চালকরা উত্তরাঞ্চলে সার পরিবহন বন্ধ রেখেছে। এ কারণে পাঁচ দিন ধরে পাবনার নগরবাড়ী ও সিরাজগঞ্জ জেলার বাঘাবাড়ী নৌবন্দর থেকে সড়কপথে উত্তরাঞ্চলের ১৬ জেলায় সার সরবরাহ বন্ধ রয়েছে।

গতকাল শুক্রবার সকালে শাহজাদপুর বাঘাবাড়ী নৌবন্দরে পরিবহন ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান মেসার্স নবাব অ্যান্ড কম্পানি, মেসার্স সাউথ ডেল্ট ও পোটন ট্রেডার্সের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মহাসড়ক দিয়ে ট্রাকে অতিরিক্ত লোড নিয়ে পুলিশ যেতে না দেওয়ায় মালিকরা ইচ্ছামতো সার পরিবহন করতে পারছে না। পরিবহন ঠিকাদাররা ট্রাক মালিকদের আগের ভাড়াই দিচ্ছেন।

শুক্রবার সকালে বাঘাবাড়ী নৌবন্দরে গিয়ে দেখা যায়, চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর থেকে জাহাজে করে নদীপথে নিয়ে আসা সার ট্রাক ধর্মঘটের কারণে খোলা আকাশের নিচে স্তূপাকারে রেখে দেওয়া হয়েছে। এখানকার আন্দোলনরত ট্রাক মালিক ও চালকরা জানায়, সার পরিবহন ঠিকাদারদের প্রতিনিধিরা সিন্ডিকেট করে ভাড়া কম দিয়ে আসছে। এত দিন অতিরিক্ত লোড নিয়ে সারের বস্তাবোঝাই মালামাল পরিবহন করে তাদের পুষিয়ে যেত।

ট্রাক মালিকদের দেওয়া তথ্যমতে, আগে ছয় চাকার একটি ট্রাকে ২০ থেকে ২৫ টন সার (৪০০ থেকে ৫০০ বস্তা) এবং ১০ চাকার ট্রাকে ৩৫ থেকে ৩৮ টন (৭০০ থেকে সাড়ে ৭০০ বস্তা) সার নেওয়া যেত। পথে পথে পুলিশকে চাঁদা দিয়েও তারা বস্তাপ্রতি গড়ে ২৪ থেকে ২৫ টাকা পেত। কিন্তু সরকার নতুন আইন করার পর ছয় চাকার একটি ট্রাকে ১০ টন (২০০ বস্তা) ও ১০ চাকার একটি ট্রাকে ২০ টন (৪০০ বস্তা) সারের বেশি পরিবহন করলে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া আগে বস্তাপ্রতি যেখানে ২৪ টাকা ভাড়া দেওয়া হতো, এখন তা কমিয়ে ১৮ থেকে ২০ টাকা দেওয়া হচ্ছে। এ কারণে সার পরিবহন করে তাদের তেলের দাম উঠছে না।

শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেহলী লায়লা বলেন, ‘বাঘাবাড়ী ঘাট ট্রাক মালিক ও শ্রমিকরা সমস্যার কথা জানিয়েছে। তাদের দাবির কথা আমি সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসককে লিখিতভাবে জানিয়েছি। আগামী বোরো মৌসুমে উত্তাঞ্চলের ১৬ জেলায় কৃষকরা যেন সার সংকটে না পড়ে সে ব্যবস্থা নিতে চেষ্টা করছি।’

সিরাজগঞ্জ হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানার পরিদর্শক মো. আব্দুল কাদের জিলানী সড়কপথে চাঁজাবাজির কথা অস্বীকার করে বলেন, ‘সারবাহী ট্রাক ও জ্বালানি তেলবাহী ট্যাংকলরিগুলোর ক্ষেত্রে কখনো পুলিশ হয়রানি করে না।’



মন্তব্য