kalerkantho


জবানবন্দি দিয়ে ফেরার পথে ধর্ষিতাকে অপহরণ

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি   

১৯ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



গণধর্ষণের এক সপ্তাহ পর থানায় মামলা হয়েছে। আদালতে ২২ ধারায় জবানবন্দি দিয়ে বাড়ি ফেরার পথে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওই গৃহবধূকে অপহরণ করা হয়েছে। গত শুক্রবার বিকেল ৪টার দিকে সাতক্ষীরার অতিরিক্ত মুখ্য বিচারিক হাকিম মহিবুল হাসানের কাছে জবানবন্দি দেওয়ার পর তিনি বাড়ি ফিরছিলেন। গতকাল শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত তাঁর সন্ধান মেলেনি।

সাতক্ষীরার তালা উপজেলার ইসলামকাটি ইউনিয়নের এক দিনমজুর জানান, তাঁর মেয়ের (২৭) পাশের খেশরা ইউনিয়নে বিয়ে হয়। বর্তমানে সে দুই সন্তানের জননী। গত ১০ মার্চ দুপুর ২টার দিকে একটি বোরো ক্ষেতে কাজ শেষে বাড়ি ফিরছিলেন মেয়েটি। পথে হরিহরনগর গ্রামের ইমান আলী শেখের ছেলে বিলাল হোসেন (৩৫), সামছুদ্দিন গোলদারের ছেলে রফিকুল গোলদার (৫০), আব্দুর রউফের ছেলে আজমারুল ইসলাম (৩৬) তাঁর গলায় ধারালো দা ধরে পাশের বিল্লাল হোসেনের শ্যালো মেশিন ঘরে নিয়ে যায়। তারা তাঁর ওপর যৌন নির্যাতন চালায়। এ নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে ফল ভালো হবে না জানিয়ে দেয়। বিষয়টি তাঁর মেয়ে তাত্ক্ষণিক স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজনকে বলে দেন।

পরে বিষয়টি খেশরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রাজীব আহম্মেদ রাজু, ইউপি সদস্য ছিদ্দিকুর রহমান, ইউনিয়ন যুবলীগের আহ্বায়ক ফারুক হোসেন পিন্টুকে জানায়। চেয়ারম্যান বিষয়টি সালিসের মাধ্যমে মিটিয়ে দেওয়ার কথা বলে থানায় যেতে নিষেধ করেন। এরপর অভিযুক্তরা কিছু টাকার বিনিময়ে বিষয়টি মিটিয়ে নিতে গৃহবধূর ওপর চাপ সৃষ্টি করে। চেয়ারম্যান কোনো সালিস না করায় গৃহবধূ গত বুধবার তালা থানায় অভিযোগ করেন। পুলিশ অভিযোগটি এজাহার হিসেবে গণ্য করে। গত শুক্রবার দুপুরে গৃহবধূর স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও ২২ ধারায় জবানবন্দির উদ্যোগ নেওয়া হয়। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা তালা থানার ওসি (তদন্ত) মঞ্জুরুল হাসান মাসুদের মাধ্যমে তাঁকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল ও আদালতে পাঠানো হয়। এ সময় গৃহবধূর সঙ্গে ছিলেন তাঁর শাশুড়ি ও বড় ছেলে (৭)। সদর হাসপাতালে স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে বিকেল ৪টার দিকে সাতক্ষীরার অতিরিক্ত মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতের বিচারক মহিবুল হাসান ২২ ধারায় জবানবন্দি নেন। পরে তাঁকে নিজ জিম্মায় ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন বিচারক।

গৃহবধূর বাবা ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন জানান, শুক্রবার বিকেলে আদালত থেকে ছেড়ে দেওয়ার পর তিনি, তাঁর ছেলে ও শাশুড়ি বাড়িতে বা কোনো আত্মীয়ের বাড়িতে ফেরেননি।

তালা থানার ওসি হাসান হফিজুর রহমান বলেন, ‘এ বিষয়ে আমার কাছে কেউ অভিযোগ করেনি। খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব। ’


মন্তব্য