kalerkantho


পলাশে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে এক ব্যক্তির মৃত্যু, আহত ১

নিজস্ব প্রতিবেদক, নরসিংদী   

১৯ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



নরসিংদীর পলাশে ইন্টারনেট লাইনের সংযোগ দিতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে আহত উত্তম দাস (৩২) মারা গেছেন। গত শুক্রবার রাতে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

একই ঘটনায় আহত ফাহিম মিয়া (২৮) আশঙ্কাজনক অবস্থায় ওই হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাতে পলাশ নতুন বাজার এলাকায় ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট লাইন সংযোগের কাজ করতে গিয়ে ১৩২ কেবি (কিলো ভোল্ট) সঞ্চালন লাইনের সঙ্গে লেগে গুরুতর আহত হন তাঁরা।

নিহত উত্তম দাস ঘোড়াশাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে কর্মরত দুলাল দাসের ছেলে। তিনি বিদ্যুেকন্দ্রে মাস্টাররোলে চাকরি করার পাশাপাশি এলাকায় ডিশ লাইন ও ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সংযোগের কাজ করতেন।

জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাতে ফাহিম ও উত্তম পলাশ নতুন বাজারের বিমল বাবু ও ইলিয়াছ মিয়ার ভবনের ছাদ দিয়ে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট লাইনের সংযোগ দেওয়ার কাজ করছিলেন। ফাহিম ইন্টারনেটের তার এপার থেকে ওপারে নেওয়ার জন্য একটি পানির বোতলে বেঁধে ছুড়ে দেন। সেটা ঘোড়াশাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের সঞ্চালন লাইনে লেগে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ হয়। এতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে উত্তম দাসের শরীরের ৯৫ শতাংশ ও ফাহিমের শরীরের ৬০ শতাংশ পুড়ে যায়।

স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, লিংক থ্রি নামের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ঘোড়াশাল বিদ্যুেকন্দ্রে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সংযোগ দেয়।

কিন্তু প্রতিষ্ঠানটি বিটিআরসির অনুমতি ব্যতীত অবৈধভাবে আবাসিক ও বাণিজ্যিক সংযোগও দিচ্ছে। আর সেই অবৈধ ইন্টারনেট সংযোগ দিতে গিয়েই অসাবধানতার কারণে এ দুর্ঘটনা ও হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।

জানতে চাইলে লিংক থ্রির স্থানীয় প্রতিনিধি হিসেবে পরিচিত বিল্লাল হোসেন বলেন, ‘আমি করপোরেট সংযোগ নিয়ে তা থেকে পলাশ লিংক টেকনোলজি নামে একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ইন্টারনেট সেবা প্রদান করছি। ’ প্রতিষ্ঠানটি বিটিআরসি অনুমোদিত কি না—জানতে চাইলে তিনি বলেন, অনুমোদন নেওয়ার চেষ্টা চলছে। আপাতত রেডিয়ান কমিউনিকেশন থেকে সাপোর্ট নিয়ে গ্রাহকদের ইন্টারনেট সেবা দিচ্ছেন তাঁরা।

তবে রেডিয়ান কমিউনিকেশনের পলাশ জোনের আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক মো. সাইফুল ইসলাম মুন্না জানান, লিংক টেকনোলজির সঙ্গে তাঁদের কোনো সম্পর্ক নেই। তাঁরা লিংক থ্রি সংযোগ দিয়ে সম্পূর্ণ অবৈধভাবে ইন্টারনেটের ব্যবসা করছেন। আর এ দুর্ঘটনার যাবতীয় দায়ভারও তাঁদের। পলাশ থানার ওসি আবুল কালাম আজাদ বলেন, পরিবার না করলে পুলিশ বাদী হয়ে মামলা দায়ের করবে। একই সঙ্গে ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় তাদের তলব করা হয়েছে।


মন্তব্য