kalerkantho


পিরোজপুরে পুড়েছে দোকানপাট বাড়িঘর

পিরোজপুর প্রতিনিধি ও আঞ্চলিক প্রতিনিধি, পিরোজপুর   

২২ এপ্রিল, ২০১৭ ০০:০০



পিরোজপুরে পুড়েছে দোকানপাট বাড়িঘর

পিরোজপুর শহরের থানা সড়কে গত বৃহস্পতিবার রাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে সাতটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও দুটি বসতঘর সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়েছে। ছবিটি গতকাল তোলা। ছবি : কালের কণ্ঠ

পিরোজপুর শহরের থানা সড়কে কিয়ামউদ্দিন স্কুলের সামনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে সাতটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও দুটি বসতঘর সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। বৃহস্পতিবার রাত আড়াইটার দিকে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে জানা গেছে।

এতে দুই কোটি টাকার বেশি ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পুড়ে যাওয়া বসতবাড়ির মালিক অ্যাডভোকেট ফাতেমা বেগম লাকি জানান, ফ্রিজ সার্ভিসিংয়ের দোকান থেকে আগুনের সূত্রপাত দেখতে পেয়ে ফায়ার সার্ভিসকে বারবার ফোন দিলেও কেউ ফোন রিসিভ করেনি। পরে থানা থেকে ফোন করিয়েও লাভ হয়নি। এভাবে প্রায় আধা ঘণ্টা চলে যায়। পরে যখন ফোনে তাদের পাওয়া যায়, ততক্ষণে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানসহ বসতঘর পুড়ে প্রায় ছাই হয়ে যায়।

তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করে পিরোজপুর ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার মো. কাঞ্চন আলী মৃধা জানান, খবর পেয়ে পিরোজপুর সদর, নাজিরপুর, বাগেরহাট ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিটসহ মোট চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় তিন ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা কাঞ্চন আলী মৃধা বলেন, আগ্নিকাণ্ডে কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। পুড়ে যাওয়া ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে ইলেকট্রনিকস, টাইলস, ফার্নিচার, টিভি-ফ্রিজ সার্ভিসিংয়ের দোকানসহ দুটি বসতঘরও ছিল।

এদিকে পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় গভীর রাতে এক সৌদিপ্রবাসীর বসতঘর পুড়িয়ে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার সাপলেজা ইউনিয়নের নলী চান্দখালী গ্রামে ওই ঘটনা ঘটে। তাতে কেউ হতাহত না হলেও অন্তত ১০-১২ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

এলাকাবাসী জানায়, নলী চান্দখালী গ্রামের সৌদিপ্রবাসী মো. ইসমাইল জমাদ্দারের স্ত্রী রুমা বেগম দুই সন্তান নিয়ে বাড়িতে বসবাস করতেন। বৃহস্পতিবার বিকেলে ঘরে তালা দিয়ে সন্তানদের নিয়ে রুমা একই গ্রামে তাঁর বাবার বাড়ি বেড়াতে যান। এ সুযোগে রাতে কে বা কারা ওই বসতঘর আগুনে পুড়িয়ে দেয়। টের পেয়ে প্রতিবেশীরা ছুটে এসে আগুন নেভানোর চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হয়। খবর পেয়েও গ্রামের একটি সেতু ভাঙা থাকায় ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি সেখানে পৌঁছাতে পারেনি। পরে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা হেঁটে সেখানে যাওয়ার আগেই পুরো বসতবাড়ি মালামালসহ পুড়ে যায়।

সাপলেজা ইউপি চেয়ারম্যান মো. মিরাজ মিয়া বলেন, ওই প্রবাসীর বসতঘরটি ঘটনার রাতে তালাবদ্ধ থাকার সুযোগে কে বা কারা পরিকল্পিতভাবে ওই ঘটনা ঘটিয়েছে। বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। বর্তমানে পরিবারটি গৃহহীন হয়ে পড়েছে।


মন্তব্য