kalerkantho


মহাসড়কে পুলিশের লেগুনা ব্যবসা

কাঁচপুর

সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি   

৩ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



লেগুনাপ্রতি ভর্তি ফি ১৫ হাজার টাকা এবং মাসিক চাঁদা ১০ হাজার টাকা। ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা প্রতি মাসে পাঁচ হাজার টাকা।

এই হারে টাকা নেন নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার কাঁচপুর হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শফিক মিয়া ও রমজান হোসেন এবং সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) কুদ্দুস মিয়া। লেগুনা ও অটোরিকশা মালিক ও চালকরা গতকাল মঙ্গলবার বিক্ষোভকালে এ অভিযোগ করেন।

বিক্ষোভকারীরা জানায়, পুলিশের মাসিক চাঁদা দিয়ে মহাসড়কে চলছে ঢাকা মেট্রো-ন ১৪-১৬৮৮, ঢাকা মেট্রো-ছ-১১-৩৪৩৬, ঢাকা মেট্রো-থ-০০-৪৯৩, ঢাকা মেট্রো-ম-১১-৮০৪২, ঢাকা মেট্রো-চ-০২-৪০৫৩, নারায়ণগঞ্জ-ছ-১১-০২৪২, নারায়ণগঞ্জ-ছ-১১-০২৫১, নারায়ণগঞ্জ-ছ-১১-০২৬৫, নারায়ণগঞ্জ-ছ-১১-০১৫৫, নারায়ণগঞ্জ-ছ-১১-০০৬৩, নারায়ণগঞ্জ-ছ-১১-০১৮৫ এবং কনস্টেবল মামুনের নামে একটি নম্বরবিহীন লেগুনা। পুলিশকে চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে মহাসড়ক থেকে লেগুনা আটক করে হাইওয়ে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। অটোরিকশা থেকে ব্যাটারি খুলে নেওয়া হয়।

গতকালের বিক্ষোভে দুই শতাধিক মালিক শ্রমিক অংশ নেয়। এর মধ্যে চালক মাসজিন, রশিদ, মামুন, আশ্বেদ, এমদাদ ও ইব্রাহিম এবং মালিক পারভেজ, মোক্তার হোসেন, আনোয়ার হোসেন ও আক্তার হোসেন জানান, এক দিন গাড়ি না চালালে তাঁদের সংসারে চুলা জ্বলে না। এই দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে কাঁচপুর হাইওয়ে থানার পুলিশ তাঁদের ওপর বিপুল পরিমাণ চাঁদার বোঝা চাপিয়ে দেয়। নতুবা রাস্তায় পেলে ব্যাটারি খুলে রেখে দেয়।

মাসজিন মিয়া ও মামুন হোসেন বলেন, ‘কাঁচপুর হাইওয়ে থানার কিছু দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার কারণে আমরা অসহায় হয়ে পড়েছি।’

মালিক কামাল হোসেন ও মোশারফ মিয়া বলেন, ‘সোনারগাঁ থানার দ্বিতীয় শীর্ষ কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) ফাইজুল হকের মালিকানায় চার-পাঁচটি লেগুনা চললেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয় না।’

এ বিষয়ে কাঁচপুর হাইওয়ে থানার এসআই শফিক মিয়া ও রমজান হোসেন এবং এএসআই কুদ্দুস মিয়া জানান, তাঁরা কোনো চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত নন।

কাঁচপুর হাইওয়ে থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রেজাউল মিয়া বলেন, ‘চাঁদাবাজির সঙ্গে কোনো পুলিশ জড়িত থাকলে তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’


মন্তব্য