kalerkantho


প্রধানমন্ত্রী মাগুরায় যাচ্ছেন আজ

আওয়ামী দ্বন্দ্বের আগুন ছাইচাপা

শামীম খান, মাগুরা   

২১ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



আওয়ামী দ্বন্দ্বের আগুন ছাইচাপা

মাগুরার ২৮টি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন, ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনসহ জেলা আওয়ামী লীগের জনসভায় যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ মঙ্গলবার মাগুরা আসছেন। প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার এ কর্মসূচি ঘিরে কিছুদিন ব্যাপক সাংগঠনিক কার্যক্রম চালিয়েছে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। প্রতিটি ইউনিয়নের ওয়ার্ড পর্যায়েও আগামী সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে প্রতিনিধি সমাবেশ করেছে নেতাকর্মীরা। এ কারণে প্রধানমন্ত্রীর এই সফর মাগুরায় অনেকটাই নির্বাচনী আমেজ এনে দিয়েছে। এদিকে দলীয় প্রধানের মাগুরা সফরকে সামনে রেখে আওয়ামী লীগের ঘরোয়া বিবাদ সাময়িক ছাইচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। বিবদমান দুই পক্ষের নেতাদের আজকের জনসভায় একই মঞ্চে দেখা যেতে পারে।

মাগুরা সদরের আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের দাবি, মাগুরা জেলা আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে বিভাজন আছে। যার এক পক্ষে আছেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি তানজেল হোসেন খান ও সাধারণ সম্পাদক পঙ্কজ কুমার কুণ্ড। অন্য পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ড. বীরেন শিকদার। দু-একটি ব্যতিক্রম বাদে তাঁদের এক মঞ্চে দেখা যায় না। কয়েক বছরের প্রতিটি নির্বাচনে উভয় গ্রুপ থেকে দলীয় প্রার্থীর বিপরীতে বিদ্রোহী প্রার্থিতা যার প্রমাণ।

এমনকি সম্প্রতি অনুষ্ঠিত জেলা পরিষদ নির্বাচনে জেলা আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থীর বিপরীতে দল থেকেই বিদ্রোহী প্রার্থীর প্রতিদ্বন্দ্বিতা লক্ষ করা গেছে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে সামনে রেখে সেই বিভাজনের আগুনে ছাইচাপা দেওয়া হয়েছে।

এ ব্যাপারে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি তানজেল হোসেন খান বলেন, ‘দলে প্রকাশ্য কোনো দ্বন্দ্ব নেই। ভেতরে ভেতরে যেটি আছে, সেটি নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা। যেহেতু জেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান কমিটির সিংহভাগ নেতা সব সিদ্ধান্তে একত্রিত হতে পারেন। এ কারণে দু-একজন এই স্রোতের বাইরে থাকলে তাঁরা নিজেরাই রাজনীতির মূলধারা থেকে পিছেয়ে যাবেন। বিগত সব নির্বাচনে সিংহভাগ ক্ষেত্রে এখানে আওয়ামী লীগের জেলা কমিটি ঘোষিত প্রার্থী জয়ী হয়েছেন। এখনো জেলা কমিটির যেকোনো আহ্বানে সর্বস্তরের নেতাকর্মী এক হতে পারে। এ কারণে জেলায় দলীয়ভাবে আমাদের অবস্থান সবার শীর্ষে। প্রধানমন্ত্রীর জনসমাবেশে সেটি আবারও প্রমাণ করব। ’

এদিকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মাগুরায় শেখ হাসিনার এটি দ্বিতীয় সফর। ১৯৯৮ সালে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শেখ হাসিনা সর্বশেষ মাগুরা সফরে আসেন। প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে গোটা মাগুরা শহর এখন উৎসবমুখর। মাগুরার সাবেক এমপি ও জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রয়াত আছাদুজ্জামানের ছেলে প্রধানমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব অ্যাডভোকেট সাইফুজ্জামান শিখরসহ কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগের কয়েক ডজন নেতা জনসভার প্রস্তুতির তদারকি করছেন।

প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল অফিসার-২ এস এম খুরশিদ আলম স্বাক্ষরিত কর্মসূচি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী দুপুর ১টা ৫ মিনিটে হেলিকপ্টারযোগে মাগুরায় পৌঁছবেন। এরপর মাগুরা সার্কিট হাউসে মধ্যাহ্নভোজ ও নামাজের বিরতির পর বিকেল ৩টায় মুক্তিযোদ্ধা আছাদুজ্জামান স্টেডিয়ামে জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় বক্তব্য দেবেন। একই স্থানে ফলক উন্মোচনের মাধ্যমে ১৫০ কোটি ৩১ লাখ টাকা ব্যয়ে সম্পন্ন হওয়া মাগুরার ১৯টি প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন তিনি। পাশাপাশি ১৭৭ কোটি ১১ লাখ টাকা ব্যয়ে ৯টি উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন।

মাগুরা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান পঙ্কজ কুণ্ড বলেন, ‘শেখ হাসিনাকে বরণ করে নেওয়ার জন্য শহর আলোকিতকরণ, ব্যানার, ফেস্টুন, বিল বোর্ড টাঙানোসহ সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছি। জনসভা সফল করতে জেলার প্রতিটি ওয়ার্ড থেকে শুরু করে জেলা পর্যায় পর্যন্ত আওয়ামী লীগ ও এর সব অঙ্গসংগঠনের পক্ষ থেকে কর্মিসভা ও মিছিল-সমাবেশ করা হয়েছে। ’ মাগুরার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারিকুল ইসলাম বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে মাগুরায় তিন স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে পুলিশের নিরাপত্তা চৌকি, চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। শহরের প্রতিটি হোটেল-রেস্তোরাঁ, রেস্টহাউসে যাতায়াতকারীদের ওপর রাখা হয়েছে কড়া নজরদারি। নিরাপত্তার দায়িত্বে ব্যাপকসংখ্যক পোশাকধারী পুলিশের পাশাপাশি দায়িত্ব পালন করছেন সাদা পোশাকে গোয়েন্দা বিভাগের সদস্যরা। জনসভাস্থলসহ গোটা মাগুরা শহর ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরা দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে।


মন্তব্য