kalerkantho


আদালতকে উপেক্ষা করে গ্রাম আদালতের রায় কার্যকর

নলডাঙ্গায় অবরুদ্ধ একটি পরিবার

নাটোর প্রতিনিধি   

১৮ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার মাধনগর ইউনিয়নে একটি বাড়ির জমি নিয়ে মামলা সহকারী জজ আদালতে বিচারাধীন। এই অবস্থায় গত ৪ মার্চ গ্রাম আদালত বসিয়ে জমিটির নতুন দাবিদার আজাহার আলীর পক্ষে একতরফা রায় দিয়েছেন ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন দেওয়ান। ওই দিনই আজাহার আলী চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে মামলার বাদী নুরুল ইসলাম সরদারের বাড়ির আঙিনা ও বারান্দা ঘেঁষে বাঁশ-টিনের বেড়া তুলে দিয়েছেন। তখন থেকে নুরুল ইসলামসহ পরিবারের লোকজন একরকম অবরুদ্ধ অবস্থায় আছে। এ ঘটনায় তিনি নলডাঙ্গা থানায় এজাহার দিলেও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি পুলিশ। ঘটনাটি ঘটেছে মাধনগর পূর্বপাড়া গ্রামে।

আইনজীবীরা জানান, আদালতে মামলা বিচারাধীন অবস্থায় সংশ্লিষ্ট বিষয়ের নিষ্পত্তির এখতিয়ার গ্রাম আদালতের নেই।

এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, মাধনগর পূর্বপাড়া গ্রামের আরএস ১৮৭৬ খতিয়ান ও আরএস ১২৭৮ দাগে সাহেদা বিবি, আলেকজান নেছা, মলেজান নেছা, আদল প্রামাণিক ও গোলজান বেওয়ার এজমালি জমি ছিল। গ্রামের নুরুল ইসলাম সরদার ১৯৮৯ সালে ১৩ নভেম্বর ওই জমির ৫ শতাংশ আলেকজান নেছার কাছ থেকে, ২ শতাংশ সাহেদা বিবির কাছ থেকে ও দেড় শতাংশ গোলজান বেওয়ার ওয়ারিশ সদা মৃধার কাছ থেকে কেনেন। পরে নুরুল ইসলাম ওই সাড়ে ৮ শতাংশ জমিতে ঘরবাড়ি তুলে বাস করছেন। কিন্তু মৃত আদল প্রামাণিকের ছেলে আজাহার আলী নুরুল ইসলামের কেনা জমিটির একটি অংশ তাঁর দাবি করে জবরদখলের হুমকি দেন।

এ নিয়ে নুরুল ইসলাম ২০১৪ সালে নাটোর সহকারী জজ আদালতে আদল প্রামাণিককে (তখন জীবিত) বিবাদী করে একটি মামলা করেন। বাটোয়ারা মামলাটি আদালতে বিচারাধীন এবং আগামী ২৭ এপ্রিল মামলার শুনানির দিন ধার্য রয়েছে।

এদিকে জমিটির ব্যাপারে গত বছরের ২০ অক্টোবর আজাহার আলী মাধনগর ইউপির চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন দেওয়ানের কাছে বিচার চেয়ে লিখিত আবেদন করেন। আদালতে মামলা বিচারাধীন জেনেও চেয়ারম্যান ও মাধনগর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আমজাদ হোসেন দেওয়ান তাঁর পরিষদে গত ৪ মার্চ গ্রাম আদালত বসিয়ে নুরুল ইসলামের পরিবারের অনুপস্থিতিতে আজাহার আলীর পক্ষে একতরফা রায় দেন। ওই দিনই আজাহার আলী চেয়ারম্যান ও ইউপির চৌকিদারকে নিয়ে নুরুল ইসলামের পরিবারের অনুপস্থিতিতে তাঁর বাড়ির বারান্দা ঘেঁষে বাঁশ-টিনের বেড়া দিয়ে জমিটি দখলে নেন।

এভাবে বাড়ির আঙিনা ও রান্নাঘর দখলে নেওয়ায় একরকম অবরুদ্ধ জীবন যাপন করছে পরিবারটির লোকজন।

জমিটি দখলে নেওয়ার দিন নুরুল ইসলামের পরিবার এক আত্মীয়র বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিল বলে জানান এলাকাবাসী সাজ্জাদ হোসেন।

আজাহার আলী বলেন, তিনি কোনো জমি দখল করেননি। তাঁর জমিই তিনি বুঝে নিয়েছেন ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে।

অভিযোগকারী নুরুল ইসলামের আইনজীবী মৃণাল কান্তি বিশ্বাস বলেন, জমির বাটোয়ারা মামলা আদালতে বিচারাধীন। সে কারণে ইউপির গ্রাম আদালতের রায় নিয়ে তা কার্যকর করা আদালত অবমাননার শামিল।

চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন দেওয়ান নুরুল ইসলামের পরিবারকে অবরুদ্ধ করে দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, নুরুল ইসলাম বারবার আদালতে হেরে গিয়ে আপিল করে প্রতিপক্ষকে হয়রানি করেন। এ ব্যাপারে আজাহার আলী গ্রাম আদালতে অভিযোগ দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে গ্রাম আদালতের মাধ্যমে তাঁদের সীমানা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।

নলডাঙ্গা থানার ওসি (তদন্ত) নেয়ামুল আলম জানান, নুরুল ইসলাম থানায় এজাহার দিয়েছেন। এজাহারটির তদন্ত শুরু করা হচ্ছে। আদালতে মামলা বিচারাধীন অবস্থায় ইউপি চেয়ারম্যান গ্রাম আদালতে ওই বিষয়ে রায় দিয়ে থাকলে সেটা আদালত অবমাননা হয়েছে বলে মনে করেন ওসি।


মন্তব্য