kalerkantho


চরবিজয়ে বৃক্ষরোপণ

কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি   

১ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



চরবিজয়ে বৃক্ষরোপণ

কুয়াকাটাসংলগ্ন গভীর বঙ্গোপসাগরের মাঝে জেগে ওঠা দ্বীপটিতে বিজয়ের মাসে পর্যটকরা পদার্পণ করায় তারাই দ্বীপটি চরবিজয় নামকরণ করে সাইনবোর্ড টাঙিয়ে দেয়। ছবি : কালের কণ্ঠ

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার বঙ্গোপসাগরে জেগে ওঠা দ্বীপ চরবিজয়ে গত বৃহস্পতিবার বৃক্ষরোপণ করেছে প্রশাসন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, গত মঙ্গলবার জেলা প্রশাসক ভূমি কর্মকর্তাদের মাধ্যমে চরটি ১ নম্বর খাস খতিয়ানভুক্ত করার জন্য লাল নিশান এবং একটি সাইনবোর্ড স্থাপন করেন। বিজয় চরে জাতীয় সংগীত গেয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন পটুয়াখালী বিভাগীয় বন কর্মকর্তা অজিত কুমার রুদ্র, কলাপাড়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মোতালেব তালুকদার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তানভীর রহমান, কুয়াকাটা পৌর মেয়র আব্দুল বারেক মোল্লা, মহিপুর রেঞ্জ কমকর্তা মো. হারুন অর রশিদ, মহিপুর ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা মো. সেলিম, পটুয়াখালী চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি মো. মহিউদ্দিন আহমেদ প্রমুখ।

পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক ড. মাছুমুর রহমান বলেন, ‘নতুন দ্বীপের খবর পেয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উচ্ছ্বসিত হয়েছেন। তিনি গত মঙ্গলবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে বসে দ্বীপের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার জন্য আমাকে ম্যানগ্রোভ জাতের বৃক্ষরোপণের নির্দেশনা দিয়েছেন।’

এ নির্দেশনার পর গত বৃহস্পতিবার দ্বীপের আয়তন নির্ধারণ করে বৃক্ষরোপণ করা হয়। এ বিষয়ে মহিপুর ইউনিয়ন ভূমি সহকারী মো. সেলিম জানান, দ্বীপে ৩৬৫ একর জমি রয়েছে। প্রশাসকের নির্দেশে ম্যানগ্রোভ জাতের ৫০টি গোলপাতা গাছের চারা ও ২০০টি বীজ রোপণ করা হয়েছে।

এ বিষয় পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (উদ্যানতত্ত্ব বিভাগের চেয়ারম্যান) অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অত্যন্ত ইতিবাচক। বৃক্ষরোপণ করলে দ্বীপের মাটি বা বালুর ক্ষয়রোধ হবে। পাখপাখালির নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্র হবে। এভাবে দ্বীপটি জীববৈচিত্র্য রক্ষায় অনন্য ভূমিকা পালন করবে।’

এই দ্বীপে প্রথম বসতি গড়ে তোলা কলাপাড়া উপজেলার ধুলাসার ইউনিয়নের নতুনপাড়া গ্রামের জেলে মো. আলমগীর আকন বলেন, ‘গত ১৫ অগ্রহায়ণ আমি ও আমার ছেলে বশির আকন এবং জেলে মাহাতব হাওলাদার এখানে বসতি গড়ি। সমুদ্রে ইলিশ, পোমা, ফাইলশ্যাসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ধরি। সেই মাছ ট্রলারযোগে কুয়াকাটা গিয়ে আড়তে বিক্রি করে আবার ফিরে আসি। আমরা এখানে খাওয়াদাওয়া ও দিনরাত পার করছি। এই চরের বালু খুঁড়লেই মিঠা পানি পাওয়া যায়, তাই কোনো সমস্যা হচ্ছে না।’

ড. মাছুমুর রহমান বলেন, বাংলাদেরশের শেষ সীমানা ছিল কুয়াকাটা, এরপর বঙ্গোপসাগর। কুয়াকাটা থেকে ১৫ কিলোমিটার গভীর বঙ্গোপসাগরে নতুন দ্বীপ দেখতে পেলাম। দ্বীপটির সংরক্ষণ ও নামকরণ বিষয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ে জানান হবে। একে পর্যটক ভ্রমণ উপযোগী করা হবে কি না, সে বিষয়েও নির্দেশ চাওয়া হবে।



মন্তব্য