kalerkantho


নাটোরে গৃহবধূকে ‘খুন’, অপমৃত্যুর মামলা নিল পুলিশ

নাটোর প্রতিনিধি   

২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



নাটোর সদরে গৃহবধূ আয়শা আক্তার হীরাকে হত্যার পর লাশ ঝুলিয়ে রাখার অভিযোগ উঠেছে স্বামীর বিরুদ্ধে। আরো অভিযোগ, এ ঘটনায় হত্যা মামলা নেয়নি পুলিশ।

উল্টো গৃহবধূর স্বজনদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করে থানা থেকে বের করে দেয়। পরে অপমৃত্যু মামলা নিয়ে লাশ মর্গে পাঠায় পুলিশ। ঘটনাটি গত শুক্রবার রাতের।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সাত বছর আগে সদরের অর্জনপুর গ্রামের আক্তার হোসেনের মেয়ে আয়শা আক্তার হীরার সঙ্গে রাজাপুর গ্রামের ম হাবিবুর রহমানের (মৃত) ছেলে হাফিজুর রহমানের বিয়ে হয়। এ দম্পতির একমাত্র ছেলের নাম নয়ন (৫)। বিয়ের সময় হাফিজকে দুই লাখ টাকা যৌতুক দেওয়া হয়। পরে আরো এক লাখ টাকা দাবি করেন তিনি। এ জন্য স্ত্রীকে মারধরও করতেন। শুক্রবারও টাকার জন্য মারধর করলে আয়শার মৃত্যু হয়।

পরে হাফিজ বাড়ির লোকজনের সহায়তায় লাশের গলায় ওড়না পেঁচিয়ে গোয়ালঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখেন। লোকমুখে খবর পেয়ে আয়শার পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখেন, লাশটি হাঁটু মোড়া অবস্থায় ঝুলছে। লাশের হাত, পিঠসহ বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল। একপর্যায়ে হাফিজ ও তাঁর পরিবারের লোকজন পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় তাঁরা হাফিজসহ চারজনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করতে থানায় গেলে ওসি মশিউর রহমান তাঁদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করে সেখান থেকে বের করে দেন। উপায় না দেখে বিষয়টি পুলিশ সুপার (এসপি) বিপ্লব বিজয় তালুকদারকে জানান তাঁরা। পরে সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) আবুল হাসনাত তাঁদের ডেকে লিখিত অভিযোগ জমা নেন। পরে তাঁরা জানতে পারেন, হত্যা মামলার পরিবর্তে অপমৃত্যু মামলা নিয়েছে পুলিশ। সদর থানার ওসি মশিউর বলেন, ‘থানা থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ সঠিক নয়। আমরা অভিযোগ আমলে নিয়ে অপমৃত্যু মামলা করেছি, যাতে আসামিদের গ্রেপ্তার করা সহজ হয়। ’ মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) আকবর হোসেন বলেন, ‘তদন্ত চলছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ’


মন্তব্য