kalerkantho


নীলফামারীতে সড়ক সংস্কারে ধীরগতি

নীলফামারী প্রতিনিধি   

১৮ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



নীলফামারীতে সড়ক সংস্কারে ধীরগতি

নীলফামারীর ডিমলা-ভাদুরদর্গা সড়ক সংস্কার কাজের ধীরগতিতে বাড়ছে জনদুর্ভোগ। শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষ ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। ছবিটি গতকাল তোলা। ছবি : কালের কণ্ঠ

নীলফামারীর ডিমলায় পাঁচ কিলোমিটার সড়ক সংস্কারে সময় লেগেছে ১৫ মাস। ওই সড়কের আরো ১০ কিলোমিটার অংশের কাজ এখনো বাকি রয়েছে। এদিকে নির্ধারিত সময়ে কাজ না করে কৌশলে সময় বাড়ানোর পাশাপাশি প্রায় কোটি টাকা বরাদ্দও বাড়িয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, টুনিরহাট থেকে ডিমলা সদর সড়কের প্রস্থ ১২ ফুট এবং ডিমলা সদর থেকে ভাদুরদর্গা পর্যন্ত ১৮ ফুট। সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) অধীনে এ সড়ক সংস্কারের কার্যাদেশ দেওয়া হয় ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে। ২০১৬ সালের জুনে কার্যাদেশের মেয়াদ শেষ হয়। কিন্তু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি কাজে অনীহা দেখালে আরেক দফায় ২০১৭ সালের জুন পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ানো হয়। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, এ সুযোগে ঠিকাদার কৌশলে ৮২ লাখ টাকা বরাদ্দ বাড়িয়ে নিয়েছেন।

উপজেলার নাউতরা বালিকা স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ গোলাম হাবিব চৌধুরী বলেন, ‘সড়কটির কাজ শেষ হওয়ার কোনো লক্ষণ দেখছি না। ডিমলা থেকে জেলা শহরসহ যেখানেই যেতে চাই, এ সড়কটিই ব্যবহার করতে হয়। সড়কটি খানাখন্দে ভরা থাকায় চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে এলাকার মানুষ।

পাশাপাশি বাইরে থেকে যারা যানবাহন নিয়ে আসছে তারাও বিপাকে পড়ছে। ’

কুষ্টিয়া থেকে আসা ট্রাকচালক জাকির হোসেন বলেন, এ সড়কে মালপত্র পরিবহন করতে গিয়ে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। এমন সড়কে চলাচল করলে গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

উপজেলা সদরের মাইক্রোবাসচালক মিজানুর রহমান বলেন, ‘সড়কটিতে চলাচলে গাড়ির ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। এ কারণে বিকল্প সড়ক ব্যবহার করতে হচ্ছে। ঘোরাপথে খরচের পাশাপাশি সময়ও বেশি লাগে। সড়কটি দ্রুত মেরামত কাজ শেষ হলে মানুষের ভোগান্তি কমবে।

এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের টুনিরহাট এলাকায় অবস্থানরত সাইড ম্যানেজার মাহমুদ আলী বলেন, ‘আমরা ১২ ফুট প্রস্থের পাঁচ কিলোমিটার সড়কের কাজ শেষ করেছি। বাকি ১৮ ফুট প্রস্থের ১০ কিলোমিটার সড়কের কাজ শুরু হয়েছে। কাজ শুরুর পর সড়কটিতে গর্তের পরিমাণ বাড়ায় ওই টাকায় কাজটি সম্পাদন করা যাচ্ছিল না। বরাদ্দ বাড়াতে সময় লাগায় কাজ শেষ করতে দেরি হচ্ছে। ’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নীলফামারী সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী এ কে এম হামিদুর রহমান বলেন, সাত কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে কাজটি সম্পাদনে ২০১৫ সালের ১০ ডিসেম্বর রংপুরের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স মাসুমা বেগমকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। ২০১৬ সালের জুনে কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু কাজের পরিধি বেড়ে যাওয়ায় সেখানে বরাদ্দ বাড়াতে সময় লেগেছে। বর্তমানে আট কোটি ৩২ লাখ টাকা ব্যয়ে কাজ সম্পাদনের জন্য চলতি বছরের জুন পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে কাজটি অবশ্যই শেষ হবে।

নীলফামারী-১ (ডোমার-ডিমলা) আসনের সংসদ সদস্য আফতাব উদ্দিন সরকার সড়কটির সংস্কার কাজের ধীরগতির কথা স্বীকার করে বলেন, ‘সড়কটি সংস্কারের ব্যাপারে আমি সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার এবং সওজের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখেছি। ঠিকাদার কাজ নেওয়ার পর টালবাহানা শুরু করে। পরে মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করে বরাদ্দ বাড়িয়েছি। এ জন্য আমি সওজের প্রধান প্রকৌশলীর সঙ্গেও একাধিকবার কথা বলেছি। কিন্তু অবস্থার কোনো উন্নতি দেখছি না। ’


মন্তব্য