kalerkantho


গাবতলী মডেল থানার ওসির আত্মহত্যা

সাবেক স্ত্রী ৫ দিনের রিমান্ডে

নিজস্ব প্রতিবেদক, বগুড়া   

১ এপ্রিল, ২০১৭ ০০:০০



বগুড়ার গাবতলী মডেল থানার ওসি আ ন ম আবদুল্লাহ আল হাসানকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে সাবেক স্ত্রী রুমানা আকতার মিতু ও তাঁর বাবা মোকসেদ আলী মিলিটারিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁদের বাড়ি পাবনা শহরের শালগাড়িয়া এলাকায়। বৃহস্পতিবার রাতে পাবনা শহরের শালগাড়িয়ার গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে গাবতলী মডেল থানা পুলিশ তাঁদের গ্রেপ্তার করে।

বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গণমাধ্যম) সনাতন চক্রবর্তী গ্রেপ্তারের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, বাবা ও মেয়েকে বগুড়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে। আদালত শুনানি শেষে রুমানা আকতার মিতুকে পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। এর আগে বুধবার রাতে ওসি হাসানের বড় স্ত্রী সুলতানা রাজিয়া রোজী বাদী হয়ে গাবতলী মডেল থানায় এ মামলা করেন।

গাবতলী মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. নুরুজ্জামান জানান, রোজী তাঁর স্বামীকে আত্মহত্যায় প্ররোচনায় বাধ্য করার অভিযোগে সাবেক স্ত্রী মিতুর বিরুদ্ধে গাবতলী থানায় মামলা করেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, ওসি হাসান দ্বিতীয় স্ত্রী মিতুকে তালাক দিলেও তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন। তাঁকে পাবনায় ২০ লাখ টাকা মূল্যের একটি ফ্ল্যাটও কিনে দেন। তাঁর সাবেক ও বর্তমান স্ত্রী বগুড়ায় আসতে চাইলে তিনি বিপাকে পড়েন।

জানা গেছে, আ ন ম আবদুল্লাহ আল হাসান নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার কদমতলা গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা হযরত আলীর ছেলে। তিনি গত ২০১৫ সালের ২ অক্টোবর পাবনা সদর থানায় ওসি হিসেবে যোগদান করেন। তাঁর স্ত্রী সুলতানা রাজিয়া রোজী পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ুয়া মেয়ে ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়া ছেলেকে নিয়ে রাজশাহীর উপশহরে বসবাস করতেন। ওসি হাসান পাবনা থাকাকালে শহরের শালগাড়িয়ার মোকসেদ আলীর মেয়ে রুমানা আকতার মিতুর সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে তাঁকে বিয়েও করেন। দ্বিতীয় বিয়ের বিষয়টি জানাজানি হলে প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে দাম্পত্য কলহের সৃষ্টি হয়। গত বছরের ৪ নভেম্বর রোজী পাবনা থানা কোয়ার্টারে এসে ওসি হাসান ও মিতুকে প্রকাশ্যে জুতাপেটা করেন। পরে রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি অফিসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাটি চাপা দিতে ৫ নভেম্বর ওসি হাসানকে জয়পুরহাটে বদলি করেন।


মন্তব্য