kalerkantho


টাঙ্গুয়ার হাওরে মহিষ চরে!

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি   

১৯ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



মহিষ পালনে ব্যবহার করা হচ্ছে টাঙ্গুয়ার হাওরের সংরক্ষিত সবুজ বনভূমি। এ জন্য ময়মনসিংহের ত্রিশাল ও নেত্রকোনার কলমাকান্দা থেকে কয়েক শ মহিষ টাঙ্গুয়ার হাওরের সংরক্ষিত বনাঞ্চলে নিয়ে আসা হয়েছে। এসব মহিষ প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পরিবেশ সংকটাপন্ন এলাকা হিসেবে রামসার সাইট ঘোষিত সংরক্ষিত এলাকার বিভিন্ন কান্দা-জাঙ্গালে (ঘাস ও বনে আবৃত উঁচু সবুজভূমি) অবাধে ছেড়ে দেওয়া হয়। ফলে হাওরের কান্দায় লাগানো ও প্রাকৃতিকভাবে বেড়ে ওঠা হিজল-করচের চারা, নলখাগড়াসহ বিভিন্ন প্রজাতির বন, পাখির বাসা, বিভিন্ন প্রজাতির কচ্ছপের ডিম মহিষের পায়ের তলায় পিষ্ট হচ্ছে।

এলাকাবাসী জানায়, হেমন্তে টাঙ্গুয়ার হাওরের দিগন্ত বিস্তৃত সবুজ বনাঞ্চল জেগে ওঠে। নানা প্রজাতির ঘাস তখন ছেয়ে যায় হাওরের কান্দা-জাঙ্গাল। সবুজাভ ঘাসের লোভে স্থানীয় একটি চক্রকে ম্যানেজ করে টাকার বিনিময়ে ময়মনসিংহের কৃষকরা ঘাস খাওয়াতে মহিষের পাল নিয়ে আসে টাঙ্গুয়ার হাওরে। কয়েক বছর ধরে এটা হচ্ছে। প্রকৃতিবিনাশী এমন ঘটনা টাঙ্গুয়ার হাওরের প্রকৃতি সংরক্ষণে নিয়োজিত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের চোখে পড়লেও তাঁরা এ নিয়ে নিশ্চুপ।

দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য শিমুল আহমদ জানান, দুই মাস আগে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি তিন লাখ টাকার চুক্তিতে ময়মনসিংহের ত্রিশাল থেকে চার শতাধিক মহিষ টাঙ্গুয়ার হাওর এলাকায় নিয়ে আসে। এ মহিষগুলো সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত হাওরটির বিভিন্ন এলাকায় ঘাস খেতে অবাধে চষে বেড়ায়।

এ সময় কান্দায় লাগানো ও প্রাকৃতিকভাবে বেড়ে ওঠা হিজল-করচের চারা, নলখাগড়াসহ বিভিন্ন প্রজাতির বন, পাখির বাসা, ডিম ইত্যাদি পায়ে পিষ্ট করছে। তিনি বলেন, হাওরটির মিষ্টি পানির বিভিন্ন বিরল প্রজাতির কচ্ছপ কান্দায় সংরক্ষিত বনে ডিম দিয়ে থাকে। মহিষের পায়ের তলায় পিষ্ট হয়ে সেই ডিম নষ্ট হওয়ার পথে।

আমরা হাওরবাসী সংগঠনের প্রধান সমন্বয়কারী রুহুল আমিন বলেন, নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলা থেকে আসা কয়েক শ মহিষ হাওরটির চিড়ারগাঁওসংলগ্ন পুরানকান্দাসহ বিভিন্ন এলাকায় অবাধে চষে বেড়াচ্ছে। তাতে স্থলজ-জলজ উদ্ভিদ তথা বন নষ্ট হচ্ছে। তিনি বলেন, টাঙ্গুয়ার হাওরের মতো সংরক্ষিত এলাকায় এসব একদম অনুচিত। হাওর ব্যবস্থাপনায় ত্রুটির কারণেই এটা হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে আগামী বছর বিভিন্ন এলাকা থেকে আরো মহিষ এসে হাওরটিকে চারণভূমিতে পরিণত করবে।

টাঙ্গুয়ার হাওর সংরক্ষণে নিয়োজিত জেলা প্রশাসনের প্রতিনিধি ও আইইউসিএনের থিম্যাটিক কো-অর্ডিনেটর ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, ‘এ মৌসুমে সাধারণত টাঙ্গুয়ার হাওরপারের কিছু লোক দূর-দূরান্ত থেকে মহিষ, গরুর পাল নিয়ে আসে। যখন হাওর রক্ষণাবেক্ষণের প্রকল্প ছিল তখন আমরা কমিউনিটির লোকদের দায়িত্ব দিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের এসব থেকে বিরত রাখতাম। এখন যেহেতু প্রকল্প নেই, তাই কমিউনিটির লোকদের কাজে লাগানো যাচ্ছে না। ’ টাঙ্গুয়ার হাওরের কান্দা-জাঙ্গালে মহিষ চারণ খুবই ক্ষতিকর বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘বিষয়টি আমি প্রথম শুনলাম। এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব। ’

তাহিরপুর উপজেলার চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান কামরুল বলেন, ‘হাওর সংরক্ষিত এলাকা। হাওরের কান্দা কোনোমতেই মহিষের চারণভূমিতে পরিণত করা উচিত নয়। কিভাবে প্রশাসনের সামনে এটা হচ্ছে আমাদের বোধগম্য নয়। ’

 


মন্তব্য