kalerkantho


বানিয়াচংয়ে দু্ই নেতা গ্রেপ্তার

বিক্ষোভ, থানা ঘেরাও পুলিশের গুলি

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি   

৬ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার ৫-৬ নম্বর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে খাজনা নিতে ঘুষ চাওয়ায় ওই অফিসের এমএলএসএস আক্তার মিয়াকে মারধর করেছেন সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ইফতিয়ার আহমেদ রাজীব। এমন অভিযোগে করা মামলায় রাজীব ও উপজেলা যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক বাবুল মিয়াকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এতে বিক্ষুব্ধ যুবলীগ ও ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা থানা ঘেরাও করে ইটপাটকেল ছোড়ে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ১০ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে পুলিশ। পরে ঝাড়ু হাতে বিক্ষোভ মিছিল করে যুবলীগ ও ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা।

গত বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে রাত ৯টার মধ্যে ঘটে এসব ঘটনা।

স্থানীয় সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজীব যুবলীগ নেতা বাবুল মিয়াকে সঙ্গে নিয়ে স্থানীয় ৫-৬ নম্বর ভূমি অফিসে খাজনা পরিশোধ করতে যান। তখন ওই অফিসের এমএলএসএস আলী আখতার তাঁদের কাছে ঘুষ চান। এ নিয়ে বাগিবতণ্ডার একপর্যায়ে আলীকে শার্টের কলার ধরে কিল-ঘুষি মারেন রাজীব। বিকেলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সন্দীপ কুমার সিংহের সুপারিশসহ বাবুল ও রাজীবকে আসামি করে একটি এজাহার বানিয়াচং থানায় জমা দেন আলী। খবর পেয়ে বাবুল ও রাজীব সন্ধ্যারাতে থানায় গেলে পুলিশ তাঁদের গ্রেপ্তার করে। ঘটনা জানাজানি হলে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের শতাধিক নেতাকর্মী থানা ঘেরাও করে ইটপাটকেল ছোড়ে এবং থানার প্রধান ফটকে ধাক্কাধাক্কি করে। অবস্থা বেগতিক দেখে থানায় পাগলা ঘণ্টা বেজে উঠলে পুলিশ ফাঁকা গুলি ছোড়ে। এতে ঘেরাওকারীরা চলে যায়। রাত ৮টায় স্থানীয় বড়বাজারে গ্রেপ্তার নেতাদের মুক্তির দাবিতে ঝাড়ু হাতে বিক্ষোভ মিছিল করে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। তারা পুলিশের বিরুদ্ধে স্লোগান দেয়। মিছিল শেষে বড়বাজার পঞ্চরাস্তার মোড়ে উপজেলা যুবলীগ সভাপতি ও ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. রেখাছ মিয়ার সভাপতিত্বে ও উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি আব্দুল হালিম সোহেলের সঞ্চালনায় পথসভা হয়। এতে বক্তব্য দেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. শাহজাহান মিয়া, যুবলীগ নেতা মনিরুল ইসলাম ও উপজেলা ছাত্রলীগ সম্পাদক এমদাদুল হক শাহীন। বক্তারা অবিলম্বে গ্রেপ্তার নেতাদের মুক্তি দাবি করেন। তাঁরা বলেন, ৫-৬ নম্বর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সহকারী তহশিলদার ও কর্মচারীরা অফিসটিকে ঘুষের আখড়ায় পরিণত করেছেন। এর প্রতিবাদ করায় তাঁদের  নেতাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করা হয়েছে।

বানিয়াচং থানার ওসি মোজাম্মেল হক দুজনকে গ্রেপ্তারের কথা স্বীকার করে বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। হামলাকারীরা থানার লাইট পোস্টসহ আসবাবপত্র ভাঙচুর করেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ১০ রাউন্ড ফাঁকা গুলি নিক্ষেপ করতে হয়েছে।

যুবলীগ নেতা বাবুল মিয়ার দাবি, জমির খাজনা দিতে গেলে অফিস সহায়ক আলী আখতার ঘুষ দাবি করেন। এ নিয়ে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে রাজীবের শার্টের কলার ধরেন আলী।

ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা সাদ আহমেদের দাবি, খাজনা দেওয়ার সময় আলী আখতার রাজীবের কাছে টাকা চাইলে আলীকে বেধড়ক মারধর করেন রাজীব।



মন্তব্য