kalerkantho


ভাঙ্গা উপজেলা আওয়ামী লীগ

দুই নেতার বহিষ্কারে অন্যরা একজোট

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর   

২০ নভেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



দুই নেতার বহিষ্কারে অন্যরা একজোট

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় নিজেদের বহিষ্কারকে চ্যালেঞ্জ করে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করেছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। এ সময় তাঁরা বলেন, জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদকের পক্ষে তাঁদের বহিষ্কার এখতিয়ারবহির্ভূত।

তবে দলের জেলা ও উপজেলাপর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রায় সব নেতার অবস্থানই অনিয়ম-দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়া ওই দুই নেতার বিপক্ষে।

গত ১১ নভেম্বর ভাঙ্গায় যুবলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মাসুদ হোসেন দলীয় শৃঙ্খলাবিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি কাজী হেদায়েতউল্যাহ সাকলাইন ও সাধারণ সম্পাদক ফাইজুর রহমানকে দলীয় পদ থেকে বহিষ্কারের ঘোষণা দেন। পরে ওই কমিটির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি সাইফুর রহমান হাওলাদার মিরনকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এবং ১ নম্বর যুগ্ম সম্পাদক আক্রামুজ্জামান রাজাকে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয়।

এদিকে গত শনিবার ফরিদপুর প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন করে আওয়ামী লীগ নেতা কাজী সাকলাইন ও ফাইজুর রহমান তাঁদের বহিষ্কার জেলা কমিটির এখতিয়ারবহির্ভূত দাবি করে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের দ্রুত এ ব্যাপারে হস্তক্ষেপ কামনা করেন। এ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে তাঁদের বক্তব্য নিয়ে অন্য পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।

ভাঙ্গা উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আক্রামুজ্জামান রাজা বলেন, গত সংসদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর বিরোধিতা, নিয়োগ বাণিজ্য, দুর্নীতি, থানায় দালালি, ভূমি দখলসহ বিভিন্ন অভিযোগে গত ২৫ আগস্ট উপজেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় সভাপতি কাজী সাকলাইন ও ফাইজুর রহমানকে সর্বসম্মতিক্রমে দলীয় পদ থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ওই সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে জেলা কমিটিকে ৩০ আগস্ট চিঠি দেওয়া হয়। জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট সুবল চন্দ্র সাহা ও সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মাসুদ হোসেন ১৫ দিনের সময় দিয়ে কাজী সাকলাইন ও ফাইজুর রহমানকে গত ৭ সেপ্টেম্বর কারণ দর্শানোর নোটিশ দেন; কিন্তু এ সময়ে তাঁরা কোনো জবাব না দেওয়ায় জেলা কমিটি বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে কেন্দ্রে সুপারিশ পাঠায়। গত ৯ নভেম্বর জেলা কমিটির দেওয়া চিঠিতে সাইফুর রহমান হাওলাদার মিরনকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও আক্রামুজ্জামান রাজাকে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয়।

গত ১১ নভেম্বর উপজেলা যুবলীগের সভায় জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তাঁদের বহিষ্কারের ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কোনো নেতাকর্মী বহিষ্কৃতদের সঙ্গে নেই। আমরা আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফরউল্যাহর নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আগামী নির্বাচনে নৌকার বিজয় নিশ্চিত করতে কাজ করছি। ’

ভাঙ্গা উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সাইফুর রহমান মিরন বলেন, দলের তৃণমূল পর্যায়ে নেতাকর্মীরা দুর্নীতিবাজদের আর দলে দেখতে চায় না। তাদের জন্যই দলের বদনাম হয়। তিনি বলেন, ‘আগামী নির্বাচনে ফরিদপুর-৪ আসনটিতে আওয়ামী লীগ প্রার্থীকে বিজয়ী করতে আমরা একযোগে কাজ করছি। ’

ভাঙ্গা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান এনামুল হক অপু জানান, তদন্ত করলেই উপজেলা কমিটির সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের দুর্নীতির সব খবর বেরিয়ে আসবে। দলের নেতাকর্মীরা ত্যক্ত-বিরক্ত হয়েই তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছে। সে অভিযোগের সত্যতা পেয়েই তাঁদের বিরুদ্ধে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে জেলা আওয়ামী লীগ। এ সিদ্ধান্তে দলের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা খুশি হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ত্যাগী নেতাকর্মীরা দলীয় নেতৃত্বে কোনো লুটেরাকে দেখতে চায় না।

এদিকে বহিষ্কারের এখতিয়ার শুধু কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের দাবি করে কাজী সাকলাইন বলেন, ‘আমরা দুর্নীতিবাজ নই। আমাদের নামে মনগড়া ও মিথ্যা অভিযোগ তুলে বিশেষ ব্যক্তিকে খুশি করার চেষ্টা চলছে। আমরা কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে সব জানিয়ে প্রতিকার চেয়েছি। ’

নিজেকে দলের জন্য নিবেদিতপ্রাণ কর্মী দাবি করে ফাইজুর রহমান বলেন, ‘আমাদের প্রতি অন্যায় করা হয়েছে। মিথ্যা অভিযোগ তুলে আমাদের বদনাম দেওয়া হচ্ছে। আর যারা দলে হাইব্রিড আমদানি করল, জামায়াত-বিএনপির নেতাকর্মীদের দলে জায়গা দিল, তারা আজ দলের নেতা সেজেছে। ’ তিনি আরো বলেন, ‘আগামী নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীকে বিজয়ী করতে সব ভেদাভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধ আওয়ামী লীগের বিকল্প নেই। সে জন্য আমরা কেন্দ্রে সব ঘটনা জানিয়ে প্রতিকার চেয়েছি। ’

এ ব্যাপারে ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মাসুদ হোসেন বলেন, ওই দুই নেতার বিরুদ্ধে দলীয় শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ড, নিয়োগ বাণিজ্যসহ বিভিন্ন অভিযোগ পাওয়ার পর জেলা কমিটি তাঁদের কারণ দর্শাও নোটিশ দিয়েছিল; কিন্তু তাঁরা কেউ ওই নোটিশের জবাব দেননি। তিনি বলেন, ‘জবাব না পেয়ে জেলা কমিটি তাঁদের বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নিতে কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে সুপারিশ পাঠিয়েছে। ১১ নভেম্বর ভাঙ্গা উপজেলা যুবলীগের আলোচনাসভায় সিদ্ধান্তটি পড়ে শোনানো হয়। চূড়ান্তভাবে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়ার একমাত্র এখতিয়ার কেন্দ্রীয় কমিটির। আমরা কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছি। ’


মন্তব্য