kalerkantho


জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতা চায় অসহায় প্রশাসন

নিয়ামুল কবীর সজল, ময়মনসিংহ   

১৮ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতা চায় অসহায় প্রশাসন

ময়মনসিংহ শহরবাসীর নাগরিক দুর্ভোগ লাঘব করতে যেটুকু পারছে দৌড়ঝাঁপ করছে স্থানীয় প্রশাসন। বিশেষ করে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, যানজট দূরীকরণ, ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা প্রভৃতি কাজে প্রশাসন নিজেদের কাজের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টির চেষ্টা চালাচ্ছে। তারা কোথাও সফল হচ্ছে, কোথাও ব্যর্থ হচ্ছে। নাগরিক দুর্ভোগ লাঘব পুরোপুরি সফল করতে জনপ্রতিনিধিদের জোরালো সমর্থন ও সহযোগিতা দরকার বলে মনে করে স্থানীয় প্রশাসন।

প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, শহরে একসময় দৃষ্টিকটু ও বিশৃঙ্খল অবস্থার সৃষ্টি হয়েছিল ব্যানার, ফেস্টুনে। রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী থেকে শুরু করে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানও এই বিশৃঙ্খল অবস্থার সৃষ্টি করেছিল। পৌরসভা ও পুলিশ প্রশাসনকে সঙ্গে নিয়ে জেলা প্রশাসন এ অবস্থার কিছুটা হলেও নিরসন করতে পেরেছে। কিন্তু এখনো পুরিপুরি পরিচ্ছন্ন শহর করা সম্ভব হয়নি।

ময়মনসিংহ শহরবাসীর একমাত্র বিনোদনকেন্দ্র ব্রহ্মপুত্র নদের তীরের জয়নুল আবেদিন পার্ক। একসময় এটি অবৈধ দোকানপাট, হকার, চটপটি ফুচকার দোকান ও অস্থায়ী বাজারে দখল হয়ে ছিল। তবে বর্তমানে এটি দৃষ্টিনন্দন করে তোলা হয়েছে।

পরিবেশবাদী সংগঠন ‘প্রেরণা’র সভাপতি ফরহাদ হাসান খান এ জন্য বর্তমান জেলা প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

এ ছাড়া শহর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য জেলা প্রশাসনের নির্দেশে প্রতিটি ওয়ার্ডে গঠিত হচ্ছে মনিটরিং দল। এনজিও ও স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠানগুলোকেও সম্পৃক্ত করে এ লক্ষ্যে কাজ করছে জেলা প্রশাসন। ময়মনসিংহ এডাবের সভাপতি খন্দকার ফারুক আহম্মেদ বলেন, শহরের প্রায় ৭২টি এনজিওর তালিকা তিনি প্রশাসনের কাছে দিয়েছেন। এ সংগঠনগুলো প্রশাসনের পাশে থেকে সামাজিক কাজে অংশ নেবে।

কিন্তু যানজট নিয়ে পেরে উঠছে না স্থানীয় প্রশাসন। বিশেষ করে শহরের অপ্রশস্ত রাস্তাঘাট ও আধুনিক গণপরিবহনের অভাবের কারণে যানজট নিরসনে তেমন কোনো পদক্ষেপই নিতে পারছে না প্রশাসন।

সড়কগুলোর দুই পাশ দখল নিয়েও উদ্বিগ্ন প্রশাসন। দেখা গেছে, পাটগুদাম ব্রিজের মোড় এবং চরপাড়া মোড় থেকে মাসকান্দা পর্যন্ত সড়কের দুই পাশ এখন পুরোপুরি বেদখল হয়ে গেছে। এতে যান চলাচল ও পথচারীদের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। প্রভাবশালীদের কারণে এ ক্ষেত্রে পুরোপুরি ব্যর্থ প্রশাসন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, নাগরিক সমস্যা দূর করতে অনেক ক্ষেত্রে প্রশাসনের উদ্যোগ থাকলেও স্থানীয় রাজনীতিক, জনপ্রতিনিধি ও নাগরিকদের সমর্থন পাচ্ছে না তারা। প্রশাসনের উদ্যোগগুলোকে টেকসই করতে স্থানীয়ভাবে সংশ্লিষ্টদের আরো সমর্থন প্রয়োজন বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

ময়মনসিংহ ব্যবসায়ী ঐক্য পরিষদের সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মোসলেহ উদ্দিন বলেন, ‘আমরা নাগরিক অধিকারগুলো ভোগ করতে চাই। প্রশাসন নাগরিক অধিকার রক্ষায় এগিয়ে আসলে আমরাও তাদের সহায়তা করব। ’

জেলা নাগরিক আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আমীন কালাম বলেন, প্রশাসন বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। তাঁরা নাগরিক হিসেবে এসব উদ্যোগে সর্বতোভাবে সমর্থন দিচ্ছেন।

ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসক মো. খলিলুর রহমান বলেন, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং যানজট নিরসনকেই তাঁরা সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। সবার সহযোগিতা পেলে এ সমস্যাগুলোর সমাধান সম্ভব বলে তিনি মনে করেন।

এ ব্যাপারে পৌর মেয়র ইকরামুল হক টিটু বলেন, নানা কারণে জনপ্রতিনিধিরা অনেক সময় কঠোর হতে পারেন না। কিন্তু প্রশাসন যদি কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করে তখন স্বাভাবিকভাবে কেউ বিরোধিতা করতে পারে না। তাই প্রশাসনিক উদ্যোগগুলোকে তাঁরা সমর্থন দিচ্ছেন।


মন্তব্য