kalerkantho


কুসিক নির্বাচন

এমপি বাহারকে ঘিরেই আলোচনা

নিজস্ব প্রতিবেদক, কুমিল্লা   

১৮ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



বিষয়টি নিয়ে এত দিন আওয়ামী মহলে ফিসফাস চললেও গতকাল শুক্রবার তা প্রকাশ্যেই বলে ফেললেন আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ সাধারণ সম্পাদক পঙ্কজ দেবনাথ এমপি। তিনি বলেন, ‘কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে জননেত্রী শেখ হাসিনা মনোনীত প্রার্থী আঞ্জুম সুলতানা সীমার সাফল্যের কৃতিত্ব যেমন কুমিল্লা সদর আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহারের, তেমনি পরাজয়ের দায়ভারও তাঁকেই নিতে হবে।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন উপলক্ষে গতকাল বিকেলে কুমিল্লা টাউন হলে কুমিল্লা মহানগরী স্বেচ্ছাসেবক লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় পঙ্কজ দেবনাথ এ কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘নৌকার জয়ের বিকল্প নেই। ’

আলোচনা সভায় আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফর উল্যাহ প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন আলহাজ আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এ কে এম এনামুল হক শামীমসহ কেন্দ্রীয় নেতারা। এ সভাকে কেন্দ্র করে এমপি বাহারের সমর্থক নেতাকর্মীরা ব্যাপক শো-ডাউন করে। বক্তাদের সবাই নৌকার প্রার্থীর পক্ষে নেতাকর্মীদের কাজ করার আহ্বান জানান।

এমপি বাহার তাঁর বক্তব্যে বলেন, ‘৩০ মার্চ সিটি নির্বাচন। আমি শেখ মুজিবের কর্মী। আমি শেখ হাসিনার কর্মী।

আমার এবং আমার নেত্রীর মাঝখানে কোনো সাংবাদিক ঢোকার চেষ্টা করবেন না। আমার এবং নেত্রীর মাঝখানে সব পক্ষের ফেসবুক ব্যবহারকারীরা ঢোকার চেষ্টা করবেন না। আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার কারো রক্তচক্ষুকে ভয় পায় না। শেখ হাসিনাকে বিশ্বাস করে, শেখ হাসিনার নির্দেশে আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার নিজের জীবন বাজি রেখে কাজ করতে পারে। জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। ’

কুমিল্লা আওয়ামী লীগের অধ্যক্ষ আফজল খান ও আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে গ্রুপিংয়ের বিষয়টি অনেকটা প্রকাশ্যই। আফজল খানের মেয়ে আঞ্জুম সুলতানা সীমাকে মেয়র পদে মনোনয়ন দিয়েছে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ। সীমার পক্ষে এমপি বাহার কাজ করবেন কি না সেটি এখনো আলোচনায় অনেকটা জায়গা দখল করে আছে।

আ. লীগ ও বিএনপি মেয়র পদপ্রার্থীর বিরামহীন গণসংযোগ, উঠান বৈঠক : সিটি নির্বাচন একদিকে যেমন আওয়ামী লীগের প্রেস্টিজ ইস্যু, অন্যদিকে বিএনপির আসনটি ধরে রেখে অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার চেষ্টা। তাই মনোনয়ন পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রার্থীরা শুরু করেন গণসংযোগ। যদিও দুই প্রার্থী বিষয়টি অস্বীকার করে বলেছিলেন, ‘সৌজন্য সাক্ষাৎ। ’ আর প্রতীক বরাদ্দের পর তাঁদের চলছে বিরামহীন গণসংযোগ, সঙ্গে উঠোন বৈঠক।

গতকাল সকালে আওয়ামী লীগ প্রার্থী আঞ্জুম সুলতানা সীমা বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন উপলক্ষে আসেন নগরীর রামঘাট এলাকায় দলীয় কার্যালয়ে। সেখানে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়ে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেন। প্রথমেই ছুটে যান নগরীর হযরতপাড়ায়। এরপর একে একে কাটাবিল, হাউজিং স্টেট ও ডিগম্বরীতলা এলাকায়। নুরপুর এলাকায় কেন্দ্রীয় নেতাদের উপস্থিতিতে হয় উঠোন বৈঠক। দুপুরে কয়েকটি সামাজিক অনুষ্ঠানে যোগদান শেষে বিকেল ৫টায় যোগ দেন টাউন হল মাঠে বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন উপলক্ষে স্বেচ্ছাসেবক লীগ আয়োজিত সমাবেশে।

অন্যদিকে বিএনপিদলীয় মেয়র প্রার্থী মনিরুল হক সাক্কু ও তাঁর পক্ষের নেতাকর্মীরা গতকাল সকাল থেকে নগরীর ৫, ৯, ১০, ১৩, ১৪, ২৫ ও ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের বিভিন্ন স্থানে গণসংযোগের পাশাপাশি ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের ধনাইতরী এলাকার হাজি আবদুর রশিদের বাড়িতে উঠোন বৈঠক করেন। কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতা শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের দ্বিতীয় মুরাদপুর এলাকায় গণসংযোগ করেন। এ ছাড়া সাক্কুর সহধর্মিণী আফরোজা জেসমিন টিকলী নগরীর দক্ষিণ চর্থা ও মুরাদপুর এলাকায় ধানের  শীষে ভোট চেয়ে নারীদের নিয়ে উঠোন বৈঠক করেন।

লোটাস কামালের বাড়িতে মতবিনিময় সভা : সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থীর বিজয় সুনিশ্চিত করতে গতকাল বিকেলে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের (লোটাস কামাল) বাড়িতে কেন্দ্রীয় নেতাদের উপস্থিতিতে স্থানীয় আওয়ামী লীগ দলীয় কাউন্সিলর প্রার্থী ও নেতাদের এক মতবিনিময় সভা হয়। জেলার সদর দক্ষিণ উপজেলার লালমাইসংলগ্ন দ্যুতিয়াপুর গ্রামে পরিকল্পনামন্ত্রীর গ্রামের বাড়িতে বিকেল সাড়ে ৩টায় এ সভা হয়।


মন্তব্য