kalerkantho


ব্রাহ্মণবাড়িয়া আওয়ামী লীগ

ঘরে বিভেদ, এবার জানবে সবাই

বিশ্বজিৎ পাল বাবু, ব্রাহ্মণবাড়িয়া   

২১ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



ঘরে বিভেদ, এবার জানবে সবাই

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শফিকুল ইসলামের সংবর্ধনা আগামী বৃহস্পতিবার। জাতীয় বীর আব্দুল কুদ্দুস মাখন পৌর মুক্ত মঞ্চে জেলা সম্মিলিত নাগরিক সমাজের ব্যানারে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠান হওয়ার কথা রয়েছে। এ আয়োজনের মধ্য দিয়ে জেলা আওয়ামী লীগের কোন্দল আর গোপন রাখা যাচ্ছে না। শফিকুল ইসলাম সম্প্রতি অনুষ্ঠিত জেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ‘বিদ্রোহী প্রার্থী’ হিসেবে নির্বাচনে জয়লাভ করেন। হেরে যান আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী সৈয়দ এ কে এম এমদাদুল বারী। ওই নির্বাচনে জেলা আওয়ামী লীগের কয়েক নেতা প্রকাশ্যে শফিকুল ইসলামের পক্ষে মুখ্য ভূমিকা নেন। সংবর্ধনা আয়োজনের সঙ্গে তাঁরাই জড়িত।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠান উপলক্ষে গতকাল সোমবার দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমপ্লেক্স ভবনে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে সংবর্ধনা অনুষ্ঠান সফল হওয়া নিয়ে নানা শঙ্কা প্রকাশ করা হয়। অভিযোগ করা হয়, একই দিন কুমিল্লায় যাওয়ার জন্য আওয়ামী লীগ ৩০টি বাস ভাড়া করেছে। অনেক অতিথিকে না আসার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ৪০ থেকে ৫০ হাজার লোক সমাগমের আশা করেন আয়োজকরা।

আমন্ত্রণপত্র অনুযায়ী মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী ও নাসিরনগরের সংসদ সদস্য (এমপি) অ্যাডভোকেট ছায়েদুল হককে প্রধান অতিথি করা হয়েছে। জেলা নাগরিক সমাজের সভাপতি তাজ মো. ইয়াছিনের সভাপতিত্বে এতে বিশেষ অতিথি থাকবেন বাঞ্ছারামপুরের এমপি ক্যাপ্টেন (অব.) এ বি তাজুল ইসলাম, নবীনগরের এমপি মো. ফয়জুর রহমান বাদল, সরাইল-আশুগঞ্জের এমপি অ্যাডভোকেট জিয়াউল হক মৃধা, জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও সাবেক পৌর মেয়র মো. হেলাল উদ্দিন, জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মিনারা আলম। প্রধান বক্তা হিসেবে থাকবেন জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা আমানুল হক সেন্টু।

সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি তাজ মো. ইয়াছিন জানান, জেলা পরিষদের ১৩১ বছরের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ায় ও প্রায় ২৫ বছর ধরে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে জড়িত থাকায় শফিকুল ইসলামকে সংবর্ধনা দেওয়া হচ্ছে। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে থাকার জন্য স্থানীয় এমপি র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরীকে অনুরোধ করা হয়েছিল। তখন এমপি বলেছেন, ‘শফিকুল ইসলাম আওয়ামী লীগের কেউ নন। এ অনুষ্ঠানে থাকতে পারছি না। ’ শফিকুল ইসলামকে আওয়ামী লীগে যোগদান করাতে তিনি আহ্বান জানান।

এক প্রশ্নের জবাবে তাজ বলেন, ‘মন্ত্রী ছায়েদুল হককে জেলা আওয়ামী লীগ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার বিষয়ে সুপারিশ করতে আমাদের কোনো মতামত নেওয়া হয়নি। পরে পত্রিকার মাধ্যমে জানতে পারলাম এ ধরনের একটি সুপারিশ করা হয়েছে। ’

জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা আমানুল হক সেন্টু বলেন, ‘শফিকুল ইসলাম ২২ বছর ধরে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে কাজ করছেন। যখন দলের জন্য টাকা-পয়সা দেওয়ার কেউ ছিল না, তখন এগিয়ে এসে দলীয় কর্মকাণ্ডে অনেক টাকা ব্যয় করতেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দাঁড়িয়ে যিনি ছবি তোলেন, তিনি এখন কেন আওয়ামী লীগের হবেন না?’

জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও সাবেক পৌর মেয়র মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘শফিকুল ইসলামকে বিভিন্নভাবে নাজেহাল করা হয়েছে। আমরা তাঁর সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সবার সহযোগিতা চাই। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যেন অতিথিরা না আসেন সে জন্য অনেককে ফোন করা হচ্ছে। সংবর্ধনায় লোকজন যেন না হয়, সে জন্য কুমিল্লায় যাওয়ার কথা বলে ৩০টি বাস ভাড়া করা হয়েছে। ’

জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মিনারা আলম বলেন, ‘আমাদের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের ঝামেলা করার ইচ্ছা নেই। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যে ঝামেলা করতে চাইবে, দায়ভার তাকেই নিতে হবে। আমরা সুন্দরভাবে অনুষ্ঠানটি করতে চাই। ’

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আল-মামুন সরকার বলেন, ‘কার সংবর্ধনা হবে-না হবে, এ নিয়ে আমাদের (আওয়ামী লীগ) কোনো মাথাব্যথা নেই। ২৩ মার্চ কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনী প্রচারণায় যাব বলে আগে থেকে ঠিক করেছি। আমরা রেল ও সড়কপথে কুমিল্লায় যাব। আমি মনে করি, শেখ হাসিনার মনোনয়নকে চ্যালেঞ্জ করে যিনি জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচন করেন তাঁর সংবর্ধনায় অন্তত আওয়ামী লীগের কেউ যাবে না। কোনো মন্ত্রী-এমপি এ অনুষ্ঠানে আসবে বলেও আমার মনে হয় না। ’


মন্তব্য