kalerkantho


বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়

ভুলে ভরা চত্বরে বঙ্গবন্ধুকে শ্রদ্ধা

আবুল বাশার মিরাজ, বাকৃবি   

১৮ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



ভুলে ভরা চত্বরে বঙ্গবন্ধুকে শ্রদ্ধা

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৯৮তম জন্মদিনে গতকাল শুক্রবার সকালে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) বঙ্গবন্ধু স্মৃতি চত্বরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে। উপাচার্য ও বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা কয়েক বছর ধরে এ কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন। কিন্তু এ চত্বরে ভাষাগত ভুলের ব্যবহার কারো নজরে আসেনি।

বাকৃবি সূত্রে জানা গেছে, কৃষিতে উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে স্বাধীনতা পরবর্তী সরকারের প্রধান দায়িত্ব ছিল খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করা। তাই কৃষির গুরুত্ব অনুধাবন করে কৃষিবিদদের প্রথম শ্রেণির পদমর্যাদায় উন্নীত করেন শেখ মুজিবুর রহমান। কৃষি শিক্ষা ও কৃষিবিদদের যথাযথ মূল্যায়নের ঐতিহাসিক ঘোষণাটি তিনি ১৯৭৩ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সভায় দিয়েছিলেন। ফলে মেধাবী শিক্ষার্থীরা কৃষি শিক্ষা গ্রহণের মাধ্যমে কৃষি উন্নয়ন তথা খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনসহ দেশের অর্থনীতিতে যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করতে সক্ষম হয়। ঐতিহাসিক ঘটনাকে স্মরণ করে রাখতে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্মাণ করা হয় ‘বঙ্গবন্ধু স্মৃতি চত্বর’।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, স্থায়ীভাবে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল না থাকায় বিভিন্ন দিবসে তার প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানানোর জন্য ২০১২ সালের ১ আগস্ট ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. রফিকুল হক। ২০১৩ সালের ৩ জানুয়ারি এর উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ‘বঙ্গবন্ধু স্মৃতি চত্বরে’ অন্নদাশঙ্কর রায় রচিত কবিতাটি গরমিল ও বেশ কিছু বানানে ভুল করা হয়েছে।

কবি লিখেছিলেন, ‘যতকাল রবে পদ্মা যমুনা গৌরী মেঘনা বহমান ততকাল রবে কীর্তি তোমার শেখ মুজিবুর রহমান।

দিকে দিকে আজ অশ্রুমালা রক্তগঙ্গা বহমান তবু নাই ভয় হবে হবে জয়, জয় মুজিবুর রহমান। ’

কিন্তু এখানে লেখা হয়েছে, ‘যতদিন রবে পদ্মা, মেঘনা,/ গৌরী, যমুনা বহমান/ ততদিন রবে কীর্তি তোমার/ শেখ মুজিবুর রহমান। ’ এ লেখায় কয়েক জায়গায় গরমিল রয়েছে। কবিতাটিতে ‘যতকালের’ জায়গায় ‘যতদিন’, ততকালের জায়গায় ‘ততদিন’ লেখা হয়েছে। কবিতায় ‘যমুনা’র জায়গায় ‘মেঘনা’ আর ‘মেঘনা’র জায়গায় ‘যমুনা’ লেখা হয়েছে। কবিতায় দুই লাইনকে চার লাইন বানানো হয়েছে। সে সঙ্গে ওই কবিতার প্রথম দুই লাইনে, কমার ব্যবহার না থাকলেও কমা ব্যবহার করা হয়েছে। আবার কবিতাটি যে বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধু কবি অন্নদাশঙ্কর রায় রচিত, সেটিরও উল্লেখ নেই।

এ ছাড়া এখানে ‘জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক কৃষিবিদদের প্রথম শ্রেণীর পদপর্যাদা ঘোষণার ঐতিহাসিক স্থান’ লাইনটিতে বাংলা একাডেমি বানানের নিয়ম অনুসরণ না করে ‘শ্রেণি’ বানান ‘শ্রেণী’ লেখা হয়েছে। ‘কৃষিবিদ ক্লাশ ওয়ান’ বানানেও রয়েছে ভুল। ‘ক্লাস’ বানানটি লেখা হয়েছে ‘ক্লাশ’।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মো. আলী আকবর বলেন, ‘বিষয়টি আমাদের নজরে আসেনি। তবে এখন আমরা যাচাই-বাছাই করে দেখব। ’


মন্তব্য