kalerkantho


বগুড়ায় শজিমেকের ক্যান্সার বিভাগ

রেডিওথেরাপি বন্ধ আড়াই মাস ধরে

লিমন বাসার, বগুড়া   

২২ এপ্রিল, ২০১৭ ০০:০০



রেডিওথেরাপি বন্ধ আড়াই মাস ধরে

বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ক্যান্সার বিভাগে অচল হয়ে পড়ে আছে লিনিয়ার অ্যাকসেলারেটর। এ কারণে রোগীরা রেডিওথেরাপি পাচ্ছে না। ছবি : কালের কণ্ঠ

বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালের ক্যান্সার বিভাগের লিনিয়ার অ্যাকসেলারেটর (যন্ত্র) বিকল হয়ে পড়ে আছে। এ কারণে আড়াই মাস ধরে ক্যান্সার আক্রান্তরা রেডিওথেরাপি পাচ্ছে না।

দূর-দূরান্ত থেকে রোগীরা এসে সেবা না পেয়ে ফিরে যাচ্ছে।

গত বুধবার দুপুরে শজিমেকে গিয়ে দেখা যায়, সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ থেকে ক্যান্সার আক্রান্ত আবু হানিফ রেডিওথেরাপি নিতে এসেছেন। অন্যদিকে গাইবান্ধার পলাশবাড়ী থেকে এসেছেন ক্যান্সার রোগী মমতাজ বেগম। হাসপাতালের ক্যাম্পাসে বসে থাকা এই দুই রোগী জানান, তাঁদের প্রতি সপ্তাহে একবার করে থেরাপি নিতে হয়। অথচ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মাসের পর মাস ধরে প্রয়োজনীয় এই যন্ত্রটি মেরামতের কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না। এতে করে রোগীরা যে শুধু হয়রানি হচ্ছে তা নয়, চিকিৎসার জন্য তাদের ঢাকায় ছুটতে হচ্ছে।

হাসপাতালের রেজিস্ট্রার থেকে পাওয়া তথ্যে দেখা গেছে, রেডিওথেরাপির জন্য প্রতিদিন গড়ে ৩৫ জন রোগী আসে। সেই হিসেবে গত আড়াই মাসে

প্রায় আড়াই হাজার রোগী সেবা না পেয়ে ফিরে গেছে।

শজিমেক হাসপাতাল সূত্র জানায়, এ যন্ত্রটি এর আগে একাধিকবার বিকল হয়েছে।

সেটি মেরামত করার জন্য টেকনিশিয়ান এসে ঠিক করার কিছুদিন পর আবার বিকল হয়ে পড়ে। এবার যন্ত্রটি বিকল হয় গত বছরের ৩ ডিসেম্বর।

টেকনিশিয়ানরা জানান, যন্ত্রটি মেরামতে ৭৬ লাখ টাকা খরচ হবে। এ জন্য হাসপাতাল প্রশাসন গত ৯ ফেব্রুয়ারি সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে চিঠি দিয়েছে। কিন্তু আজ পর্যন্ত সেটি মেরামতের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এর আগে ২০১৫ সালের ১৮ আগস্ট যন্ত্রটি একবার বিকল হয়ে পড়েছিল। এরও এক বছর আগে অর্থাৎ ২০১৪ সালের নভেম্বরে বিকল হয়েছিল।

হাসপাতালের প্রশাসনিক বিভাগ থেকে জানা গেছে, ২০০৬ সালে শজিমেক হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার সময় মোট ১৫৯টি সরঞ্জাম কেনা হয়। ২০১৪ সালের জুলাইয়ের মধ্যে ৫৫ শতাংশ সরঞ্জাম নষ্ট হয়ে গেছে। বিকল হয়ে পড়া বেশকিছু সরঞ্জাম ইতিমধ্যে মেরামত করা হয়েছে।

হাসপাতাল সূত্রের দাবি, গত এক বছরে অত্যাধুনিক চিকিৎসা সুবিধা বাড়ানোর ফলে দিন দিন রোগীর সংখ্যা বাড়তে শুরু করেছে। ৫০০ শয্যার হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে ৯০০ রোগী ভর্তি থাকে। আর বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীর সংখ্যা দুই হাজার ছাড়িয়ে যায়। মূলত অতিরিক্ত রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিতে গিয়ে সরঞ্জামগুলো ঘন ঘন নষ্ট হচ্ছে।

হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক পদমর্যাদার একজন চিকিৎসক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘রোগ নির্ণয় এবং চিকিৎসাকাজে ব্যবহৃত সরঞ্জাম বিকল হওয়ার ঘটনা নতুন কিছু নয়। দফায় দফায় মেরামত করা হলেও সেগুলো বেশিদিন সচল রাখা যায় না। এর কারণ ১১ বছর আগে কেনা সরঞ্জামগুলো এমনিতে কর্মক্ষমতা অনেকটা হারিয়ে ফেলেছে। তার ওপর রোগীদের বাড়তি চাপের কারণে অতিরিক্ত ব্যবহার হয় যন্ত্রগুলো। এ কারণে সেগুলো ঘন ঘন বিকল হচ্ছে। এ অবস্থায় গত বছরের ২৯ মে অনুষ্ঠিত হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সর্বশেষ সভায় সরঞ্জামগুলো নতুন করে কেনার সুপারিশ করা হয়। এখনো এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হয়নি। ’

শজিমেক হাসাপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাসুদ আহসান বলেন, ‘লিনিয়ার অ্যাকসেলারেটর মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, শিগগির সরঞ্জামটি আবারও সচল হবে। ’

নতুন ও অত্যাধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম কেনার অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে শজিমেক হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও বগুড়া ১ (সারিয়াকান্দি-সোনাতলা) আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল মান্নান বলেন, ‘কিছু চাহিদা দেওয়া আছে। আশা করা যাচ্ছে, পর্যায়ক্রমে সেগুলো বাস্তবায়ন হবে। ’


মন্তব্য