kalerkantho


মঠবাড়িয়ায় জীর্ণ স্কুলটি ঝুঁকিপূর্ণ

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, পিরোজপুর   

১১ নভেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



মঠবাড়িয়ায় জীর্ণ স্কুলটি ঝুঁকিপূর্ণ

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ার ১৯৯ নম্বর পশ্চিম ভেচকী আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ঝুঁকি নিয়েই চলছে শিক্ষার্থীদের পাঠদান। ছবি : কালের কণ্ঠ

বেড়িবাঁধের ব্যস্ততম সড়কে যানবাহনের তীব্র শব্দের মধ্যেই অপরিসর নড়বড়ে টিনের ঘরে বিদ্যালয়ে চলছে পাঠদান। তা ছাড়া বিদ্যালয়টি বেড়িবাঁধের পাকা ব্যস্ততম সড়ক লাগোয়া হওয়ায় শিক্ষার্থীরা রয়েছে সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকিতে।

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ার ১৯৯ নম্বর পশ্চিম ভেচকী আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জরাজীর্ণ টিনের ঘরে ঝুঁকি নিয়েই কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পাঠদান চলছে। বিদ্যালয়টি শত সংকটের মধ্যে থাকলেও সমাপনী পরীক্ষায় শতভাগ শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়ে আসছে।

বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী সিফা আক্তার বলে, ‘রাস্তার গাড়ি ওল্টাইয়া আমাগো স্কুলের ল্যাট্রিন ভাইঙ্গা গেছে। ওই গাড়ি স্কুলেও পড়তে পারে, তাই ডর লাগে। আমাগো স্কুল ভাঙা স্কুল। টিনের চাল দিয়া বৃষ্টি পড়ে। দুপুর অইলে ক্লাসে গরমে বওন যায় না। ’

পঞ্চম শ্রেণির এক নম্বরধারী ছাত্র অমিত হালদার বলে, ‘আমাগো স্কুলের মতো এত কষ্টের স্কুল আর দেখি নাই। ক্লাসে বওন যায় না।

বৃষ্টির দিনে কষ্ট আবার গরমের দিনেও কষ্ট। বসার বেঞ্চ ভাঙা। রাস্তার পাশে স্কুল, তাই গাড়ির শব্দে আমাগো ডর লাগে। সব স্কুল পাকা হয়, আমাগো স্কুল দেখার কেউ নাই। ’

বিদ্যালয়টি সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, অপরিসর চারটি শ্রেণিকক্ষ আর একটি অফিসকক্ষ রয়েছে। কাঁচা মেঝে, মরচে ধরা টিন আর ঘুণেধরা কাঠ। সেই সঙ্গে স্কুলের পাশেই মঠবাড়িয়া-ডৌয়াতলা বেড়িবাঁধের ব্যস্ততম পাকা সড়ক। বাস, টেম্পো আর মোটরসাইকেলের শব্দ। সম্প্রতি বালুবোঝাই একটি ট্রলি দুর্ঘটনার পর স্কুলের শৌচাগারের ওপর পড়ে। তাতে শৌচাগারটি ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার টিকিকাটা ইউনিয়নের পশ্চিম ভেচকী গ্রামের প্রয়াত সমাজসেবক ফকরুল ইসলাম খান ২০০১ সালে ৩৬ শতাংশ জমি দান করে এ প্রাথমিক বিদ্যালয়টি স্থাপন করেন। তখন তালপাতার ছাউনি দিয়ে স্কুলটি চালু হয়। পরে এলাকাবাসীর সহায়তায় চার কক্ষের একটি ছোট টিনের ঘর নির্মাণ করা হয়। পরবর্তী সময়ে বিদ্যালয়টি রেজিস্ট্রারভুক্ত হয়। জাতীয়করণ হলে বর্তমানে চারজন নারী শিক্ষক ১০৭ জন শিক্ষার্থীকে নিয়মিত পাঠদান করছেন। ২০০৭ সালের প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড় সিডরে স্কুলঘরটি ব্যাপক বিধ্বস্ত হয়। সিডরের পর একটি বেসরকারি সংস্থা ও গ্রামবাসীর অর্থ সহায়তায় স্কুলঘরটি মেরামত করা হয়। কিন্তু বর্তমানে বিদ্যালয়টির একেবারে জীর্ণ দশা।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা সুখী রানী মিস্ত্রী বলেন, আতঙ্ক নিয়ে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করতে হচ্ছে। দুর্ভোগের এ স্কুলে শিশুদের শিক্ষার পরিবেশ বিঘ্নিত হচ্ছে। বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণ অতি জরুরি।

বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি লিয়াকত আলী খান বলেন, কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। কিন্তু কোনো প্রতিকার মিলছে না।

এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মো. ইউনুস আলী হাওলাদার বলেন, বিদ্যালয়টির ব্যস্ত সড়কের পাশ থেকে স্থানান্তর ছাড়াও এর একটি পাকা ভবন প্রয়োজন।


মন্তব্য