kalerkantho


‘ভোটের দিন কুমিল্লা নগরী হবে সেমি ক্যান্টনমেন্ট’

নিজস্ব প্রতিবেদক, কুমিল্লা   

১৯ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



‘ভোটের দিন কুমিল্লা নগরী হবে সেমি ক্যান্টনমেন্ট’

কুিমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে ‘মহাপরীক্ষা’ উল্লেখ করে নির্বাচন কমিশনার ও কর্মকর্তারা বলেছেন, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে কাউকে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না। ভোটের দিন কুমিল্লায় নির্বাচন কমিশন এমন পরিস্থিতি করবে, মনে হবে নগর এলাকা একটি সেমি ক্যান্টনমেন্ট।

তাঁরা আরো বলেন, দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে কোনো প্রকার শিথিলতা বরদাশত করা হবে না। নির্বাচন নিরপেক্ষ রাখতে কেউ যদি গাফিলতি করে তাহলে কঠোর ব্যবস্থা নিতে কার্পণ্য করবে না কমিশন।

গতকাল কুমিল্লা টাউন হলে সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন তাঁরা।

জেলা প্রশাসক মো. জাহাংগীর হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার। বিশেষ অতিথি ছিলেন অন্য নির্বাচন কমিশনার কবিতা খানম ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাহাদৎ হোসেন চৌধুরী। এ ছাড়া নির্বাচন কমিশন সচিব মোহাম্মদ আবদুল্লাহ, প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) কুমিল্লা অঞ্চলের কমান্ডার কর্নেল আ ফ ম আতিকুর রহমান, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) কুমিল্লা সেক্টর কমান্ডার কর্নেল গাজী মো. আহসানুজ্জামান, পুলিশ সুপার মো. শাহ আবিদ হোসেন ও র‌্যাব-১-এর কমান্ডিং অফিসার মেজর মোস্তফা কায়সার বক্তব্য দেন।

সভায় বিএনপি প্রার্থী মনিরুল হক সাক্কু তাঁর সমর্থকদের পুলিশ হয়রানি করছে বলে অভিযোগ আনেন। একজন কাউন্সিলর প্রার্থী তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর বিরুদ্ধে হুমকির অভিযোগ করেন। তবে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির দুই প্রার্থীই বহিরাগতদের প্রভাব বিস্তার নিয়ে আশঙ্কার কথা তুলে ধরে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলেন।

নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার বলেন, কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হোক—এটা সবাই চায়। সরকার নির্বাচন কমিশনকে নির্বাহী ক্ষমতা দিয়েছে। কাজেই নির্বাচন কমিশন যে নির্দেশ দিচ্ছে সেখানে কোনো দ্বিধা নেই বা থাকার কথা নয়। নির্বাচন কমিশনকে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দিয়ে ভাবমূর্তি রক্ষা করতে হবে। সমগ্র জাতি এ নির্বাচনের দিকে তাকিয়ে আছে।

নির্বাচন কমিশনার কবিতা খানম বলেন, যেকোনো অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে অভিযোগকারীদের লিখিত অভিযোগ করতে হবে। যদি নির্বাচনের সময় কাউকে গ্রেপ্তার করা হয় তাকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আদালতে সোপর্দ করতে হবে। মামলায় নাম নেই এমন কাউকে সন্দেহবশত গ্রেপ্তার করা উচিত নয়।

নির্বাচন কমিশনার শাহাদৎ হোসেন চৌধুরী বলেন, নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে কারো বিরুদ্ধে অবহেলা ও পক্ষপাতের অভিযোগ পাওয়া গেলে সর্বোচ্চ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি নির্বাচনী ব্যয়ের ব্যাপারে প্রার্থীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।

নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেওয়া হবে জানিয়ে নির্বাচন কমিশনের সচিব মোহাম্মদ আবদুল্লাহ বলেন, ৩০ মার্চ কুমিল্লায় এমন পরিস্থিতি হবে, মনে হবে এটি একটি সেমি ক্যান্টনমেন্ট। এ ছাড়া বিজিবি, র‌্যাব ও পুলিশ কর্মকর্তারা নির্বাচনের পরিবেশ সুষ্ঠু রাখতে যথাযথভাবে দায়িত্ব পালনের প্রতিশ্রুতি দেন।

মতবিনিময় সভায় বিএনপি মনোনীত মেয়র পদপ্রার্থী মনিরুল হক সাক্কু অভিযোগ করেন, ২৭ নম্বর ওয়ার্ডে কুদ্দুস নামে তাঁর এক কর্মীকে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানা পুলিশ ধরে নিয়ে আসামি বানানোর চেষ্টা করেছে। তাঁর এই কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা থাকলেও তিনি হাইকোর্ট থেকে জামিনে আছেন। তাঁকে আটক করে নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট করা হয়েছে বলেও দাবি করেন সাক্কু। তবে সাক্কুর এ অভিযোগের জবাবে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানার ওসি নজরুল ইসলাম বলেন, কুদ্দুস দীর্ঘদিন ধরে পলাতক। তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা আছে। ওসি প্রশ্ন করে বলেন, যাদের বিরুদ্ধে পরোয়ানা আছে এবং বাস পোড়ানোর মামলা রয়েছে তাদের কি গ্রেপ্তার করা যাবে না?

আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র পদপ্রার্থী আনজুম সুলতানা সীমা ভোটাররা যেন নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে যেতে-আসতে পারে সে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানান।

স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মামুনুর রশিদ অভিযোগ করে বলেন, পথসভাগুলোতে প্রার্থীদের উপস্থিতি থাকতে হবে। প্রার্থীর উপস্থিতি ছাড়া কোনো পথসভা যাতে না করা হয় সে জন্য অনুরোধ জানান তিনি। এ ছাড়া তিনি স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে সেনাবাহিনী রাখার অনুরোধ জানান।


মন্তব্য