kalerkantho


সেনা সদস্যের বিরুদ্ধে স্ত্রীকে মারধরের অভিযোগ

হাতে নির্যাতনের চিহ্ন

ভোলা প্রতিনিধি   

২ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



ভোলায় এক সেনা সদস্যের বিরুদ্ধে স্ত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযুক্ত মো. বিল্লাল হোসেন রাঙামাটিতে কর্মরত। এর আগে একই অভিযোগে রংপুর খোলাহাটি ২১ ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্ট তাঁকে ভর্ত্সনা করেছিল।

গৃহবধূর পরিবার জানায়, প্রায় সাত বছর আগে ভোলা সদর উপজেলার চরছিফলি গ্রামের শাহাজাহান হাওলাদারের মেয়ে আঁখি তারা বেগমের সঙ্গে বিয়ে হয় নবীপুর সাইক্লোন সেন্টার এলাকার আবদুল হাকিমের ছেলে বিল্লাল হোসেনের। বিয়ের পর থেকে স্বামী ও তাঁর মা-বাবা মেয়ের বাবার কাছে টাকা দাবি করে। মেয়ের সুখের জন্য আসবাবপত্রসহ নগদ টাকা দেওয়া হয়। স্বামী দেশের বিভিন্ন জায়গায় থাকার কারণে তাঁর মা-বাবা গৃহবধূর কাছে টাকা চেয়ে নির্যাতন চালাত। স্বামী ছুটিতে বাড়িতে এসে মা-বাবার সঙ্গে নির্যাতনে যোগ দিত।

গৃহবধূর বড় ভাই সাবিরুল জানান, আঁখি রংপুর খোলাহাটি ২১ ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্টের সেনাক্যাম্পে বিল্লালের ঊর্ধ্বতন র্কমকর্তাদের কাছে অভিযোগ দিয়েছিলেন। কর্তৃপক্ষ বিষয়টি আমলে নিয়ে স্বামীকে তিরস্কার করেছিল। একই সঙ্গে স্ত্রীকে রংপুরে সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে আবাসিকে রাখার নির্দেশ দেয়। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের চাপে স্ত্রীকে নিয়ে আবাসিকে ওঠেন। এর কয়েক মাস পর বিল্লালকে রাঙামাটিতে বদলি করা হয়। তিনি স্ত্রীকে না নিয়ে ভোলায় পাঠিয়ে দেন। স্ত্রীকে এ বলে শাসান, ‘তুই স্যারদের কাছে বিচার দিয়ে আমাকে ছোট করেছিস।’ এরপর তাঁকে বিভিন্ন সময় হুমকি দিতে থাকেন। গত ২৬ ডিসেম্বর বিল্লাল ছুটিতে বাড়িতে আসেন। ফের স্ত্রীর কাছে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করেন। প্রতিবাদ করলে তিনি স্ত্রীকে মারধর করেন।

গত শুক্রবার স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে বিল্লাল তাঁর স্ত্রীর মাথায় আঘাত করেন ও তাঁর হাত ব্লেড দিয়ে কেটে দেন। স্ত্রী অচেতন হয়ে পড়েন। এদিকে বোনের কল পেয়ে ভাই ওই বাড়িতে যান। গিয়ে দেখেন বোন অচেতন অবস্থায় পড়ে আছে। তাঁকে রাতে ভোলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। শনিবার দুপুর ১২টায়ও চেতনা না ফেরায় তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর চেষ্টা করা হয়। এতে বাধা দেন স্বামী ও তাঁর সহযোগীরা। পরে পুলিশের সহযোগিতায় তাঁকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

অভিযুক্ত সেনা সদস্য বিল্লাল হোসেন বলেন, ‘সংসার জীবনে টুকটাক ঘটনা ঘটেই থাকে। আমি স্ত্রীকে নির্যাতন করিনি। তার হাত কেটে দিইনি। আমাকে ফাঁসানোর জন্য নিজের হাত নিজেই কেটেছে।’



মন্তব্য