kalerkantho


আশুলিয়ায় ২০০০ পরিবারের গ্যাস সংযোগ বিছিন্ন

১১ বাড়িওয়ালাকে জরিমানা

নিজস্ব প্রতিবেদক, সাভার (ঢাকা)   

৪ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



আশুলিয়ায় প্রায় দুই হাজার পরিবারের বাসা-বাড়িতে অবৈধভাবে নেওয়া গ্যাস সংযোগ বিছিন্ন করেছে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ। এ সময় অবৈধ গ্যাস সংযোগ নেওয়ার অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালত ১১ জন বাড়িওয়ালাকে ৬৫ হাজার টাকা জরিমানা করেন। গতকাল বুধবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত নরসিংহপুর এলাকায় সাভার তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কম্পানি লিমিটেডের উদ্যোগে এ অভিযান চালানো হয়।

অভিযানে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ রাসেল হাসান। সাভার তিতাস গ্যাস অফিসের প্রায় ৫০ সদস্যের একটি দল অংশ নেয় অভিযানে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন ছিল।

এলাকাবাসী জানায়, কয়েক মাস আগে নরসিংহপুর ও এর আশপাশের এলাকার কোনো কোনো বাসা-বাড়ির মালিকরা স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্রকে ৩০ থেকে ৫০ হাজার টাকা দিয়ে অবৈধভাবে বাড়িতে গ্যাস সংযোগ নেন। এ কারণে বৈধ সংযোগ নেওয়া গ্রাহকরা প্রয়োজনীয় চাপের (প্রেসারের) গ্যাস পাচ্ছেন না। খবর পেয়ে গতকাল গ্যাস কর্তৃপক্ষ ওই এলাকার অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে। তারা ওই এলাকায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে তিনটি মূল পয়েন্টে মাটির নিচে থাকা গ্যাসের পাইপ তুলে নিয়ে সিলগালা করে দেয়। এ সময় কয়েক শ নিম্নমানের পাইপ উদ্ধার করা হয়। মূল সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে ব্যবহার করা রাইজারগুলোও খুলে নেওয়া হয়। এ সময় অবৈধ গ্যাস ব্যবহারকারীরা নীরবে দাঁড়িয়ে ছিল।

গ্যাস পাইপগুলো অত্যন্ত নিম্নমানের হওয়ায় যেকোনো সময় পাইপ ফেটে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা ছিল বলে জানায় তিতাস কর্তৃপক্ষ।

সাভার তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কম্পানির ব্যবস্থাপক (বিক্রয়) প্রকৌশলী মোহাম্মদ সিদ্দিকুর রহমান জানান, সাভার-আশুলিয়ার সব অবৈধ গ্যাস সংযোগ পর্যায়ক্রমে বিচ্ছিন্ন করা হচ্ছে। এ অভিযান নিয়মিত চলবে। এ ছাড়া রাতে অবৈধ গ্যাস সংযোগ প্রদানকারীদের বিরুদ্ধে সাভার মডেল থানায় মামলা এবং অবৈধ গ্যাস সংযোগ নিয়ে চুলা ব্যবহারকারী বাড়ির মালিকদের আর্থিক জরিমানা করা হচ্ছে।

অভিযানে সাভার তিতাস গ্যাস অফিসের ডেপুটি ম্যানেজার প্রকৌশলী হাদি আব্দুর রহিম, মাহমুদ হাসান, ব্যবস্থাপক আনিসুজ্জামান, ঠিকাদার মনির হোসেনসহ অন্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।



মন্তব্য