kalerkantho


হিলি দিয়ে আট মাস কয়লা আমদানি বন্ধ

দিনাজপুর প্রতিনিধি   

৮ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে দীর্ঘ আট মাস ধরে ভারত থেকে কয়লা আমদানি বন্ধ রয়েছে। ভারতের উচ্চ আদালত কয়লা রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

তবে সম্প্রতি সেই নিষেধাজ্ঞা চার মাসের জন্য তুলে নেওয়া হলেও শুল্ক জটিলতায় হিলি স্থলবন্দর দিয়ে কয়লা আমদানি করছে না ব্যবসায়ীরা।

এ ছাড়া ভারত থেকে কয়লা না এনে ইন্দোনেশিয়া ও ভিয়েতনাম থেকে আমদানি করায় খরচ পড়ছে বেশি। এর প্রভাব পড়ছে ইটের দামেও। পাশাপাশি অনেক ভাটায় কয়লা না পেয়ে কাঠ পোড়ানো হচ্ছে।

একাধিক সূত্রে জানা গেছে, পরিবেশ আইনে ভারতের উচ্চ আদালতে কয়লা রপ্তানি নিয়ে একটি মামলা চলছে। আট মাস আগে দেশটির আদালত কয়লা রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা দেন। এর পর থেকে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে বন্ধ হয়ে যায় কয়লা আমদানি কার্যক্রম।

আমদানিকারকরা বলছে, দেশে কয়লার অন্যতম প্রধান বাজার ইটভাটাগুলো। ইটভাটায় অক্টোবর থেকে ইট পোড়ানো শুরু হয়।

ইটভাটার চাহিদা মেটাতে বাধ্য হয়ে ইন্দোনেশিয়া ও ভিয়েতনাম থেকে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে কয়লা আমদানি করতে হচ্ছে। এতে আমদানি খরচের পাশাপাশি পরিবহন ব্যয় বাড়ায় টনপ্রতি কয়লার দাম বেড়েছে প্রায় তিন হাজার টাকা। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে ইটের দামেও।

গত বছর এ সময়ে প্রতি হাজার ইট সাত হাজার ৮০০ টাকা থেকে আট হাজার ৪০০ টাকায় বিক্রি হলেও বর্তমানে তা ৯ হাজার থেকে ৯ হাজার ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

দিনাজপুরের এম বি এম ব্রিকসের স্বত্বাধিকারী শমশের আলী বলেন, হিলি স্থলবন্দর দিয়ে কয়লা আমদানি বন্ধ। ফলে ইন্দোনেশিয়া ও ভিয়েতনাম থেকে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে কয়লা আনতে হচ্ছে। অন্যদিকে দিনাজপুরের পার্বতীপুর বড়পুকুরিয়া কয়লাখনিতে কয়লার দাম গত বছরের চেয়ে দ্বিগুণ করা হয়েছে। এ কারণে ইটের দামও বেড়ে যায়। হিলি স্থলবন্দর দিয়ে কয়লা আমদানি শুরু না হলে দাম আরো বাড়বে।

কয়লা আমদানিকারক জালাল উদ্দিন বলেন, ‘প্রতিবছর মৌসুমের শুরুতে আমরা ইটভাটায় কয়লা দিয়ে পুরনো বছরের বকেয়া আদায় করি; কিন্তু এবার মৌসুমের শুরুতে কয়লা দিতে না পারায় বকেয়া আদায়ও সম্ভব হয়নি। কয়লা আমদানির জন্য আমরা ব্যাংকঋণ নিয়ে এলসি খুলি। বর্তমানে সেই ঋণ পরিশোধ আর বকেয়া আদায় নিয়ে শঙ্কায় আছি। ’

দিনাজপুর বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির ওয়েবসাইট থেকে জানা যায়, গত জুনে কয়লার মূল্য ১২ হাজার থেকে বাড়িয়ে ১৫ হাজার ৯২১ টাকা করা হয়। এর পরও চাহিদা অনুযায়ী কয়লা সরবরাহ করা যাচ্ছে না। কারণ আগে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের চাহিদা মিটিয়ে কয়লা ইটভাটা মালিকদের সরবরাহ করা হচ্ছে।

একাধিক ভাটা মালিকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি থেকে প্রতিদিন এক হাজার টন কয়লা সরবরাহ করা হচ্ছে, যা চাহিদার তুলনায় খুবই কম।

সূত্র মতে, গত ২১ নভেম্বর ভারতের আদালত চার মাসের জন্য কয়লা রপ্তানির অনুমতি দিলেও হিলি দিয়ে আমদানি করছে না বাংলাদেশি আমদানিকারকরা। তারা বলছে, সম্প্রতি আমদানীকৃত কয়লার শুল্ক বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া আগে ‘হলিডে ট্যাক্স’ বলে কিছু ছিল না। কিন্তু সম্প্রতি ছুটির দিনে হলিডে ট্যাক্স অন্তর্ভুক্ত করায় আমদানিকারকদের বাড়তি ব্যয় বইতে হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে আমদানিকারকরা হিলি স্থলবন্দর দিয়ে কয়লা আমদানি করছে না। এদিকে ভ্রাম্যমাণ আদালত গত ১৫ দিনে প্রায় ১০টি ইটভাটাকে কাঠ পোড়ানোর দায়ে জরিমানা করেছেন।


মন্তব্য