kalerkantho


স্ত্রীর মর্যাদা চেয়ে অনশন

এসবির এএসআই সোহাগের বিরুদ্ধে এবার মামলা

শেরপুর প্রতিনিধি   

২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



শেরপুরে অনশন করেও স্ত্রীর মর্যাদার দাবি আদায়ে ব্যর্থ হয়ে অবশেষে আদালতে মামলা করেছেন মাস্টার্সের ওই ছাত্রী। মামলায় পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আরিফুজ্জামান সোহাগ (৩০) ও তাঁর পরিবারের ছয়জনকে আসামি করা হয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে শেরপুরের মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতে এ মামলা করা হয়।

আদালতের বিচারক সাইফুর রহমান মামলাটি আমলে নিয়ে এএসআই সোহাগসহ ছয়জনকে আগামী ১৮ অক্টোবর আদালতে হাজির হওয়ার জন্য সমন জারি করেন।

এএসআই সোহাগ সদর উপজেলার পূর্ব আলিনাপাড়া গ্রামের মৃত আনিসুর রহমান দুলালের ছেলে। মামলার অন্য পাঁচ আসামি হলেন সোহাগের মা শিরি বেগম (৫০), চাচা মঞ্জু মিয়া (৪২) ও মিন্টু মিয়া (৪৬), আত্মীয় হাসি বেগম (৩৪) ও শিরি আক্তার (৩৮)।

মামলার বিবরণে জানা গেছে, বর্তমানে ঢাকায় কর্মরত এএসআই মো. আরিফুজ্জামান সোহাগ ২০১৬ সালের দিকে ওই ছাত্রীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। একপর্যায়ে ওই বছরের ২৭ ডিসেম্বর ওই ছাত্রীকে টাঙ্গাইলে এক আত্মীয়ের বাড়িতে নিয়ে এএসআই সোহাগ গোপনে ভুয়া কাবিনে বিয়ে করেন। তখন ওই ছাত্রীকে শর্ত দেওয়া হয়, সোহাগের ছোট বোনের বিয়ে না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের বিয়ের বিষয়টি গোপন রাখতে হবে।

সম্প্রতি ওই ছাত্রী তাঁদের বিয়ের বিষয়টি প্রকাশ করতে বললে সোহাগ অস্বীকৃতি জানান। সেই সঙ্গে নকলা শহরে আরেক মেয়েকে বিয়ে করার দিন ঠিক করেন।

খবর পেয়ে ওই ছাত্রী বিষয়টি পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি), অতিরিক্ত আইজি (এসবি) ও ডিআইজি (ডিসিপ্লিন) বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন।

এরই মধ্যে সোহাগ গত বৃহস্পতিবার রাতে বাড়িতে আসেন। খবর পেয়ে ওই ছাত্রী সোহাগদের বাড়িতে গিয়ে স্ত্রীর মর্যাদার দাবি জানালে সোহাগ ও তাঁর পরিবারের লোকজন তা অস্বীকার করে। এর পর থেকে তিনি ওই বাড়িতে অনশন শুরু করেন। শনিবার বিকেল পর্যন্ত ওই ঘটনায় স্থানীয়ভাবে সুরাহা না হলেও সদর থানার পুলিশ এএসআই সোহাগের বাড়ি থেকে ওই ছাত্রীকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। এএসআই সোহাগের বিরুদ্ধে কোনো মামলা না নিয়ে পরদিন ওই ছাত্রীকে তাঁর মায়ের জিম্মায় দিয়ে দেয় পুলিশ।


মন্তব্য