kalerkantho


তরুণ আটক

কমলনগরে ধর্ষণ চাপা দিতে মাতবররা তৎপর

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি   

৩ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



কমলনগরে ধর্ষণ চাপা দিতে মাতবররা তৎপর

লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে কিশোরীকে ধর্ষণের ঘটনা ধামাচাপা দিতে স্থানীয় কয়েক মাতবর তৎপরতা চালাচ্ছেন। এর সঙ্গে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্ততা রয়েছে। অভিযুক্তের পরিবারের কাছ থেকে লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন তাঁরা। তবে টাকা নয়, ঘটনার বিচার চায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার।

অভিযুক্ত মো. দিদারকে (২২) গত সোমবার (১ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় পাশের রামগতি উপজেলার মেঘনা নদীর পার থেকে পুলিশ আটক করেছে। দিদার কমলনগর উপজেলার চর ফলকন গ্রামের মফিজুল ইসলামের ছেলে। পেশায় ট্রাক্টর ট্রলিচালক। ক্ষতিগ্রস্ত মেয়েটি নদী ভাঙনের শিকার দরিদ্র পরিবারের সন্তান।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ২৬ ডিসেম্বর মেয়েটি পুলিশ সুপারের (এসপি) কাছে লিখিত অভিযোগ করে। এতে অভিযুক্ত দিদার ও তাকে ছাড়িয়ে নেওয়ায় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সাবেক সদস্যসহ দুজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়।

অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় কয়েকজন মাতবর পকেট ভারী করতে তৎপর হয়ে উঠছেন। তাঁরা অভিযুক্তের পরিবারের কাছ থেকে এক লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। এই টাকার মধ্যে ক্ষতিগ্রস্তকে ৪০ হাজার টাকা নেওয়ার জন্য বিভিন্ন মাধ্যমে বলা হয়েছে। মেয়ের পরিবার তাতে কর্ণপাত করেনি। এতে ভাগবাটোয়ারার মিশন ভেস্তে যাওয়ায় মাতবরদের মধ্যে একাধিকবার হাতাহাতি ঘটেছে।

লিখিত অভিযোগ ও কিশোরীর ভাষ্য মতে, এক বছর আগে মোবাইল রিচার্জের দোকান থেকে কৌশলে দিদার তার মোবাইল ফোন নম্বর সংগ্রহ করে। এরপর থেকে ফোনে তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে চেষ্টা করা হয়। ভালোবাসার কথা বলে অনৈতিক প্রস্তাব দেয়। এতে রাজি না হওয়ায় গত ২০ ডিসেম্বর রাতে ঘর থেকে বের হলে ওত পেতে থাকা দিদার তার মুখ চেপে ধরে। পরে তাকে বাগানে নিয়ে যৌন নির্যাতন করে। চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন এসে দিদারকে আটক করে। পরে ফলকন ইউপির ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য ইব্রাহীম খলিল ও স্থানীয় মো. সিরাজ বিয়ের আশ্বাস দিয়ে তাকে ছাড়িয়ে নেয়।

স্থানীয়ভাবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঘটনাটি রফাদফা করতে সাহেবেরহাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল খায়ের, ফলকন ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. খোকন ও এই ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য ইব্রাহীম খলিলসহ কয়েক মাতাবর উঠেপড়ে তৎপরতা চালিয়েছে।

তবে ইউপি চেয়ারম্যান আবুল খায়ের বলেন, ‘মীমাংসা না হওয়ায় টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে।’ তবে কার কাছে টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে, তা নিশ্চিতভাবে জানানো হয়নি।

মেয়েটি বলে, ‘আমি টাকা না, বিচার চাই। বর্তমানে আমার পরিবারের সদস্যরা আতঙ্কে রয়েছে।’

কমলনগর থানার পরিদর্শক আকুল চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, ‘টাকার বিনিময়ের কথা আমার জানা নেই। তবে অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এক তরুণকে আটক করা হয়েছে। এটি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’



মন্তব্য