kalerkantho


ভোলায় সাংবাদিকদের ওপর হামলা

বছর পার, গ্রেপ্তার হয়নি পরোয়ানাভুক্ত ৮ আসামি

ভোলা প্রতিনিধি   

১৮ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



ভোলার লালমোহনে সাংবাদিকদের ওপর হামলা, ক্যামেরা ছিনতাই ও ভাঙচুর ঘটনার এক বছরেও পুলিশ গ্রেপ্তার করতে পারেনি ওয়ারেন্টভুক্ত আট আসামিকে। আসামিরা লালমোহনের চিহ্নিত ‘মৌমাছি বাহিনী’র সদস্য।

অভিযোগ রয়েছে, আসামিরা একসময় বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় থাকলেও বর্তমানে ক্ষমতাসীন দলের একাংশের ছত্রচ্ছায়ায় প্রকাশ্যে নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড করছে। কিন্তু পুলিশ তাদের ধরছে না। থানার ওসির কক্ষেও তাদের আড্ডা দিতে দেখা গেছে।

আসামিরা আওয়ামী লীগের নাম ভাঙিয়ে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড করায় ক্ষুব্ধ ও বিব্রত দলটির স্থানীয় ত্যাগী নেতারা। তারা গ্রেপ্তার না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন ভোলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি এম হাবিবুর রহমান, সাবেক সভাপতি প্রবীণ সাংবাদিক এম আবু তাহের, সাংবাদিক মুহাম্মদ শওকাত হোসেন, অমিতাভ অপু, আহাদ চৌধুরী তুহীন, সাহাদাত হোসেন শাহীন, হাসিব রহমান, নেয়ামত উল্লাহ, নাসির লিটন, শিমুল চৌধুরী, আফজাল হোসেন, আদিল হোসেন তপু, অচিন্ত্য মজুমদার, হেলাল উদ্দিন সুমন, মো. আলমগীর হোসেন, শিপু ফরাজি, শ ম ফারুক, নীল রতন দে প্রমুখ। সাংবাদিক ও সুধীসমাজের প্রতিনিধিরা আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।

গত বছরের ১৭ মার্চ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক জেলার সেরা বিদ্যালয় লালমোহান হামিম একাডেমির একটি অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার পর ভোলায় ফেরার পথে দেখতে পান, লালমোহন সদর রোডে উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি মোখলেস মিয়ার মালিকানাধীন মিয়া প্লাজায় হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও তালা ঝুলিয়ে দিচ্ছে ‘মৌমাছি বাহিনী’র সদস্যরা। এ দৃশ্য ক্যামেরায় ধারণ করতে গেলে তেল ব্যবসায়ী শাজাহান চেয়ারম্যান, তাঁর ছেলে রাকিব হাসান, মৌমাছি বাহিনীর প্রধান পৌর যুবলীগের সভাপতি ফরাদ হোসেন মেহের, কামাল কসাই, মোতাহেরের ছেলে জামাল উদ্দিন বিল্লাল, আমিনুল ইসলাম, শাজাহান কুদ্দুসের ছেলে জোবায়ের, হেমায়েত মাওলানার ছেলে ফরিদসহ অর্ধশতাধিক সন্ত্রাসী তেড়ে এসে সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালায়। তারা আরটিভি ও বিটিভির ক্যামেরাম্যান ইউসুফকে মাটিতে ফেলে বেধড়ক মারধর করে।

ছিনিয়ে নেয় তাঁর ক্যামেরা। পরে আহত সাংবাদিকদের লালমোহন হাসপাতালে ভর্তি করা হলে হাসপাতাল এলাকা দেড় ঘণ্টা ঘিরে রেখে ফের হামলা করে অভিযুক্তরা। এ সময় ঘটনাস্থলে লালমোহন থানার ওসিসহ পুলিশ উপস্থিত থাকলেও ভয়ে মৌমাছি বাহিনীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারেনি।

এ ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে লালমোহন থানায় মামলা করা হলেও পুলিশ চিহ্নিত সাতজনকে বাদ দিয়ে অভিযোগপত্র দেয় আদালতে। পরে আদালত আরো একজনের নাম অভিযোগপত্রে যোগ করে আট আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।

লালমোহন থানার ওসি মো. হুমায়ুন কবির গতকাল শুক্রবার বিকেলে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ওই ঘটনায় পুলিশ আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দিয়েছে। এরপর সাধারণত পুলিশের আর কোনো দায়িত্ব থাকে না। আদালতের ওয়ারেন্টের কাগজপত্র থানায় আসেনি। ’


মন্তব্য