kalerkantho


সোনারগাঁয় অটোরিকশা

মাসে ৩০ লাখ টাকার চাঁদা

আসাদুজ্জমান নূর, সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ)   

১ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



মাসে ৩০ লাখ টাকার চাঁদা

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার মোগরাপাড়া বাসস্ট্যান্ডের দুই পাশে প্রায় দুই হাজার সিএনজি ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা থেকে প্রতিদিন কমপক্ষে এক লাখ টাকা চাঁদা ওঠে। এ হিসাব অনুযায়ী প্রতি মাসে প্রায় ৩০ লাখ টাকার চাঁদা ওঠে।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে মোগরাপাড়া বাসস্ট্যান্ডের পূর্ব ও পশ্চিম পাশে গতকাল রবিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ঘুরে দেখা যায়, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের নির্দেশ উপেক্ষা করে মহাসড়কের ওপর নিষিদ্ধ সিএনজি ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার স্ট্যান্ড বানানো হয়েছে। মনির হোসেন, মাসুম মিয়া, রিপন হোসেন, রবিউল হোসেন, আলিম মিয়া, দরপন মিয়া পুলিশের নাকের ডগায় চাঁদা উত্তোলন করছেন। ফলে মহাসড়কের এ এলাকায় প্রতিদিন যানজটে পড়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকতে হয় যাত্রীদের।

অনুসন্ধান চালিয়ে জানা যায়, মোগরাপাড়া বাসস্ট্যান্ড থেকে বৈদ্যেরবাজার, আনন্দবাজার, বারদী, হোসেনপুর, বটতলা, নবীগঞ্জ, পাঁচআনী, পানাম নগরী, সনমান্দী, গোয়ালদীসহ ২৫টি সড়কে প্রতিদিন দুই হাজার থেকে দুই হাজার দুই শ অটোরিকশা চলাচল করে। এসব পরিবহনের চালকদের কাছ থেকে ৪০ থেকে ৫০ টাকা করে চাঁদা উত্তোলন করা হয়। বাংলাদেশ অটোরিকশা শ্রমিক লীগ (গভর্নমেন্ট রেজিস্ট্রেশন নম্বর বি-২০৪৪) নামে একটি সংগঠনের নামে চাঁদা তোলা হয়। এর প্রধান কার্যালয় : ঠিকানা—২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউ (৪র্থ তলা), ঢাকা-১০০০। সোনারগাঁ উপজেলার শাখা অফিস মোগরাপাড়া চৌরাস্তা ঠিকানা থাকলেও এর অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়নি। তাদের চাঁদা আদায় করা রশিদে উল্লেখ করা হয়েছে শ্রমিক কল্যাণ তহবিলে দুই টাকা, আঞ্চলিক কমিটি পরিচালনা খরচ তিন টাকা, আদায়কারী তিন টাকা ও যানজট নিরসনের কাজে নিয়োজিত শ্রমিকদের বেতন হিসেবে দুই টাকা খরচ। তবে এই সংগঠনের কোনো কার্যক্রম খুঁজে পাওয়া যায়নি।

চালক রিপন মিয়া জানান, সারা দিন গাড়ি চালিয়ে সব খরচসহ (গ্যাস) পকেটে আর কিছুই থাকে না। এর ওপর মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা চাঁদাবাজদের অত্যাচার।

চালক ওসমান মিয়া বলেন, ‘আমাদের চাঁদা দিতে বাধ্য করা হয়। টাকা দিতে না করায় গত ১৫ দিনে ২৬ চালককে পিটিয়ে আহত করে চাঁদাবাজরা।’

চালক স্বপন মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমরা রাস্তায় গাড়ি চালালেই তাদের (চাঁদাবাজদের) চাঁদা দিতে হয়। আমরা চাঁদাবাজদের কাছে একপ্রকার জিম্মি হয়ে পড়েছি।’

সিএনজিচালিত অটোরিকশা মালিক সহিদুল ইসলাম ও আনোয়ার মিয়া বলেন, ‘এমনিতে ব্যবসা খারাপ। এর ওপর চাঁদাবাজ ও পুলিশের অত্যাচার। যার ফলে এ ব্যবসা ছেড়ে দিয়ে অন্য ব্যবসা করার চিন্তা করছি।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত মনির হোসেন, মাসুম মিয়া, রবিউল হোসেন, দরপন মিয়া বলেন, ‘পুলিশ, প্রশাসন ও সংগঠনের নামে চাঁদার টাকা উত্তোলন করা হয়। রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নেতাদেরসহ সব মহলকে ম্যানেজ করেই টাকা উত্তোলন করা হচ্ছে।’

বোরাক পরিবহনের যাত্রী বোরহান মিয়া বলেন, ‘মহাসড়কের একাংশ দখল করে সিএনজি ও অটোরিকশা স্ট্যান্ড গড়ে তোলায় প্রতিদিন এ এলাকায় যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আমাদের বসে থাকতে হয়।’

কাঁচপুর হাইওয়ে থানার পরিদর্শক আব্দুল কাইয়ুম বলেন, ‘খুব শিগগিরই এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

সোনারগাঁর ইউএনও শাহিনুর ইসলাম বলেন, ‘চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ) আসনের সংসদ সদস্য লিয়াকত হোসেন খোকা বলেন, ‘চাঁদাবাজদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নিতে স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’



মন্তব্য