kalerkantho


বাঁশখালী

বনের ভেতর গজিয়ে গেল ১০ হাজার ঘর

উজ্জ্বল বিশ্বাস, বাঁশখালী (চট্টগ্রাম)   

১৯ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



বনের ভেতর গজিয়ে গেল ১০ হাজার ঘর

চট্টগ্রামের বাঁশখালীর গুনাগরী পাহাড়ের সংরক্ষিত বনাঞ্চলে এভাবেই ঝুপড়ি তৈরি করে অবৈধভাবে বাস করছে অসংখ্য পরিবার। ছবিটি গতকাল তোলা। ছবি : কালের কণ্ঠ

চট্টগ্রামের বাঁশখালীর সংরক্ষিত বনাঞ্চল অরক্ষিত হয়ে উঠেছে। যেখানে বন্য প্রাণী ও গাছগাছালি থাকার কথা, সেখানে প্রতিদিন গড়ে উঠছে নতুন নতুন ঘর। এভাবে প্রায় ১০ হাজার অবৈধ স্থাপনা গড়ে উঠলেও তা উচ্ছেদে পদক্ষেপ নিচ্ছে না প্রশাসন।

গ্রামবাসীর অভিযোগ, সংরক্ষিত বনের জমি বিক্রি করছে এক শ্রেণির দালাল। প্রতি ২ শতাংশ জমি বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৫০ হাজার টাকায়। দালালদের দেওয়া দখলি স্বত্ব বিক্রির টাকার কিছু অংশ পারস্পরিক বোঝাপড়ায় হাতিয়ে নিচ্ছে এক শ্রেণির বন কর্মকর্তা-কর্মচারীও। এই বনাঞ্চলের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও পরিবেশ রক্ষায় পাঁচটি বেসরকারি সংস্থা (এনজিও) কাজ করছে। তারা শুধু কর্মশালা আর ভুয়া ভাউচার তৈরি করে লাখ টাকা খরচের প্রতিবেদন তৈরিতে ব্যস্ত।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি সাধনপুর লটমনি পাহাড়ে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ অস্ত্রসহ প্রশিক্ষণ নিতে আসা পাঁচ জঙ্গিকে গ্রেপ্তার করেছিল। এরপর জঙ্গি আস্তানার হোতা সাধনপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান খোন্দকার মো. ছমির উদ্দিনের ছেলে জিয়াউদ্দিন ফাহাদ ধরা পড়ে। সে কয়েক মাস আগে জামিনে এসে গোপনে কাতারে পালিয়ে যায়।

এখনো ওই পরিবারের নেতৃত্বে সাধনপুর লটমনি পাহাড়ে ভূমিহীন বাস্তুহারা নামে দেড় শতাধিক পরিবার বাস করছে। এসব অবৈধ স্থাপনা ঘিরে পাহাড়ে নানা অপরাধ ঘটছে। লটমনি জঙ্গি আস্তানার বাড়ির মালিক মাওলানা মোহাম্মদ মোবারককে ধরতে পারেনি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

সম্প্রতি সাধনপুর, বৈলছড়ি, নাপোড়া, চাম্বল, শীলকূপ, জলদী, কালীপুর, পুকুরিয়াসহ বিস্তীর্ণ পাহাড়ি এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, সংরক্ষিত বন দখল করে তৈরি করা হয়েছে মুরগি, গরু, ছাগল ও ভেড়ার খামার। শক্তিশালী সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল বসিয়ে বৈদ্যুতিক মোটর দিয়ে পানি তোলা হচ্ছে। কোথাও কোথাও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ বাঁশখালী শাখার অধীনে কাগজপত্র ছাড়াই বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়েছে। কোনো কোনো পাহাড়ে রহস্যজনক বাড়িঘর দেখা গেছে। ওই সব বাড়িতে সাধারণ মানুষের আসা-যাওয়া নিষিদ্ধ রয়েছে। খামারবাড়ি তৈরিতে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ট্রেড লাইসেন্স ও অনুমোদন থাকার নির্দেশনা থাকলেও তা মানা হচ্ছে না।

জলদী রেঞ্জ কর্মকর্তা নুরে আলম সিদ্দিকী বলেন, ‘পাহাড়ে শ শ ঘরবাড়ি অবৈধভাবে গড়ে উঠছে। আমাদের লোকবল না থাকায় তা সরানো সম্ভব হচ্ছে না। সম্মিলিত প্রশাসনিক উদ্যোগের মাধ্যমে এসব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা জরুরি। তা না হলে ভবিষ্যতে সংরক্ষিত বনাঞ্চল লোকালয়ে পরিণত হবে। জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশের ভয়াবহ ক্ষতি হবে। ’

বাঁশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) মো. শরীফুল ইসলাম বলেন, ‘পাহাড়ে বসবাসকারীদের গতিবিধি ও পরিচিতি তথ্য পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। জঙ্গি আস্তানা থাকলে তা বের করে আনা হবে। অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দপ্তর উদ্যোগ নিলে আমরা সর্বদা প্রস্তুত আছি। ’

বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাজী মোহাম্মদ চাহেল তস্তুরি বলেন, ‘বন বিভাগ ও উপজেলা ভূমি অফিসকে বনাঞ্চলে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনার তালিকা তৈরির নির্দেশ দিয়েছি। পল্লী বিদ্যুতের উপমহাব্যবস্থাপককে (ডিজিএম) অবৈধ স্থাপনার বৈদ্যুতিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার নির্দেশ দিয়েছি। জঙ্গি আস্তানার খোঁজে গ্রামে গ্রামে সোর্স লাগানো হয়েছে। ইউপি সদস্য ও চেয়ারম্যানদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শিগগির জোরালো অভিযান চালানো হবে। ’


মন্তব্য