kalerkantho


ভাঙ্গায় ভুয়া এপিএসের কাণ্ড

স্কুলে দুই শতাধিক শিক্ষার্থীর চুল কর্তনে তোলপাড়

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর   

১৮ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার ভাঙ্গা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে গত বুধবার ‘প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রীর’ এপিএস পরিচয় দিয়ে এক ব্যক্তি বিদ্যালয়ে ঢুকে দুই শতাধিক শিক্ষার্থীর চুল কেটে দেওয়ায় তোলপাড় শুরু হয়েছে।   শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বাস্তবে ‘প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী’ না থাকায় ভুয়া এপিএস পরিচয় দিয়ে বিদ্যালয়ে ঢুকে এমন কাণ্ড করায় নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করেছে স্থানীয় প্রশাসন।

এপিএস পরিচয় দেওয়া ওই ব্যক্তির নাম এ বি এম শেখ বাপ্পী এলাহী। তাঁর বাড়ি গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায়। তিনি প্রধান শিক্ষকের পূর্বপরিচিত। চুল কাটার ঘটনায় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হায়দার হোসেন জড়িত বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ভাঙ্গা উপজেলার ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) প্রণব কুমার ঘোষ গতকাল শুক্রবার বিকেলে কালের কণ্ঠকে জানান, ওই ঘটনায় অধিকতর তদন্ত করতে শিগগিরই কমিটি গঠন করা হবে। তবে ঘটনার পর বুধবার তাত্ক্ষণিকভাবে উপজেলা মাধ্যমিক কর্মকর্তার নেতৃত্বে গঠিত তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি তদন্তের পর একটি প্রতিবেদন জমা দিয়েছে।

ভাঙ্গা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও অভিভাবক সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হায়দার হোসেনের পূর্বপরিচিত এ বি এম শেখ বাপ্পী এলাহী টুঙ্গিপাড়ার বাসিন্দা এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) পরিচয় দেন।

ওই ব্যক্তি গত বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে একজন নাপিতকে সঙ্গে নিয়ে বিদ্যালয়ে আসেন। পরে সপ্তম থেকে দশম শ্রেণির কক্ষে ঢুকে দুই শতাধিক ছাত্রের চুল জোর করে কেটে দেন। এ সময় ছাত্ররা প্রতিবাদ করলে ওই ব্যক্তি এতে প্রধান শিক্ষকের অনুমতি রয়েছে বলে জানান। একপর্যায়ে ছাত্ররা প্রতিবাদমুখর হয়ে উঠলে ওই ব্যক্তি পালিয়ে যান। প্রধান শিক্ষক ঘটনা সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের কাউকে কিছু না বলতে নিষেধ করেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরে ঘটনাটি জানাজানি হলে প্রধান শিক্ষক ঘটনাটি ‘তেমন কিছু নয়’ বলে উড়িয়ে দেন।

এ ব্যাপারে কথা বলতে ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হায়দার হোসেনের ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনে গতকাল শুক্রবার একাধিকবার রিং করলেও তিনি সাড়া দেননি। তাঁকে খুদে বার্তা পাঠালেও তিনি জবাব দেননি।

ভাঙ্গার ভারপ্রাপ্ত ইউএনও প্রণব কুমার ঘোষ বলেন, ‘আমি বুধবার রাতে ঘটনাটি জেনে তাত্ক্ষণিকভাবে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুর রহিমকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি করেছিলাম। তারা গত বৃহস্পতিবার আমাকে এক পাতার একটি প্রতিবেদন দিয়েছে। কিন্তু তাতে বিষয়টি পরিষ্কার হয়নি। এ জন্য অধিকতর তদন্ত করতে শিগগিরই আরো একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। ’ তবে তিনি বলেন, ‘ঘটনা সম্পর্কে প্রধান শিক্ষক অনেক সত্য গোপন করেছেন বলে আমি নিশ্চিত হয়েছি। তাই অধিকতর তদন্ত করে ঘটনার সুষ্ঠু বিচারের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ’


মন্তব্য