kalerkantho


পুলিশের বিরুদ্ধে লুটের অভিযোগ

কেশবপুরে মামলা করায় হুমকি

কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি   

১১ নভেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



যশোরের কেশবপুরে গভীর রাতে অবৈধ অস্ত্র ও মাদক তল্লাশির নামে ঘরে ঢুকে টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে যাওয়ার অভিযোগে পুলিশের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করা হয়েছে। গত সোমবার রাতের ওই ঘটনায় পুলিশের বিরুদ্ধে থানা মামলা না নেওয়ায় শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হতে হয়।

উপজেলার আটন্ডা গ্রামের বজলুর রহমান মোড়লের স্ত্রী আয়েশা বেগম গতকাল শুক্রবার সকালে শহরের মধু সড়কের এফএম ভবনে সংবাদ সম্মেলন করে এ কথা জানান।

লিখিত বক্তব্যে আয়েশা বেগম বলেন, তাঁর তিন ছেলের মধ্যে জাহিদুল ইসলাম ও শহিদুল ইসলাম ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। এ ছাড়া জাহিদুল মাঝেমধ্যে পুরনো মোটরসাইকেল বেচাকেনার কাজও করেন। পুলিশের কথিত সোর্স ফজলুর রহমান প্রায়ই জাহিদুলের কাছে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করত। এ টাকা দিতে অস্বীকার করায় গত ৬ নভেম্বর রাতে ওই সোর্সের কথামতো তার সঙ্গে থানার উপপরিদর্শক মুজাহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে পাঁচ পুলিশ তাঁর বাড়িতে গিয়ে দরজা খুলতে বলে। এ সময় ওই পুলিশ সদস্যরা অবৈধ অস্ত্র ও মাদক তল্লাশির কথা বলে ঘরে ঢুকতে গেলে তিনি বাধা দেন। এ সময় তাঁর চুল ধরে মাটিতে ফেলে পুলিশ লাথি মারতে থাকে। একপর্যায়ে তাঁর তিন ছেলের মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে তাঁদের জিম্মি করে তারা মোটরসাইকেল বিক্রির দুই লাখ ১০ হাজার টাকা ও ছয় ভরি স্বর্ণালংকার নিয়ে যায়। এ সময় এ নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে তাঁদের ক্রসফায়ারে দেওয়ার হুমকি দিয়ে তারা চলে যায়।

পরদিন সকালে এ ব্যাপারে থানায় গেলে পুলিশ মামলা নেয়নি। পরে তিনি গত ৮ নভেম্বর যশোর আদালতে মামলা করেন। মামলার আসামিরা হলেন থানার উপপরিদর্শক মুজাহিদুল ইসলাম, সহকারী উপপরিদর্শক আশরাফুল ইসলাম, সহকারী উপপরিদর্শক জাহাঙ্গীর হোসেন, কনস্টেবল সালাউদ্দীন, ড্রাইভার মো. মজনু ও পুলিশের কথিত সোর্স উপজেলার বাগদা গ্রামের মৃত করিম মোড়লের ছেলে ফজলুর রহমান।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, আদালতে মামলা করায় অভিযুক্ত পুলিশ ও সোর্স ফজলুর রহমান তাঁদের অব্যাহত হুমকি দিচ্ছেন। মামলার খবর জানাজানি হওয়ার পর সোর্স ফজলু বেপরোয়া হয়ে ওঠে। বৃহস্পতিবার রাতে সোর্স ফজলু তাঁর ছেলে জাহিদুলকে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য হুমকি দেয়। তবে কেশবপুর থানার ওসি এস এম আনোয়ার হোসেন বলেন, মাদক ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীরকে পুলিশ গ্রেপ্তার করতে যায়। এ সময় তিনি অসুস্থ থাকায় তাঁকে না ধরে পুলিশ চলে আসে। পরে তাঁর মা ষড়যন্ত্রমূলকভাবে পুলিশের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন।

 


মন্তব্য