kalerkantho


কুষ্টিয়া-রাজবাড়ী সড়ক

গর্তে ভরা ২৭ কিলোমিটার

নিজস্ব প্রতিবেদক, কুষ্টিয়া   

২১ এপ্রিল, ২০১৭ ০০:০০



কুষ্টিয়া থেকে দ্রুত রাজধানী ঢাকাসহ ফরিদপুর ও বরিশাল যাওয়ার জন্য চালকরা কয়েক যুগ ধরে কুষ্টিয়া-রাজবাড়ী সড়কটি ব্যবহার করে আসছে। বর্তমানে কুষ্টিয়া শহর থেকে কুমারখালী হয়ে থোকসা উপজেলার শেষ পর্যন্ত ২৭ কিলোমিটার সড়ক যানবাহন চলাচলের একেবারে অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

অথচ এ ব্যাপারে সড়ক বিভাগের কোনো মাথাব্যথা নেই।

সড়কটির বেহাল অবস্থায় যাত্রীদের দুর্ভোগ যেমন চরমে উঠেছে তেমন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন যানবাহন মালিকরা। দীর্ঘদিন ধরে এ অবস্থা চলতে থাকায় জেলা পরিবহন মালিক শ্রমিক পরিষদ এ সড়ক সংস্কারের দাবিতে দুই দফা আলটিমেটাম দিলেও কর্তৃপক্ষ কোনো উদ্যোগই নেয়নি।

সরেজমিন দেখা গেছে, কুষ্টিয়া-রাজবাড়ী সড়কের কুষ্টিয়ার মজমপুর গেট থেকে গড়াই ব্রিজের অ্যাপ্রোস সড়ক হয়ে খোকসার শেষে রাজবাড়ীর শুরু পর্যন্ত ২৭ কিলোমিটার সড়কের  বেশির ভাগ স্থানেই ভেঙে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে সড়কটির অবস্থা এতই খারাপ যে যানবাহন চলাচল করছে মারাত্মক ঝুঁকি নিয়ে। প্রায় প্রতিদিনই ঘটছে দুর্ঘটনা।

এ সড়কে প্রতিদিন ঢাকায় চলাচলকারী এসবি পরিবহনের চালক মনোয়ার হোসেন জিহাদ বলেন, ‘সড়কটির যে অবস্থা তাতে এক মিনিটও এই সড়কে গাড়ি চালানো যায় না। এর পরও দূরত্ব কমের কারণে আমরা কয়েক বছর ধরে এর মধ্যেই চালাচ্ছি। গাড়ি নষ্টও হচ্ছে।

সারছি আবার চালাচ্ছি। ’

একই সড়কে প্রতিদিন মোটরসাইকেলে চলাচল করেন ব্যাংকার শামসুর রহমান। তিনি জানান, দুঃখের কথা কি বলব ভাই, মাঝেমধ্যে মনে হয় মোটরসাইকেলে না বসে হেঁটে এই খানাখন্দ পাড়ি দিলেই আরামে গন্তব্যে যাওয়া যায়।

কুষ্টিয়া জেলা পরিবহন শ্রমিক নেতারা জানান, কুষ্টিয়া মজমপুর গেট থেকে রাজবাড়ী পৌঁছতে আগে সময় লাগত এক  ঘণ্টা ৩০ মিনিট, এখন সময় লাগছে দুই ঘণ্টারও বেশি। গণপরিবহনগুলো সময়মতো নির্ধারিত স্থানে পৌঁছতে পারছে না। দূরপাল্লার বাস ও ট্রাকগুলোর সমস্যা আরো বেশি হচ্ছে। একদিকে ভাঙাচোরা রাস্তা আর অন্যদিকে পুরো রাস্তাজুড়ে ধুলায় অন্ধকার থাকায় সামান্য সময়ের পথে এখন অনেক সময় লেগে যাচ্ছে এবং সড়কে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে।

কুষ্টিয়ার পরিবহন মালিক গ্রুপের সভাপতি সিহাব উদ্দিন জানান, এ সড়কের মজমপুর গেট থেকেই ভাঙনের শুরু, এরপর কুমারখালীর ভাঙনের অবস্থা আরো করুণ। খোকসা পার হওয়ার পর থেকেই রাস্তার  বেশির ভাগ স্থানে গর্ত। এতে বাস-ট্রাক ও অন্য যানবাহনের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। এ সড়কে প্রতিদিন পাঁচ-ছয়টি যানবাহন চলতে না পেরে রাস্তার মধ্যে পড়ে থাকছে। গত তিন বছর ধরে এ সড়কের সংস্কার করা হয় না। কয়েক বছর আগে সড়কটি সংস্কার করা হলেও নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে সড়ক ও জনপথ বিভাগ কুষ্টিয়ার নির্বাহী প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘কুষ্টিয়া-রাজবাড়ী সড়কের মজমপুর গেট থেকে কুষ্টিয়া অংশের যে অবস্থা, তা অবর্ণনীয়। আশার কথা হলো—এ সড়কটি শুধু সংস্কার নয়, নতুন করে করতে আমরা প্রকল্প হাতে নিয়েছি। ’


মন্তব্য