kalerkantho


'লুটপাট ছাড়া কিছুই দিতে পারেননি জাহাঙ্গীর’

চেয়ারম্যানের বক্তব্যে এমপি ক্ষুব্ধ, হামলা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি   

২ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



চেয়ারম্যানের বক্তব্যে এমপি ক্ষুব্ধ, হামলা

পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মতিউর রহমানকে মারধর করে অপহরণ করা হয়েছিল। দেড় ঘণ্টা পর পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে।

মতিউরের দাবি, এই অপহরণের পেছনে স্থানীয় সংসদ সদস্য (এমপি) আ খ ম জাহাঙ্গীর হোসাইন দায়ী। কারণ, গত রবিবার পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা-দশমিনা) আসন নিয়ে কালের কণ্ঠ’র ধারাবাহিক ‘আসছে ভোটের দিনে’ তাঁর একটি বক্তব্য প্রকাশিত হয়েছে। প্রতিবেদনটির শিরোনাম ছিল ‘আওয়ামী লীগের দুর্গে দলীয় দ্বন্দ্ব, বিএনপি মোড় ঘোরাতে চায়’। এই প্রতিবেদনে এমপির বিরুদ্ধে বক্তব্য দিয়েছেন মতিউর, ‘লুটপাট ছাড়া কিছুই দিতে পারেননি জাহাঙ্গীর।’ এই প্রতিবেদন দেখে ক্ষুব্ধ হয়ে রবিবার রাতে তাঁর ওপর হামলা করা হয়।

মতিউর জানান, রাতে তিনি পটুয়াখালী শহর থেকে সড়ক পথে গলাচিপা ফিরছিলেন। রাত ৯টায় শহরসংলগ্ন গলাচিপা হরিদেবপুর খেয়াঘাটে তার ওপর হামলা চালায় ৩০-৩৫ জন সন্ত্রাসী তারা সবাই এমপির অনুসারী। তাঁকে মারধর করে। একপর্যায়ে সন্ত্রাসীরা তাঁকে অস্ত্রের মুখে একটি নৌযানে তুলে শহরে নিয়ে আসে। শহরের অ্যাডভোকেট শামীমের চেম্বারে নিয়ে যায়। তাঁকে প্রায় এক ঘণ্টা ৩০ মিনিট জিম্মি করে রাখে।

এদিকে অপহরণ খবর পেয়ে গলাচিপা থানার পরিদর্শক জাহিদ হোসেনের নেতৃত্বে ১০ জন পুলিশ সদস্য অভিযান চালায়। তারা তাঁকে ওই স্থান থেকে উদ্ধার করে। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে দ্রুত অপহরণকারীরা দৌড়ে পালিয়ে যায়।

এ ঘটনা ছড়িয়ে পড়লে গলাচিপা পৌর মেয়র আহসানুল হক তুহিনের নেতৃত্বে রাতে শহরে বিক্ষোভ মিছিল করে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। তারা ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারসহ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। এ নিয়ে শহরে উত্তেজনা বিরাজ করে।

মতিউর বলেন, ‘হামলা কিংবা অপহরণকারীর মধ্যে শাহরিয়ার কামরুল, আসিফ প্যাদা, মামুন, আরিফ, শাওন, সিয়াম, নিরব ও লিমনকে আমি চিনেছি। বাকি ২০-২৫ জন অপরিচিত। পরিচিতরা সবাই এমপির লোক এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত। আমি কালের কণ্ঠ’র কাছে সত্য কথা বলায় ক্ষুব্ধ হয়ে তাঁর নির্দেশে সন্ত্রাসী বাহিনী আমার ওপর এ ঘটনা ঘটিয়েছে।’

গলাচিপা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হারুন অর রশিদ বলেন, ‘নিজের কর্মদোষে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীসহ জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন এমপি। এ জন্য দিশাহারা হয়ে নোংরা কাজ করছেন। তাঁর নির্দেশে ভাইস চেয়ারম্যানের ওপর হামলা নোংরামির অংশ। এর দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা না নেওয়া হলে এর দায়দায়িত্ব এমপিকে নিতে হবে।’

অভিযুক্ত গলাচিপা উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি শাহরিয়ার কামরুল বলেন, ‘নিয়োগসংক্রান্ত একটি ঝামেলার কারণে জামায়াত-বিএনপির লোকজন তাঁর (মতিউর) ওপর হামলা করেছিল। আমরা তাঁকে রক্ষা করেছি।’

উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি সন্তোষ কুমার দে বলেন, ‘এ হামলার সঙ্গে আমরা জড়িত না। এমপি এবং আমি এলাকায় নেই। তাই জড়িত থাকার প্রশ্নই ওঠে না। আমরা ঘটনার পর হামলার কথা শুনেছি।’

পটুয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি কাশিনাথ দত্ত বলেন, ‘মতিউরের ওপর হামলা সংবাদপত্রের কণ্ঠরোধ করার চেষ্টা। আমি এর তীব্র নিন্দা জানাই এবং বিচার দাবি করছি।’

গলাচিপা থানার পরিদর্শক জাহিদ হোসেন বলেন, ‘মতিউর রহমান থানায় এসেছিলেন, লিখিত অভিযোগ দেননি। লিখিত অভিযোগ দিলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এ বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য গতকাল এমপি আ খ ম জাহাঙ্গীর হোসাইনের মুঠোফোনে কল করলে তিনি রিসিভ করেননি।


মন্তব্য