kalerkantho

দাউদকান্দির গৌরীপুর-লালপুর সড়ক পাকাকরণ

মাঝপথে কাজ বন্ধ

দাউদকান্দি (কুমিল্লা) প্রতিনিধি   

১৯ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



কুমিল্লার দাউদকান্দির গৌরীপুর-লালপুর সড়কের পাকাকরণকাজ মাঝপথে এসে বন্ধ করে দিয়েছেন ঠিকাদার। ফলে ভাঙা সড়কে চলতে গিয়ে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে ছয়টি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষকে। এদিকে রাস্তার কাজ শেষ করার দাবি জানিয়ে গতকাল শনিবার সংবাদ সম্মেলন করেছে চরমাহমুদ্দি গ্রামবাসী।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, উপজেলার গৌরীপুর-লালপুর সড়ক দিয়ে ছয়টি গ্রামের মানুষ এবং কয়েকটি উচ্চ বিদ্যালয় ও মাদরাসার কয়েক শ ছাত্রছাত্রী চলাচল করে। সড়কের গৌরীপুর বাজার থেকে চরমাহমুদ্দি গ্রামের পূর্ব মাথা পর্যন্ত পাকা করার জন্য স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর ৬৫ লাখ টাকায় দরপত্র আহ্বান করে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ঈশান এন্টারপ্রাইজ গত আগস্টে এ কাজ পায়। দীর্ঘদিন পর (নভেম্বর) প্রতিষ্ঠানটি পাকা করার উদ্দেশ্যে সড়কের মাটি কেটে আংশিক বালি ভরাট করে ও ইটের খোয়া এনে সড়কের পাশে স্তূপ করে রাখে। পরে উপজেলা প্রকৌশলী পরিদর্শনে এসে দেখতে পান ওই খোয়া খুবই নিম্নমানের। অনেক খোয়া আঙুল দিয়ে চাপ দিলেই ভেঙে যায়। প্রকৌশলী খোয়াগুলো সরিয়ে উন্নতমানের খোয়া দিয়ে কাজ করার নির্দেশ দেন। কিন্তু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পরে ওই খোয়া না সরিয়ে কাজ বন্ধ করে দেয়।

ঠিকাদার কাজ শুরুর আগে বৃষ্টি-বাদল না থাকলে মাটির এ রাস্তা দিয়ে সিএনজিচালিত অটোরিকশাসহ অন্য যানবাহন চলাচল করত। রাস্তাটি কাটার পর এখন আটোরিকশা দূরের কথা, মানুষই হেঁটে চলতে পারে না। বৃষ্টির দিন এসে যাওয়ায় সড়কটি দিয়ে যাতায়াতে জনগণকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

গৌরীপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য চরমাহমুদ্দি গ্রামের ফজলু মিয়া বলেন, ‘বর্তমান অবস্থার চেয়ে কাঁচা রাস্তাও অনেক ভালো ছিল। উন্নতমানের ইট দিয়ে অবিলম্বে কাজ শুরু না করলে গ্রামবাসী ফুঁসে উঠবে। ’

ঈশান এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী ঠিকাদার গিয়াস উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘নির্বাহী প্রকৌশলী স্বপন কান্তি পাল ও দাউদকান্দি উপজেলা প্রকৌশলী রুবাইয়াত জামান যেই মানের কাজ চান সেই মানের কাজ করার জন্য আমরা চেষ্টা করতেছি। কোনো কোনো ঠিকাদার বলেন, ওই দুই প্রকৌশলীর চাহিদা অনুযায়ী কাজ করলে আমাদের ব্যবসা লাটে উঠবে। ’

যোগাযোগ করলে দাউদকান্দি উপজেলা প্রকৌশলী রুবাইয়াত জামান বলেন, ‘ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটিকে নিম্নমানের খোয়া সরিয়ে নেওয়ার জন্য লিখিত নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং অবিলম্বে ভালো ইট দিয়ে কাজ করতে বলা হয়েছে। অন্যথায় কার্যাদেশ বাতিল করে অন্য প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়া হবে। এ এলাকার ঠিকাদাররা নিম্নমানের কাজে অভ্যস্ত হয়ে যাওয়ায় এখন সঠিক মানের কাজ করাতে আমাদের বেগ পেতে হচ্ছে। ’

প্রসঙ্গত, নিম্নমানের উপকরণ ও নিয়মবহির্ভূত কাজ করায় প্রকৌশলী রুবাইয়াত জামান এর আগে আরো কয়েকটি রাস্তার কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন।


মন্তব্য