kalerkantho


চুয়াডাঙ্গা হর্টিকালচার সেন্টার

ভালো কাজের মন্দ আয়োজন

বছরে ৩৭ লাখ টাকা লোকসান

মানিক আকবর, চুয়াডাঙ্গা   

১ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



ভালো কাজের মন্দ আয়োজন

চুয়াডাঙ্গা হর্টিকালচার সেন্টারের সম্মুখভাগ। ছবি : কালের কণ্ঠ

নার্সারি তৈরি করে লোকসানে পড়তে হয়েছে, এমন নজির চুয়াডাঙ্গায় নেই। সেই নজির তৈরি করেছে সরকারি প্রতিষ্ঠান চুয়াডাঙ্গা হর্টিকালচার সেন্টার (উদ্যানকর্ষণ কেন্দ্র)।

কেন্দ্রের কর্মকর্তারা জানান, ৩৭ শতাংশ জমির ওপর এর অবস্থান। ১০টি পদের মধ্যে এখানে কর্মরত ছয় জন। চারটি পদ শূন্য। অনিয়মিত শ্রমিক আছেন তিনজন। চারা ও কলম উৎপাদনের যে লক্ষ্যমাত্রা, তা পূরণ হয় প্রতিবছরই। গত অর্থবছরে কেন্দ্রটি ব্যয় করেছে ৩৯ লাখ ৪৫২ টাকা। আয় করেছে এক লাখ ৯৯ হাজার ৩৫ টাকা। লোকসান ৩৭ লাখ এক হাজার ৪১৭ টাকা। প্রতিষ্ঠানের খরচের মধ্যে আছে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা, নার্সারি পরিচর্যা এবং চারা ও কলমের উৎপাদন ব্যয়। গত অর্থবছরে নার্সারি পরিচর্যা, চারা ও কলম তৈরিতে খরচ হয়েছে ৫৫ হাজার ৪১৬ টাকা। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভেতন-ভাতা দিতে হয়েছে ২৯ লাখ ৯২ হাজার ৩৪৯ টাকা। বাকি টাকা অন্যান্য খরচ হিসাবে দেখানো হয়েছে। এ হিসাব অনুযায়ী, মোটা অঙ্কের টাকা চলে যায় কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ভেতন-ভাতা দিতে গিয়ে। কর্তৃপক্ষ অবশ্য এ লোকসানকে সরকারের ভর্তুকি বলে মনে করে। ২০১৭-১৮ বছরের জন্য ২৬ হাজার ২০০ চারা ও কলম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা আছে। এখানে লিচু, কদবেল, নারিকেল, পেয়ারা, কোরিয়ান জাম, মিষ্টি তেঁতুল, জলপাই, কামরাঙা, লেবু, বাতাবি লেবু প্রভৃতি গাছের চারা পাওয়া যায়। জমি কম হওয়ায় বেশির ভাগ সময় চারার চাহিদা পূরণ করা যায় না।

সামাজিক সংগঠন চুয়াডাঙ্গা জেলা লোকমোর্চা সভাপতি অ্যাডভোকেট আলমগীর হোসেন বেশ কয়েকটি বড় ফলের বাগান তৈরি করেছেন। তিনি জানান, সরকারি কেন্দ্র থেকে তিনি কোনো চারা কেনেননি। এখানে আধুনিক জাতের চারা পাওয়া যায় না। আধুনিক জাতের চারা কেনার জন্য তিনি অন্য জেলায় গিয়েছিলেন।

চুয়াডাঙ্গার ফেরিঘাট রোডের হেলাল হোসেন জোয়ার্দার একজন সফল নার্সারি ব্যবসায়ী। ১৯৮৪ সাল থেকে এ ব্যবসা করেন। আগ্রহীদের নার্সারি তৈরিতে সহযোগিতার জন্য তিনি দেশের বিভিন্ন জেলায় গিয়েছেন। তিনি জানান, সরকারি প্রতিষ্ঠান না হলে চুয়াডাঙ্গার হর্টিকালচার সেন্টারটিকে লাভজনক পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হতো। এখানে জমি আছে ৩৭ শতাংশ। ৩৩ শতাংশ (এক বিঘা) জমি নিয়ে কেউ যদি নার্সারি করে তাহলেও তার বছরে সব খরচ বাদে আয় হবে পাঁচ লাখ টাকা। তিনি বলেন, ‘বাগান করতে আগ্রহীরা ভালো জাত এবং ফলন বেশি হবে, এমন ধরনের চারা নিতে আগ্রহী। এমন চারা তৈরির জন্য সরকারি কেন্দ্রে আধুনিক পদ্ধতির ব্যবস্থা নেই।’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক নার্সারি মালিক বলেন, যে স্থানে কেন্দ্রের অবস্থান, সেখানে পরিধি বাড়ানোর সুযোগ নেই। এ জন্য কর্তৃপক্ষ শহরের বাইরে আলাদাভাবে জমি নিয়ে বৃহৎ আকারে উদ্যানকর্ষণ করতে পারে। সে ক্ষেত্রে একই লোকবলে সরকার লাভের মুখ দেখতে পারে। শুধু পরিকল্পনার অভাবে মোটা অঙ্কের টাকা লোকসান যাচ্ছে।

এসব বিষয়ে কেন্দ্রের তত্ত্বাবধায়ক মো. আব্দুল মান্নান জানান, পাশের জেলা মেহেরপুরের হর্টিকালচার ৩২ একর জমিতে। চাঁপাইনবাবগঞ্জের হর্টিকালচারে জমি আছে ৪৫ একর। এখানে জমি কম। প্রশিক্ষণকক্ষ নেই। গ্রিন হাউসের জায়গা নেই। শেডের চারা ১০ দিন রাখার পর রোদে দিলে ভালো হয়, এ ব্যবস্থাও নেই। কেন্দ্রের পশ্চিম ও দক্ষিণ দিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বড় গাছ থাকায় চারার ওপর ছায়া পড়ে। এতে চারা উৎপাদন ব্যহত হয়। এসব সমস্যার কথা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তিনি বলেন, ‘বাগান তৈরিতে আগ্রহীদের উৎসাহ দেওয়ার জন্য এখান থেকে সরকার নির্ধারিত স্বল্প মূল্যে চারা বিক্রি করা হয়, সেটাই মূল লক্ষ্য। লাভ-লোকসান বড় করে দেখা হয় না।’


মন্তব্য