kalerkantho


সিপাহির খোলসে নিষিদ্ধ নেতা

রাজবাড়ী প্রতিনিধি   

২১ এপ্রিল, ২০১৭ ০০:০০



সিপাহির খোলসে নিষিদ্ধ নেতা

সিপাহি ওমর ফারুক

১৩ বছর ধরে বাংলাদেশ রেলওয়ের নিরাপত্তা বাহিনীর সিপাহি পদে কর্মরত ওমর ফারুক (৩১)। এর বাইরে তাঁর আরেকটি পরিচয় হচ্ছে নিষিদ্ধ চরমপন্থী সংগঠন পূর্ব বাংলা কমিউনিস্ট পার্টির (লাল পতাকা) রাজবাড়ী জেলাপ্রধান।

এত দিন এ তথ্য ছিল গোপন। গত মঙ্গলবার র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) সদস্যরা তাঁকে আটক করেছেন।

ফারুক রাজবাড়ী জেলা সদরের নবগ্রামের আবুল কাশেম বিশ্বাসের ছেলে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজবাড়ী থানায় তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করেছে র‌্যাব।

র‌্যাব-৮ ফরিদপুর ক্যাম্পের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রইছ উদ্দিন জানান, ফারুক দুর্ধর্ষ একজন চরমপন্থী নেতা। সম্প্রতি একটি হত্যা মামলার অভিযোগপত্রে তাঁর নাম উঠে আসে। পরবর্তীতে পাঁচুরিয়ার ব্যবসায়ী বাবুল মিজিকে অপহরণ ও গুমের মামলার প্রধান আসামি করা হয় তাঁকে। এর পাশাপাশি আরেকটি মারামারি মামলার অভিযোগপত্রে তাঁর নাম যুক্ত হয়। এরপর গত মঙ্গলবার র‌্যাব সদস্যরা ফারুককে পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার রেলওয়ে কোয়ার্টার থেকে গ্রেপ্তার করেন।

জিজ্ঞাসাবাদের পর গত বুধবার রাত ১টার দিকে তাঁকে নিয়ে নবগ্রামের বাড়িতে আসেন র‌্যাব সদস্যরা। তাঁরা ফারুকের দেখানো মতে, বসতঘরের সামনে উঠানে গর্ত করে একটি মাটির কলস উদ্ধার করেন। ওই কলসের মধ্য থেকে যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি ৭ দশমিক ৬২ বোর পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন ও তিন রাউন্ড গুলি উদ্ধার করেন।

রইছ বলেন, ‘রেলওয়ের নিরাপত্তা বাহিনীর সিপাহি হওয়ায় সে ছিল ধরাছোঁয়ার বাইরে। যেকোনো অনৈতিক কাজ করে সে ঈশ্বরদীতে ফিরে যেত। পাকশী রেলওয়ের নিরাপত্তা বাহিনীর কোয়ার্টারে স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে বসবাস করত। তবে কোয়ার্টারের সামনে তার নিযুক্ত দুজন নিরাপত্তাকর্মী থাকত। দুই কর্মী কোয়ার্টারে আসা-যাওয়া ব্যক্তিদের ওপর নজর রাখত। ফলে তাকে গ্রেপ্তার করা সহজ ছিল না। র‌্যাব সদস্যরা নিখুঁত অভিযান পরিচালনা করেই তাকে গ্রেপ্তার করতে পেরেছেন। ’ তিনি আরো জানান, একসময় লাল পতাকার রাজবাড়ী জেলার প্রধান ছিলেন ফারুকের মামা সামাদ মেম্বার। সামাদ র‌্যাবের সঙ্গে কথিত বন্দকযুদ্ধে নিহত হওয়ার পর বাহিনীর প্রধান হন ফারুক।

বিগত বিএনপি সরকারের আমলে তিনি রেলওয়ের সিপাহি পদে চাকরি পান। চাকরির পাশাপাশি তিনি চরমপন্থী বাহিনীকে সক্রিয় রেখেছেন। তাঁর বাহিনীতে বেশ কিছু সদস্য এবং বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে বাহিনীর সদস্যদের নাম প্রকাশের পাশাপাশি চাঞ্চল্যকর অনেক তথ্য দিয়েছেন। ওই সব তথ্য নিয়ে র‌্যাব সদস্যরা ইতিমধ্যে কাজ শুরু করেছেন।

বাংলাদেশ রেলওয়ের নিরাপত্তা বিভাগ, পাকশীর কমান্ড্যান্ট আসাবুল ইসলাম জানান, বেশ কয়েক দিন ধরে সিপাহি ওমর ফারুক কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন। কয়েক দিন আগে র‌্যাব-৮ ফরিদপুর ক্যাম্প থেকে ফোন করে তাঁর সম্পর্কে তথ্য জানতে চাওয়া হয়।

খোঁজ নিয়ে তিনি জানতে পারেন, ফারুক দাড়ি-টুপিওয়ালা একজন নামাজি ব্যক্তি। কর্মস্থলে থাকাকালে নামাজ পড়ার পাশাপাশি ভালোমানুষি ভাব দেখাতেন। তবে তিনি যে এত বড় চরমপন্থী নেতা, তা তাঁরা জানতেন না। তাঁর বিরুদ্ধে হত্যা, গুম ও মারামারির মামলা হলেও তা তাঁরা জানতে পারেননি। ফলে তাঁর বিরুদ্ধে কোনো আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এবার সাময়িক বরখাস্ত করার পাশাপাশি তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হবে।


মন্তব্য