kalerkantho


বন্দরে অপরূপ ফুল কানন

দিলীপ কুমার মণ্ডল, নারায়ণগঞ্জ   

১৯ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



বন্দরে অপরূপ  ফুল কানন

নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার কলাগাছিয়া ইউনিয়নের ফুল বাগানগুলোতে দর্শনার্থীদের ভিড় বাড়ছে। ছবিটি গতকাল তোলা। ছবি : কালের কণ্ঠ

নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার কলাগাছিয়া ইউনিয়ন। এই ইউনিয়নের সাবদী, দীঘলদি, মাধবপাশা, হারজাদী চানপুর, সেলারদী, কলাবাগ আইসতলা গ্রামে বছরজুড়েই ফুল চাষে ব্যস্ত থাকে চাষিরা।

শীতকালে গ্ল্যাডিউলাস, গাঁদা, জারবেরা, ক্লানডোরা, ডালিয়া, চেরি, চন্দ্রমল্লিকা আর গ্রীষ্মকালে গোলাপ, জবা, কাঠবেলি, আলমেন্দা, মাইকফুল, টগর, চায়না বেলি গ্রামগুলোর সৌন্দর্য বাড়িয়ে দেয় কয়েক গুণ। পুরনো ব্রহ্মপুত্রপারের গ্রামগুলোতে প্রায় পাঁচ হাজার পরিবার এখন কোনো না কোনোভাবে ফুল চাষ ও ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। বিশেষ করে শীতকালে ক্ষেতের পর ক্ষেত যখন নানা বর্ণের ফুলে শোভিত হয়ে থাকে, সেই সৌন্দর্য অবলোকন করতে ভিড় জমায় বহু দর্শনার্থী। তবে ফুল চাষিদের দাবি, এখানে একটি বীজ সংরক্ষণাগার ও একটি বেড়িবাঁধ তৈরি হলে ফুল চাষে তারা যশোর ও সাভারের চেয়েও এগিয়ে যেতে পারে।

গ্রামগুলো ঘুরে দেখা গেছে, ক্ষেতের পর ক্ষেত যেন বর্ণিল কার্পেট বিছানো। নানা রঙের ফুলে বসে মৌমাছিরা গুঞ্জন করছে। সেই অপরূপ সৌন্দার্য অবলোকন করতে ছুটে আসছে নানা প্রান্তের মানুষ।

নারায়ণগঞ্জের একটি ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের শিক্ষক তানিয়া, তাছলিমা, সায়মা, পপিকে দেখা গেল সেলফি তুলতে ব্যস্ত। তাঁরা জানান, নারায়ণগঞ্জে এত সুন্দর জায়গা আর দ্বিতীয়টি নেই।

তাই তাঁরা সুযোগ পেলেই ফুলের টানে ছুটে আসেন সাবদী এলাকায়।

ফুল চাষিদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, ৩০ বছর ধরে কলাগাছিয়া ইউনিয়নে ফুল চাষ হচ্ছে। এটা লাভজনক ব্যবসা হওয়ায় দিন দিন এর প্রসার ঘটছে। অনেকেই অন্য ফসল চাষবাস ছেড়ে এখন ফুলের দিকে ঝুঁকছে। বন্দরে উৎপাদিত একটি গ্ল্যাডিউলাস ফুল ১০ টাকা, চেরি ১৫০ টাকা, একটি জারবেরা ১৫-২০ টাকা, জিপসী একমুঠো ২০ টাকা ও একটি ক্লানডোরা তিন টাকা, চায়না বেলি দিয়ে তৈরি একটি গাজরা ২০ টাকায় বিক্রি করা হয়। এ ছাড়া অন্যান্য ফুলও বাজারদর অনুযায়ী অন্য জেলা থেকে একটু সুলভ মূল্যেই বিক্রি করা হয়। ঢাকার শাহবাগ কাছাকাছি হওয়ায় সেখানে বন্দরের ফুল যায় বেশি। পুরনো ফুল চাষি দীঘলদি এলাকার নকুল হালদার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘দেশের অন্য এলাকার চেয়ে বন্দরের ফুল উত্কৃষ্ট। তাই আমাদের ফুলের চাহিদাও বেশি। বিশেষ করে ঢাকার শাহবাগ ও নারায়ণগঞ্জের ক্লাব মার্কেটেই আমরা ফুল সরবরাহ করে থাকি। বাংলাদেশে ফুলের ব্যবহার দিন দিন বেড়ে যাওয়ায় আমাদের ব্যবসারও প্রসার ঘটছে। তবে বন্দরে যদি বীজ সংরক্ষণাগার (কোল্ড স্টোরেজ) থাকত, তাহলে ভারত থেকে বীজ বা চারা আমদানি করতে হতো না। ’

সাবদী এলাকার ইসমাইল জানান, বন্দরের কলাগাছিয়া ইউনিয়নের পাঁচ হাজার পরিবার ফুল ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। কেউ চাষ করে, কেউ বা বিক্রি করে, কেউ ক্ষেত থেকে ফুল তোলে, আবার অনেকে মালা গাঁথে। এ ব্যাপারে বন্দর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোস্তফা এমরান হোসেন বলেন, ‘কলাগাছিয়া ইউনিয়নে দিন দিন ফুল চাষ বাড়ছে। বর্তমানে সেখানে ১৫০ হেক্টর জমিতে ফুল চাষ করা হচ্ছে। ফুলের গুণগত মান বাড়াতে এবং ফুল চাষে উৎসাহ দিতে আমরা বিভিন্ন কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছি। বন্দরে একটি বীজ সংরক্ষণাগার ও বেড়িবাঁধ নির্মাণের জন্য আমরা সরকারের কাছে প্রস্তাবনা পাঠিয়েছি। ’


মন্তব্য