kalerkantho


যুদ্ধের বড় দুর্ঘটনা

দিনাজপুরে নিহত শতাধিক মুক্তিযোদ্ধা

দিনাজপুর প্রতিনিধি   

৬ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



আজ ৬ জানুয়ারি। ১৯৭২ সালের এই দিনে দিনাজপুরে মাইন বিস্ফোরণে শহীদ হয়েছিলেন শতাধিক মুক্তিযোদ্ধা। স্বাধীন বাংলাদেশে এত বড় দুর্ঘটনা আর কোথাও ঘটেনি।

১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর মুক্তিযোদ্ধারা দিনাজপুর মুক্ত করেন। এরপর বিভিন্ন জায়গায় পাকিস্তানিদের পুঁতে রাখা মাইন, লুকিয়ে রাখা ও ফেলে যাওয়া অস্ত্রশস্ত্র, বোমা এবং গোলাবারুদ উদ্ধারের জন্য মহারাজা গিরিজানাথ উচ্চ বিদ্যালয় ট্রানজিট ক্যাম্প করা হয়। ২০ ডিসেম্বর থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের গোলাবারুদ উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। ভারতের পতিরাম, হামজাপুর, বাঙ্গালবাড়ী, তরঙ্গপুর, বাংলাদেশের নবাবগঞ্জ, ঘোড়াঘাট, ফুলবাড়ী, হাকিমপুর, কোতোয়ালি, ঠাকুরগাঁও, পীরগঞ্জ, রাণীশংকৈল ও হরিপুরের ৬ ও ৭ নম্বর সেক্টরের প্রায় এক হাজার মুক্তিযোদ্ধা এই ট্রানজিট ক্যাম্পে অবস্থান নেন।

মুক্তিযোদ্ধারা জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে ট্রাক বোঝাই করে অস্ত্রশস্ত্র, গ্রেনেড, মর্টারের দুই ও তিন ইঞ্চি সেল, অ্যান্টি ট্যাংক মাইন, অ্যান্টি পারসোনাল মাইনসহ প্রচুর গোলাবারুদ মহারাজা স্কুল ট্রানজিট ক্যাম্পে সতর্কতার সঙ্গে জড়ো করে।

৬ জানুয়ারি বিকেলে ঘোড়াঘাট ও নবাবগঞ্জ থেকে মুক্তিযোদ্ধারা দুই ট্রাক অস্ত্রশস্ত্র, মাইন, বোমা ও গোলাবারুদ উদ্ধার করে মহারাজা স্কুল ক্যাম্পে নিয়ে আসেন। বিকেল আনুমানিক সোয়া ৫টার দিকে দ্বিতীয় ট্রাক থেকে অস্ত্র খালাস হচ্ছিল। এ সময় অস্ত্র-গোলাবারুদ হাতবদলের একপর্যায়ে একজন মুক্তিযোদ্ধার হাত থেকে একটি অ্যান্টি পারসোনাল মাইন মাটিতে পড়ে যায়। ফলে বাংকারে স্তূপীকৃত বিপুল পরিমাণ মাইন ও বোমা বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয়। প্রচণ্ড বিস্ফোরণে বিদ্যালয়ের কক্ষ এবং মসজিদে নামাজ আদায়কারী মুক্তিযোদ্ধারা নিহত হন। বাংকারসংলগ্ন এলাকা ২০-২৫ ফুট গভীর পুকুরে পরিণত হয়।

পরদিন বড়ময়দানে বিপুলসংখ্যক লোকের উপস্থিতিতে ৯৬ জন শহীদ মুক্তিযোদ্ধার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে পূর্ণ সামরিক মর্যাদায় মুক্তিযোদ্ধাদের লাশ দিনাজপুর চেহেলগাজী মাজার প্রাঙ্গণে দাফন করা হয়। পরে ওই স্থানে আরো ৩৯ জনসহ ১৩৫ জনকে সমাহিত করা হয়। এ ছাড়া অনেকের লাশ তাঁদের আত্মীয়স্বজনরা নিয়ে যান এবং অনেকের দেহ একেবারে ছিন্নভিন্ন হয়ে পড়ায় মৃতের সংখ্যা হিসাব করা দুরূহ হয়ে পড়ে। দুর্ঘটনার পরদিন মহারাজা বিদ্যালয় এলাকা থেকে শরীরের হাত-পাসহ প্রায় ৫০ মণের মতো মাংসপিণ্ড উদ্ধার করা হয়।

পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক ও বর্তমান সদস্য আজহারুল আজাদ জুয়েল বলেন, ‘পরিষদের পক্ষ থেকে কর্মসূচি গ্রহণ করা হলেও প্রশাসনিকভাবে এই দিবসটি পালন করার জন্য কোনো উদ্যোগ নেই। আমাদের দাবি, এই দিবসটি যেন প্রশাসনিকভাবে পালিত হয়।’



মন্তব্য