kalerkantho


বড়াইগ্রামে ধর্ষণের বিচার সালিসে

বড়াইগ্রাম (নাটোর) প্রতিনিধি   

১৮ জুলাই, ২০১৭ ০০:০০



বড়াইগ্রামের চান্দাই ইউনিয়নে এক বাকপ্রতিবন্ধীকে ধর্ষণ করা হয়েছে।   সোমবার সকালে এর বিচার সালিসে নিষ্পত্তি করেছেন ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য আন্তাদুল ইসলাম। আইন অনুযায়ী, ধর্ষণের মতো অপরাধ সালিসে নিষ্পত্তিযোগ্য নয়।

সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, বাকপ্রতিবন্ধী নারী (২৮) তাঁর বিধবা মায়ের সঙ্গে বসবাস করেন। গত রবিবার রাত ১২টার দিকে পাশের বাড়িতে অজ্ঞাত কারণে কলহ চলছিল। মা তাঁকে একা ঘরে রেখে কলহের কারণ জানতে যান। প্রতিবেশী কফিল মণ্ডলের ছেলে রফিকুল ইসলাম (৩২) ঘরে ঢুকে যৌন নির্যাতন করে পালিয়ে যান। মা ফিরে এসে মেয়ের এ অবস্থা দেখে রাতেই তাঁর ভাইদের বিষয়টি জানান। তখন তাঁর ভাইয়েরা উত্তেজিত হয়ে রফিকুলের বাড়িতে হামলা চালান। খবর পেয়ে ইউপি সদস্য আন্তাদুল এসে সুষ্ঠু বিচারের প্রতিশ্রুতি দেন।

এর পর পরিবারটির কাছ থেকে এক হাজার টাকা পিয়ন খরচ নিয়ে সালিস ডাকেন আন্তাদুল। গতকাল সোমবার সকালে কফিল মণ্ডলের উঠানে আন্তাদুলের নেতৃত্বে সিদ্দিক প্রামাণিক, মান্নান হাজী, মুকুল সরদার, বাকী বিল্লাহ, ইমদাদুল প্রমুখ সালিসে বসেন। যুবককে ১৩ হাজার টাকা জরিমানা করেন। অভিযুক্তের ঘরের জানালা ও টিনের বেড়া ভাঙচুর করায় মেয়ের ভাইদের সাত হাজার টাকা জরিমানা করেন। এই ২০ হাজার টাকা জরিমানার মধ্যে মেয়ের পরিবারকে আট হাজার টাকা আর যুবকের ঘর মেরামতের জন্য ১২ হাজার টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

মেয়ের মা বলেন, ‘আমি বৃদ্ধ এবং দরিদ্র মানুষ। তাই মামলা করতে চাই নাই। তবে সালিসে ১৩ হাজার টাকা জরিমানা করে আমাকে আট হাজার টাকা দেবে বলেছে। আবার রফিকুলকে পাঁচ হাজার টাকা ফেরত দেবে। উল্টো আমার ছেলেদের সাত হাজার টাকা জরিমানা করে রফিকুলকে দেবে। এ কেমন বিচার? আর এই আট হাজারই বা কবে পাব সে বিষয়ে কিছু বলেন নাই প্রধানরা। ’

ইউপি সদস্য আন্তাদুল ইসলাম বলেন, ‘রফিকুল ও বাদীরা পরস্পর আত্মীয়। তাদের পারিবারিক বিরোধের জেরে স্থানীয় প্রধানরা বসে একটা সমাধান করে দিয়েছেন। আমি এর মধ্যে ছিলাম না। ’ চান্দাই ইউপি চেয়ারম্যান আনিসুর রহমান বলেন, ‘তিনি ঘটনা শুনেছেন। ইউপি সদস্য এ ধরনের কাজে জড়িত থেকে ঠিক করেন নাই। ’

বড়াইগ্রাম থানার ওসি শাহরিয়ার খান বলেন, ‘ধর্ষণের অভিযোগ স্থানীয়ভাবে আপসযোগ্য নয়। অভিযোগ না পেলে এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ নেই পুলিশের। ’


মন্তব্য