kalerkantho


‘ইউএনও বলছি, টনপ্রতি ২০০০ টাকা লাগবে’

রাজবাড়ী প্রতিনিধি   

১৮ জুলাই, ২০১৭ ০০:০০



‘আমি ইউএনও বলছি। আমি এখন ডিসি স্যারের সামনে বসে আছি। ত্রাণের বিভিন্ন প্রকল্পের জন্য চাল বরাদ্দ দেওয়া হবে। টনপ্রতি দুই হাজার টাকা করে লাগবে। বিকাশ নম্বর দিচ্ছি। এখনই টাকা পাঠান। ’ গতকাল সোমবার সকালে রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সঙ্গে সভা করার সময় উপস্থিত ইউপি চেয়ারম্যানদের মোবাইল ফোনে একটি চক্র কল করে এসব কথা বলে। চক্রটি ইউএনওর সরকারি মোবাইল ফোন নম্বর ক্লোন (নকল) করে।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গতকাল সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পাংশা উপজেলা পরিষদের সম্মেলনকক্ষে আসন্ন বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় উপজেলা দুর্যোগ প্রতিরোধ কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়।

পাংশা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও কমিটির সভাপতি অধ্যাপক মো. ফরিদ হাসান ওদুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় ইউএনও, সহকারী কমিশনার (ভূমি) শেখ রাশেদ উজ্জামান, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান শাহিদা আহম্মেদ, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোছা. জেসমিন আক্তার, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আব্দুর রাজ্জাকসহ উপজেলার ১০টি ইউপির চেয়ারম্যানরা উপস্থিত ছিলেন। সভা চলাকালে ইউএনও সরকারি মোবাইল নম্বর থেকে পর্যায়ক্রমে বাহাদুরপুর ইউপি চেয়ারম্যান মো. হুমায়ুন কবির শাকিল, কসবামাজাইল ইউপি চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান খান, পাট্টা ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রব মুনা বিশ্বাস, বাবুপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান ইমান আলী সরদার, যশাই ইউপি চেয়ারম্যান সিদ্দিকুর রহমানের ফোনে কল আসে।

পাংশা ইউএনও মো. সাখাওয়াত হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ওই সভায় আমিও উপস্থিত ছিলাম। আসন্ন বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলা নিয়ে কথা বলছিলাম। এর মাঝে উপস্থিত ইউপি চেয়ারম্যানরা বলতে থাকেন, আপনার মোবাইল ফোন থেকে কল আসছে। আপনার পরিচয় দিয়ে টাকা চাচ্ছে। একপর্যায়ে একজন ইউপি চেয়ারম্যানের ফোন নিয়ে ওই চক্রের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলি। চক্রের সদস্যরা ইউএনও পরিচয় দিয়ে ত্রাণের বিভিন্ন প্রকল্পের নামে টাকা দাবি করে। ঘটনাটি সামনাসামনি না হলে অন্য রকমও হতে পারত। কোনো কোনো চেয়ারম্যান না বুঝেই হয়তো টাকা বিকাশ করতেন। যে কারণে সবাইকে সতর্ক থাকতে বলেছি। একই সঙ্গে এ ঘটনায় পাংশা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছি। ’


মন্তব্য