kalerkantho


নরসিংদীর এনকেএম হাই স্কুল অ্যান্ড হোমস

চমক দেখাল, তাক লাগাল

মনিরুজ্জামান, নরসিংদী   

৫ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



চমক দেখাল, তাক লাগাল

প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী (পিইসি) ও জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) পরীক্ষায় ভালো ফল করায় নরসিংদীর এনকেএম হাই স্কুল অ্যান্ড হোমসের শিক্ষার্থীদের উচ্ছ্বাস। ছবি : কালের কণ্ঠ

প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী (পিইসি) ও জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) পরীক্ষায় চমক দেখিয়েছে নরসিংদীর এনকেএম হাই স্কুল অ্যান্ড হোমস। গত ৩০ ডিসেম্বর ফল ঘোষণা করা হলেও গত বুধবার সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা নেচে-গেয়ে, হেসে-কেঁদে আনন্দ উল্লাসে সাফল্য উদ্যাপন করে।

বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যালয়টি ২০০৮ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে পিইসি ও জেএসসিতে টানা শতভাগ পাসসহ ফলের ভিত্তিতে বোর্ডে স্থান দখল করে নিয়েছে একাধিকবার। এরই ধারাবাহিকতায় ২০১৭ সালের পিইসি পরীক্ষায় ১২৫ শিক্ষার্থী অংশ নিয়ে শতভাগ পাসসহ সবাই জিপিএ ৫ পেয়েছে। এ ছাড়া জেএসসি পরীক্ষায় ২০২ শিক্ষার্থী অংশ নিয়ে শতভাগ পাসসহ ২০০ জন জিপিএ ৫ পেয়েছে। বাকি দুজন পেয়েছে জিপিএ ৪ দশমিক ৮৬। এই দুই শিক্ষার্থীর ফল নিয়ে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের কাছে চ্যালেঞ্জ করেছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

পিইসিতে জিপিএ ৫ পাওয়া তাসিন জোবায়ের তাহমিদ বলেন, ‘শিক্ষকদের সঠিক দিকনির্দেশনা, নিয়মিত ক্লাস, বিশেষ ক্লাস, হোম ভিজিট, টিউটোরিয়াল ও মাসিক পরীক্ষার কারণে এমন ফল হয়েছে।’

জিপিএ ৫ পাওয়া আরেক শিক্ষার্থী ফাহইয়ান জাহান সুকন্যা বলে, ‘আমরা যারা হোস্টেলে থাকি নাই। শিক্ষকরা নিয়মিত আমাদের বাসায় এসে খোঁজখবর নিতেন। প্রতিনিয়ত লেখাপড়ায় ব্যস্ত থাকতে হয়েছে। যার ফলে আজ আমাদের এ সাফল্য।’

জেএসসিতে জিপিএ ৫ পাওয়া সানজিদা খাতুন অর্পা বলে, ‘আজকের এ ফল আমাদের সবাইকে অনুপ্রাণিত করবে সামনে আরো ভালো ফল করতে।’

এনকেএম হাই স্কুল অ্যান্ড হোমসের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও থার্মেক্স গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল কাদির মোল্লা বলেন, ‘নরসিংদীতে মানসম্মত শিক্ষা প্রদানের অঙ্গীকার নিয়ে স্কুলটি প্রতিষ্ঠা করেছিলাম। আজ স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। সার্থক হয়েছে কষ্টার্জিত অর্থের বিনিয়োগ।’

স্কুলের প্রধান শিক্ষক মো. শাহজাহান বলেন, ‘এক ঝাঁক তরুণ মেধাবী শিক্ষক সকাল থেকে শুরু করে মধ্যরাত পর্যন্ত তাঁদের নিরন্তর চেষ্টায় ধারাবাহিক এই সাফল্য। প্রতি ২০ জন শিক্ষার্থীর জন্য একজন দিকনির্দেশক শিক্ষক শুধু লেখাপড়া নয়, তাদের খেলাধুলা, স্বাস্থ্য, বিনোদন থেকে শুরু করে সব ধরনের চাহিদা পূরণে শ্রম দিয়েছে।’

উল্লেখ্য, শহরের ভেলানগরে আবদুল কাদির মোল্লা এবং তাঁর স্ত্রী মিসেস নাসিমা মোল্লার নামে এনকেএম হাই স্কুল অ্যান্ড হোমস প্রতিষ্ঠা করেন। বর্তমানে ৭০ জন শিক্ষক-শিক্ষিকার তত্ত্বাবধানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা দুই হাজার ৭০০।

 



মন্তব্য