kalerkantho


বকেয়া বেতনের দাবি

কালিয়াকৈরে শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ, আহত ২০

কালিয়াকৈর (গাজীপুর) প্রতিনিধি   

২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে বকেয়া বেতনের দাবিতে শ্রমিক অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। আয়মন টেক্সটাইল অ্যান্ড হোসিয়ারি কারখানায় শ্রমিক ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে।

সংঘর্ষে আহত পুলিশ সদস্যরা হচ্ছেন এসআই হারুন-অর-রশিদ, কনস্টেবল জুয়েল রানা, জাকারিয়া, আমিরুল ইসলাম, রিয়াজুল ইসলাম, হাফিজুর রহমান ও রায়হান হোসেন।

শ্রমিক, পুলিশ ও কারখানা সূত্রে জানা যায়, ঈদের আগের মাসের শ্রমিকদের ১৫ দিনের বকেয়া বেতন গত ১০ সেপ্টেম্বর পরিশোধের কথা। কর্মকর্তারা তা পরিশোধ না করে টালবাহানা শুরু করেন। পরে কারখানা কর্তৃপক্ষ ১৫ সেপ্টেম্বর টাকা দেওয়ার ঘোষণা দেয়। ওই দিন শ্রমিকরা বেতনের কথা বললে কর্তৃপক্ষ ২০ সেপ্টেম্বর (গত বুধবার) দেওয়ার ঘোষণা দেয়। কিন্তু ওই দিন শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ করা হয়নি। গতকাল বৃহস্পতিবার শ্রমিকরা কারখানায় কাজ করতে যায়। বকেয়া বেতন দাবি করে। কর্তৃপক্ষ দুপুরে দেবে বলে শ্রমিকদের জানিয়ে দেয়।

কিন্তু দুপুর পার হতে চললেও বেতন না দেওয়ায় শ্রমিকরা কাজ বন্ধ রেখে কর্মবিরতি শুরু করে। একপর্যায়ে শ্রমিকরা কারখানা থেকে বের হয়ে ফটকের সামনে অবস্থান নেয়। ঘটনাস্থলে শিল্প পুলিশ উপস্থিত হলে শ্রমিকরা গেটে তালা দিয়ে আটকে দেয়। পুলিশ কারখানার ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করলে শ্রমিকরা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। বিকেলের দিকে পুলিশ কারখানার ফটক খুলে ভেতরে ঢুকে শ্রমিকদের ওপর লাঠিপেটা করে। পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ বাধে। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ চার রাউন্ড টিয়ারশেল ও ১২ রাউন্ড ফাঁকা গুলি করে। এতে ৭ পুলিশ সদস্য ও অন্তত ২০ শ্রমিক আহত হয়। আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

শ্রমিক জামান, আনোয়ার, রানা ও ফরিদা বলেন, ‘গত ঈদের হাজিরা বোনাস, ওভারটাইম, নাইট বিলসহ ১১ দিনের বেতন দেয়নি। কয়েকবার তারিখ দিয়েও মানেনি। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে কারখানায় এসে বেতনের কথা বললে দুপুরে দেবে বলে জানায়। কিন্তু দুপুরেও দেয়নি। পরে বিকেলে পুলিশ ভেতরে ঢুকে আমাদের ওপর লাঠিচার্জ ও গুলি ছুড়েছে। ’

কারখানার সহকারী ব্যবস্থাপক নাসির উদ্দিন বালী বলেন, বেতনের টাকা আনতে একটু দেরি হওয়ায় দুপুরের দিকে শ্রমিকরা উত্তেজিত হয়ে ওঠে। পরে শিল্প পুলিশ কারখানায় এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। মূলত বেতন দেওয়া নিয়ে ভুল-বোঝাবুঝির কারণে এ ঘটনা ঘটেছে। বিকেলের পর থেকে শ্রমিকদের বেতন দেওয়া শুরু হওয়ায় পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।

শিল্প পুলিশ গাজীপুর-১-এর সহকারী পুলিশ সুপার মো. মকবুল হোসেন বলেন, ‘পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। কারখানার সামনে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে। ’


মন্তব্য