kalerkantho


‘বৃহত্তম’ ভাসমান সেতু

মণিরামপুরে ৫৬ যুবকের উদ্যোগ, উদ্বোধন আজ

মোহাম্মাদ বাবুল আকতার, মণিরামপুর (যশোর)   

২ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



‘বৃহত্তম’ ভাসমান সেতু

যশোরের মণিরামপুরের ঝাঁপা বাঁওড়ের ওপর যুবকদের উদ্যোগে তৈরি ভাসমান সেতু। ছবি : কালের কণ্ঠ

যশোরের মণিরামপুরে দেশের অন্যতম বড় ও আলোড়ন সৃষ্টিকারী ভাসমান সেতুর উদ্বোধন হচ্ছে আজ মঙ্গলবার। প্রতি নির্বাচনের সময় প্রার্থীরা ওয়াদা করলেও উপজেলার দ্বীপাঞ্চলখ্যাত ঝাঁপা গ্রামের প্রায় ২০ হাজার মানুষের জন্য মেলেনি একটি সেতু। তাই কর্তৃপক্ষের দিকে আর চেয়ে না থেকে দুর্ভোগ অবসানে গ্রামবাসী নিজেরাই ঝাঁপা বাঁওড়ের (জলাশয়, জলমহল) ওপর সেতুটি নির্মাণ করেছে। গ্রামটির কয়েকজন যুবকের চিন্তার ফসল সেতুটি নির্মিত হয়েছে প্লাস্টিকের ড্রাম আর লোহা দিয়ে। এটি গ্রামবাসীর অর্থায়নে নির্মিত দেশের একমাত্র ভাসমান সেতু।

ঝাঁপা গ্রাম উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের সভাপতি মেহেদী হাসান টুটুল জানান, ঝাঁপা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শামসুল হক মন্টুর সভাপতিত্বে সেতুটির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন যশোরের জেলা প্রশাসক মো. আশরাফ উদ্দীন (প্রধান অতিথি), মণিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মাদ ওবায়দুর রহমান, থানার ওসি মো. মোকাররম হোসেন প্রমুখ।

জানা যায়, মণিরামপুর উপজেলার অন্যতম বৃহৎ ঝাঁপা গ্রামের একদিকে কপোতাক্ষ নদ, আর তিন দিকে বিস্তীর্ণ ঝাঁপা বাঁওড়। উপজেলা সদরে যাতায়াতের জন্য প্রায় ১০ কিলোমিটার পথ ঘুরতে হয় ঝাঁপার বাসিন্দাদের। বাঁওড় পারাপারের একমাত্র উপায় নৌকা। যুগ যুগ ধরে ঝাঁপার মানুষের জীবনের বেশির ভাগ সময় কাটে দুর্ভোগে। এ থেকে মুক্তি পেতে বর্তমান প্রজন্ম ঝাঁপা বাঁওড়ের ওপর ভাসমান সেতু তৈরির জন্য ‘ঝাঁপা গ্রাম উন্নয়ন ফাউন্ডেশন’ গঠন করে। পরিকল্পনামতো শুরু হয় কাজ। সংগঠনটির সদস্যদের স্বেচ্ছাশ্রম ও গ্রামবাসীর টাকা দিয়ে এক হাজার ৩০০ ফুট দীর্ঘ ও ৯ ফুট প্রশস্তের সেতুটি নির্মাণ করা হয় সাড়ে তিন মাসে। সেতুটি দিয়ে সহজে ভ্যানগাড়ি, মোটরসাইকেল ও ছোট যানবাহন চলাচল করতে পারবে।

রাজগঞ্জ বাজারের কাছে খেয়াঘাট থেকে সেতুটি নির্মিত হয়েছে। সেতুর নির্মাণকাজ পরিদর্শনে থাকা ঝাঁপা গ্রামের বয়োবৃদ্ধ শওকত আলী জানান, ঝাঁপা গ্রাম বিশাল বাঁওড়বেষ্টিত। কপোতাক্ষ নদ-তীরবর্তী মল্লিকপুর গ্রাম থেকে বাঁওড়টির উৎপত্তি। প্রায় ছয় কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের বাঁওড়টি প্রায় তিন বর্গকিলোমিটারের ঝাঁপা গ্রামকে বেষ্টিত করে ওই গ্রামেরই আরেক প্রান্ত কপোতাক্ষ নদের তীরবর্তী লক্ষ্মীকান্তপুর গ্রামে গিয়ে শেষ হয়েছে। গ্রামবাসী যুগ যুগ ধরে নৌকায় পারাপার হয়ে আসছে।

মেহেদী হাসান টুটুল জানান, গত বছরের ১৯ জানুয়ারি ঝাঁপা গ্রাম উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে সভা হয়। তাতে সাড়া মেলে আশাতীত। পরে সংগঠনের ৫৬ জন সদস্যের অর্থায়নে শুরু হয় সেতুর নির্মাণকাজ। সংগঠনের বাইরে অনেক কৃষক, শ্রমিক এতে যুক্ত হয়। আজিজ নামের এক ব্যক্তি জমি বন্ধক রেখে টাকা দিয়েছেন।

সেতু নির্মাণে ব্যবহৃত হয়েছে ৮৮৯টি বড় আকারের প্লাষ্টিকের ড্রাম। ড্রাম সংযুক্ত রাখতে লোহার অ্যাঙ্গেল ও শিট ব্যবহার করা হয়েছে। ডামের ওপর দেওয়া হয়েছে এক হাজার ৩০০ ফুট দের্ঘ্যের লোহার পাত। ভাসমান সেতু নির্মাণের ধারণা আসে ফাউন্ডেশনের কোষাধ্যক্ষ আরেক উদ্যোক্তা আসাদুজ্জামানের মাথায়। তিনি বলেন, প্লাস্টিক ব্যারেলে নির্মিত ভেলার ওপর ভারী মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলনের দৃশ্য দেখে তিনি এ ধারণা পান। বিষয়টি উপজেলা প্রকৌশলীকে জানালে তিনি সম্মতি দেন। পরে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের অনুমতি নিয়েই সেতুর নির্মাণকাজে হাত দেওয়া হয়।

উপজেলা প্রকৌশলী আবু সুফিয়ান বলেন, তাঁর জানা মতে দেশে এ ধরনের ভাসমান সেতু আর নেই। এটি মানুষ চলাচলের জন্য ভালো।



মন্তব্য