kalerkantho


শ্রীপুরে ধর্ষণের ফলে অন্তঃসত্ত্বা

মেয়েটি ভূমিষ্ঠ শিশুকে কোলে নিয়ে কাঁদল

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, গাজীপুর   

৮ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



জন্মের পর শিশুটিকে তার মায়ের কোলে দেওয়া হয়। নবজাতককে কোলে নিয়েই কেঁদে ফেলল মেয়েটি।

গাজীপুরের শ্রীপুরে ধর্ষণের কারণে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে কন্যাসন্তান জন্ম দেওয়া সেই মেয়েটির এমনই ছিল প্রথম প্রতিক্রিয়া। তার তত্ত্বাবধানে থাকা চিকিৎসক ডা. হাবীবা সুলতানা এ তথ্য দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, নবজাতকের ওজন আড়াই কেজি। প্রসূতি ও নবজাতক—দুজনই সুস্থ আছে।

জানা গেছে, গত বুধবার রাতে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সন্তান প্রসব করেছে ১২ বছর বয়সের মেয়েটি। খবর পেয়ে রাতেই মিষ্টি কিনে হাসপাতালে ছুটে যান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেহেনা আকতার। তিনি শিশুর মুখ দেখে দুই হাজার টাকা দেন। আজ-কালের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে শিশুটির নাম রাখা হবে বলেও জানান ইউএনও।

গাজীপুরের জেলা প্রশাসক ড. দেওয়ান মুহাম্মদ হুমায়ুন কবির গতকাল বৃহস্পতিবার প্রসূতি ও শিশুর খোঁজখবর নিয়েছেন বলে জানা গেছে।

উল্লেখ্য, মেয়েটির মামা তার এক সহযোগীসহ তুলে নিয়ে তাকে ধর্ষণ করেছিল। হত্যার হুমকি দেওয়ায় ঘটনাটি চেপে রেখেছিল সে। কিন্তু গত সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময় মেয়েটির শরীরে অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার লক্ষণ ধরা পড়ে। এরপর ঘটনা জেনে গত ২১ সেপ্টেম্বর মেয়েটির মা শ্রীপুর থানায় মামলা করেন। সংবাদমাধ্যমে ঘটনাটি প্রকাশিত হওয়ার পর গত ২ অক্টোবর থেকে মেয়েটির আইনি সহায়তা, চিকিৎসা, শিক্ষা ও ভরণ-পোষণের দায়িত্ব নিয়েছে জেলা প্রশাসন।

মেয়েটির স্বজনরা জানায়, আগামী ১৫ জানুয়ারি প্রসবের সম্ভাব্য তারিখ জানিয়েছিলেন চিকিৎসকরা। কিন্তু গত বুধবার দুপুরেই প্রসবব্যথা শুরু হয়। সন্ধ্যায় ব্যথা তীব্র হলে তাঁরা ইউএনওকে বিষয়টি জানান। তিনি তাত্ক্ষণিক মেয়েটিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার জন্য বলেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মঈনুল হক খান জানান, হাসপাতালে আনার প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা পর স্বাভাবিক প্রসব হয় মেয়েটির। একটি কন্যাশিশু জন্ম দিয়েছে সে। তিনি আরো জানান,  মেয়েটির তত্ত্বাবধানে ছিলেন ডা. হাবীবা সুলতানা।

গতকাল দুপুর সোয়া ২টায় হাসপাতালের প্রসূতি পর্যবেক্ষণ ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা গেছে, একটি বিছানায় শুয়ে আছে মেয়েটি। তার পাশেই ঘুমাচ্ছে শিশুটি। কিছুক্ষণ পর পর মেয়েটির দৃষ্টি চলে যাচ্ছিল নবজাতকের ওপর। পাশেই রয়েছেন মেয়েটির মা, দাদি ও ফুফু।

মেয়েটির মা জানান, শিশুটিকে কোলে নিয়ে বারবারই গুমরে কেঁদে উঠছে তাঁর মেয়ে। কিন্তু এক মুহূর্তের জন্যও কাছ ছাড়া করছে না শিশুটিকে।

দাদি জানান, খবর পেয়ে রাত পৌনে ১২টার দিকে মিষ্টি কিনে হাসপাতালে আসেন ইউএনও। নবজাতকের মুখ দেখে দুই হাজার টাকা দেন তিনি। ওই সময় তিনি খাবার, প্রসূতি ও নবজাতকের জন্য নতুন পোশাকও দেন।

প্রসূতি ও নবজাতকের তত্ত্বাবধানে থাকা ডা. হাবীবা সুলতানা জানান, আজ শুক্রবার দুপুরে মা ও শিশু বাড়ি ফিরবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেহেনা আকতার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আজ-কালের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে মেয়েশিশুটির নাম রাখা হবে। যেহেতু এটা বিজয়ের মাস, তাই ‘মুক্তি’ নাম হতে পারে। ’

শ্রীপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. এখলাস উদ্দিন জানান, গত ১৯ নভেম্বর ওই মেয়ের মামা হুমায়ুন কবিরকে (৩০) গ্রেপ্তার করা হয়। তার সহযোগী একই এলাকার নুরু মিয়ার ছেলে আমান উল্লাহকে (২৬) গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।


মন্তব্য